হাতিটিকে মেরে ফেললাম!

  • হাতিটিকে মেরে ফেললাম!
  • হাতিটিকে মেরে ফেললাম!
  • হাতিটিকে মেরে ফেললাম!
Print Friendly, PDF & Email

 ঢাকা, ২৬ এপ্রিল: হাজার মানুষের সামনেই বৃহস্পতিবার ,২৪ এপ্রিল সকালেএকটি হাতিকে হত্যা করা হয়েছে নেত্রকোনায়।মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় বেয়ে নেমে এসেছিল ভারতীয় হাতিটি। পরে নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর চর দিয়ে সাধুপাড়ার লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তাকে আটকাতে ডাক পড়ে পুলিশ বিজিবি’র।

১৬টি গুলির আঘাতে তাকে হত্যা করা হয়েছে। জানা মতে এই হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দিয়েছে চেয়ারম্যান, থানা নির্বাহী, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সাংসদ। পরিবেশবিদের ভিতরে গভীর ক্ষতের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। পৃথিবীর অন্যন্য দেশে এ ধরণের ঘটনায় অরোধ্য বণ্যপ্রানীর হুমকি থেকে বাচঁতে বিশেষায়িত এক গুলি ব্যবহার করা হয়,যেটা ট্রাঙ্কুলাইজেশন নামে পরিচিত। এতে,জ্ঞান হারিয়ে অচেতন হয়ে যেত হাতিটি। পরে তাকে বাচাঁনো যেত বিশেষ কায়দায়।প্রশ্ন উঠেছে হাতির বিচরণক্ষেত্র শেরপুর,নেত্রকোনা এলাকায় বন বিভাগ বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এই ট্রাঙ্কুলাইজেশন পদ্ধতি প্রয়োগের রশদ রয়েছে কিনা তা নিয়ে।

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর নবম অধ্যায়ের ৩৬ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কেউ বাঘ বা হাতি হত্যা করলে সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। পুনরায় করিলে ১২ বছর কারাদণ্ড ও ১৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

 Elephant-1বন্যহাতি বা যেকোন বন্যপ্রাণী হত্যা কখনো মানুষের বীরত্ব নয় বরং লজ্জাজনক!!হাতির আক্রমণে ২ জন মানুষ মরেছে এটা দেখেছেন গনমাধ্যমে, কিন্তু  দেখায়নি কিভাবে মানুষ কি করে দিনের পর দিন হাতীর সব আবাস ও খাদ্য ছিনিয়ে নিয়েছে ও নিচ্ছে। যেই দুর্গাপুরে এই ঘটনা সেই জায়গায় আমি নিজে অনেকদিন সার্ভে ও গবেষণার কাজ করে এসেছি হাতী মানুষের সংঘাত নিয়ে। হাতির সকল জায়গা, সকল বাসস্থান, সকল খাদ্য আজ মানুষের দখলে। বন সব সাফ, হাতিদের কোন জায়গাই নেই। তাদের বেঁচে থাকার কোন সুযোগই নেই।

বাংলাদেশের মধুপুর গড় থেকে শুরু করে বৃহত্তর ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালী এলাকায় একসময় হাতির অবাধ বিচরণ ছিল। বাসস্থান ধ্বংস, বন উজাড়, জনসংখ্যার চাপ, সংরক্ষণের অভাব, খাদ্যের অভাব ও চলাচলের পথে বাধার কারণে আমাদের দেশে হাতির অবস্থা সঙ্গিন।

যতদুর জানা যায়, মেঘালয়ের বিস্তৃর্ন এলাকা জুড়ে বনভুমি উজাড় করা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় ও হয়েছে অনেক ক্ষেত্রে। সেসব এলাকায় খাবার না পেয়ে মাঝে মাঝেই সীমান্ত অতিক্রম করে হাতিগুলো চলে আসে বাংলাদেশের সমতল ভুমিতে,খাদ্যের আশায়। আর অসচেতন গ্রাম্যমানুষের ভীতি আর রোষানলে পড়ে এ পর্যন্ত কত বণ্য হাতি যে প্রাণ হারিয়েছে,তার সঠিক পরিসংখ্যান পা্ওয়া দুষ্কর।

হাতি আজ আমাদের দেশের একটি বিপন্ন প্রাণী। বর্তমানে হাতি শুধু চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনে অল্প কিছু টিকে আছে। আইইউসিএন বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, আমাদের দেশে বন্য অবস্থায় হাতির সংখ্যা মাত্র ২৫০টি। এ ছাড়া কিছু হাতি পাশের দেশ ভারতের আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করে

পৃথিবী কি শুধু মানুষের? আর সকল প্রাণীকে মেরে ফেলতে হবে?? বন্যপ্রাণী মানুষের লোকালয়ে আসলে বা আক্রমণ করলে তাকে চেতনা নাশক বন্ধুক দিয়ে অচেতন করে নিরাপদে আবার বনে ফিরিয়ে দিতে হবে। বেশী সমস্যা করলে রেসকিউ সেন্টারে পাঠাতে হবে। বন্যপ্রাণী হত্যা কখনো সমর্থনযোগ্য নয়, এটা কোন সমাধান নয়।

সত্যি বলতে আমাদের বন বিভাগের সেই সামর্থ্য ও দক্ষতাই নেই কি করে একটি বন্য হাতিকে তাৎক্ষণিক অচেতন করে নিরাপদে বনে ফিরিয়ে দেয়া যায়। সেই প্রশিক্ষিত কর্মী, যন্ত্রপাতি, ঔষধ কিছুই নেই। তারা এসব নিয়ে ভাবেও না। তারা আছে অন্য ধান্ধায়!!!

বাংলাদেশে মাত্র কয়েক দশক পুর্বে কয়েক হাজার বন্য হাতি থাকলেও বর্তমানে মাত্র শতকে এসে দাঁড়িয়েছে। এভাবে দখল ও হত্যা চলতে থাকলে বাংলাদেশে যে বন্যহাতি আছে এই কথাটা ইতিহাস হয়ে যাবে। বাংলাদেশ চিরতরে হারাবে সবচেয়ে বড় স্থল বন্যপ্রাণীটি। এশীয় হাতির বিস্তৃতি থেকে কেটে দিতে হবে বাংলাদেশের নাম।

মাইনউদ্দীন, হোসেন সোহেল, সাহেদ আলম

 সংবাদ ওপরিবেশকর্মী

Comments