সুন্দরবনে সর্বোচ্চ সতর্কতা

খুলনা: একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বনাঞ্চলে সব ধরনের পাস পারমিট বন্ধসহ সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বন বিভাগ। গত এক মাসের ব্যবধানে চার বার সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও নয়টি কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার খুলনা সার্কেল বন সংরক্ষকের কার্যালয় থেকে এ নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়।

খুলনা সার্কেল বন সংরক্ষকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ধানসাগর স্টেশনের আওতায় চাঁদপাই রেঞ্জে পুনরায় অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত চাঁদপাই রেঞ্জের বনাঞ্চলে সব ধরনের পাস পারমিট স্থগিত, বার বার আগুন লাগায় কর্তব্যে অবহেলার জন্য দায়ী বন কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, অন্যান্য ক্যাম্প ও স্টেশন থেকে বন বিভাগের জনবল এনে টহল জোরদারের মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ প্রতিরোধ করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বাঁশ ও নাইলন রশি দিয়ে লোকালয়ে বেড়া দেয়ার জন্য তিন দিনের মধ্যে ডিজাইন ও প্রাক্কলন দাখিল করা, ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে একটি টিম সার্বক্ষণিক স্টেশনে রাখার জন্য পরামর্শ, স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সভা করে অগ্নিকাণ্ড বন্ধে কার্যক্রম গ্রহণ করা এবং সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ (সিপিজি) দিয়ে টহল চলমান রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, সুন্দরবনের ধানসাগর এলাকায় সর্বপ্রথম আগুন লাগে গত ২৭ মার্চ। প্রথমে মনে হয়েছিল স্থানীয় জেলে বা বাওয়ালরা আগুন লাগিয়েছে। কিন্তু ১৩ এপ্রিল দ্বিতীয় বার আগুনটি লাগলে তারা বুঝতে পারি দুর্বৃত্তরা মাছ ধরার জন্য অনাধিকার প্রবেশ করেছে এবং তারাই এ আগুন লাগিয়েছে। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর ওই চক্র তৃতীয় ও বুধবার চতুর্থ বারের মতো আগুন লাগিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।  একইসঙ্গে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বনাঞ্চলে সব ধরনের পাস পারমিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। যারা এমন নাশকতা করছে তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে। ক্যাম্প ও স্টেশন থেকে বন বিভাগের জনবল একত্রিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তাদের একটি টিম সার্বক্ষণিক ধাঁনসাগর এলাকায় থাকে। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগ একত্রে অপারেশন চালাচ্ছে।

এছাড়া প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণকে নিয়ে এই অপতৎপরতা বন্ধ করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদ।

scroll to top