রামপাল চলছে,চলবে : প্রকল্পে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ

Print Friendly

বাগেরহাটের রামপালে সুন্দরবন এলাকায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ।

এর আগে গত ২ অক্টোবর বুধবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি চলাকালে বিব্রতবোধ করেন কনিষ্ঠ বিচারপতি জাফর আহমদ।

চার আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ গত মঙ্গল ও বুধবার ওই বেঞ্চে শুনানিতে অংশ নেন।  রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিচারপতি বিব্রতবোধ করায় রোববার এম মোয়াজ্জাম হোসেন ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের বেঞ্চে রিট আবেদনটি তোলা হয়।

রিটের যৌক্তিকতা না থাকায় আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

তবে রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বাংলানিউজকে বলেন, এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, মো. এখলাস উদ্দিন ভূঁইয়া, মাহবুবুল ইসলাম ও সৈয়দা শাহিন আরা লাইলী।

আবেদনে রামপালের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়নে দেশি-বিদেশি পরিবেশবিদ এবং জীব-বৈচিত্র্য ও ইকো-সিস্টেম বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনে কেন বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।

রিটে বিশেষজ্ঞ কমিটির কাছ থেকে প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ওই বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ কমিটির সুপারিশ অনুসারে, পরিবেশবান্ধব যেকোনো এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে কেন বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হবে না, এ মর্মেও রুল জারির আবেদন জানানো হয়।

রিট আবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পরিকল্পনা সচিব, পরিবেশ সচিব, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সচিব, নৌপরিবহন সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে বিবাদী করা হয়।

তবে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি রিট হয়েছে। এরপর পেরিয়ে গেছে আড়াই বছর। এখনও অন্য রিটগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট।

 

Comments