সেন্টমার্টিন সৈকত পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে কোকা-কোলা

Print Friendly, PDF & Email

সেন্টমার্টিন, ১৭ অক্টোবরঃ আন্তর্জাতিক অংশীদারীত্বের অংশ হিসেবে কোকা-কোলা কোম্পানি ও ওশান কনজারভেন্সি সমুদ্র ও জলপথ পরিচ্ছন্ন রাখতে একযোগে কাজ করছে কারণ, এই সমুদ্র ও জলপথ আবর্জনার কারণে ভয়াবহ দূষণের স্বীকার হচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক অংশীদারীত্বের আওতায় বিশ্বে সমুদ্র ও জলপথের টেকসই পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কিভাবে এবং কেনো সমুদ্র দূষিত হচ্ছে এবং কিভাবে এ দূষণের হার কমানো যায় সেই বিষয়েও কাজ করছে এ দুটি প্রতিষ্ঠান।

জলপথ এবং সমুদ্র সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে কোকা-কোলা বাংলাদেশ, কেওক্রাডং বাংলাদেশ ও ওশান কনজারভেন্সি ইউ এস একযোগে ২৯তম আন্তর্জাতিক উপকূলবর্তী সৈকত পরিচ্ছন্নকরণ দিবস পালনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে এই নভেম্বরে পঞ্চম বারের মতো দিনব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পালন করে।

আন্তর্জাতিক উপকূল ও সৈকত পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম বিশ্বের অনেক স্বেচ্ছাসেবীকে আকৃষ্ট করে। সমুদ্র-সৈকত, হ্রদ এবং জলপথ থেকে প্রচুর পরিমাণে আবর্জনা সংগ্রহ করে উপকূলবর্তী এলাকা ও সমুদ্র পরিচ্ছন্ন রাখতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করে এ কার্যক্রমে।

বাংলাদেশে গত চার বছর ধরে এ কার্যক্রমের আওতায় কোকা-কোলা বাংলাদেশ ও কেওক্রাডং বাংলাদেশ ২০০০ স্বেচ্ছাসেবীসহ একযোগে সেন্টমার্টিন সমুদ্র সৈকত থেকে প্রায় ৪০০০ কেজি আবর্জনা সংগ্রহ করেছে।

এ বছর কোকা-কোলা বাংলাদেশ ও কেওক্রাডং বাংলাদেশের এর লক্ষ্য ছিলো ৬০০০ পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে ব্যক্তিগতভাবে সমুদ্র পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা পৌঁছে দেয়া।

বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জনাব আব্দুর রব, জনাব আব্দুর রহমান, জনাব আব্দুল হক, জনাব হাফেজা খাতুন, জনাব হালিমা খাতুন, এবং বি.এন ইসলামিক স্কুল, জিনজিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্রিড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮৬ জন ছাত্রছাত্রী। স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে আরো ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্মপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা ১০৫ জন স্বেচ্ছাসেবী।

সমতল অথবা মানুসের বসবাসকারী জায়গা থেকে আসা আবর্জনা পানি ও সামুদ্রিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণ, তাই আবর্জনা সংগ্রহ ও সংগৃহীত আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে স্থানীয় অধিবাসী, স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তন আনাই ছিলো এ কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য।

আশা করা যায় সেন্ট মার্টিনে এ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীরা কিভাবে দূষণ কমানো যায় এই বার্তা তাদের সহকর্মীসহ পরিচিত অন্যান্য সকলের কাছে পৌঁছে দিবে যা পরবর্তীতে দূষণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সেন্টমার্টিনে আন্তর্জাতিক উপকূল ও সৈকত পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের আওতায় সংগৃহীত আবর্জনা নিয়ে টেকসই সমাধান খোঁজার প্রকল্পে কোকা-কোলা বাংলাদেশ এ বছর একটি পাইলট প্রোগ্রাম চালু করে। এরই অংশ হিসেবে এ বছর কোকা-কোলা বাংলাদেশ স্থানীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সেন্টমার্টিনে বিভিন্ন জায়গায় ১৫০টি ময়লা ফেলার ঝুড়ি স্থাপন করে।

কোকা-কোলা বাংলাদেশের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শাদাব খান বলেন, “দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে সেন্টমার্টিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় এবং বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এত পর্যটকের ভিড়ে এখানে পরিবেশগত ভারসাম্য অক্ষুন্ন রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তাইতো পর্যটক, স্থানীয় অধিবাসী ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করে তুলতে এ বছর আমরা আন্তর্জাতিক উপকূলবর্তী সৈকত পরিচ্ছন্ন দিবসে আবারো ফিরে এসেছি।”

শাদাব খান আরো বলেন, “কোকা-কোলা বাংলাদেশ, সহযোগী কেওক্রাডং বাংলাদেশের সাথে পরিচ্ছন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন এবং টেকসই পরিবেশ তৈরিতে তার বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।”

Comments