জাবিতে বর্ণিল প্রজাপতি মেলায় মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

Print Friendly, PDF & Email

তারিকুল হাসান আশিকঃ উড়লে আকাশে প্রজাপতিপ্রকৃতি পায় নতুন গতি এই স্লোগানকে ধারণ করে অষ্টমবারের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রজাপতি মেলা ২০১৭। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণিল এই মেলা ভিন্নধর্মী এ আয়োজনে যোগ দিতে পেরে খুশী দর্শণার্থীরা। প্রজাপতি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়াতেই এই আয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা 

শনিবার (০৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে দশটায় মেলার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রজাপতির সঙ্গে প্রকৃতির কি সম্পর্ক, পরাগায়নে প্রজাপতি কি সাহায্য করে তা আমরা এ প্রজাপতি মেলার মাধ্যমে জানতে পারছি। প্রজাপতি প্রকৃতির কোনো উপকার করে কিনা, তা না জেনেই আমরা প্রজাপতির পেছনে ছুটি, ভালো লাগার কারণে। এ মেলার কারণে প্রজাপতি ও প্রজাপতির উপকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

এ সময় তিনি প্রজাপতি মেলার আয়োজক ও প্রজাপতিপ্রেমীদের ধন্যবাদ জানান।

২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিত প্রজাপতি মেলার আয়োজন করছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মনোয়ার হোসেন তুহিন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৩০৪ প্রজাতির প্রজাপতি আমরা সংরক্ষণ করতে পেরেছি; যার মধ্যে এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ১১৪টি প্রজাতি। কিন্তু বর্তমানে গাছপালা ও বন কমে যাওয়ায় প্রজাপতির বংশ বিস্তার ব্যাহত হচ্ছে। প্রজাপতির বংশ বিস্তার বৃদ্ধিতে এবং প্রায় হারিয়ে যাওয়া প্রজাপতি সংরক্ষণ ও সেগুলোর বংশ বৃদ্ধিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত প্রজাপতি পার্কটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক  শেখ মো. মনজুরুল হক, আইইউসিএন’র (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

মেলায় ‘ইয়াং বাটারফ্লাই এনথ্যুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যায়ের লোক প্রশাসনের শিক্ষার্থী আফলাতুন কায়সারকে।

এছাড়া প্রজাপতির চোখ এবং কালার ভিশনের গবেষণায় সার্বিক অবদানের জন্য জাপানের গ্রাজুয়েট ইউনিভার্সিটি ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের অধ্যাপক কেনটারো আরিকাওয়াকে ‘বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০১৭’ দেওয়া হয়।

এবারের মেলায় দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে রয়েছে- র‌্যালি, প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা (শিশু-কিশোরদের জন্য), প্রজাপতির আলোকচিত্র প্রদর্শনী, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা, হাট দর্শন (জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন), অরিগামি প্রজাপতি, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড্ডয়ন, বারোয়ারী বিতর্ক (প্রজাপতি ও জলবায়ু পরিবর্তন), প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

Comments