হাতি সংরক্ষণে বাংলাদেশ–ভারতের যৌথ উদ্যোগ

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১৪ আগস্ট: হাতি সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী ১৮ থেকে ২০ আগস্ট ভারতের কলকাতায় উভয় দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও হাতি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সীমান্তবর্তী হাতি সমৃদ্ধ বনাঞ্চল সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে ভবিষ্যৎ করণীয় কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে বন অধিদপ্তর এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আলোচকরা এ তথ্য তুলে ধরেন।

তারা জানান, কলকাতার এ আলোচনা সভায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমঝোতা চুক্তির রূপরেখা প্রণয়নের সম্ভাবনা আছে।

আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশে মধুপুর গড় থেকে শুরু করে গারো পাহাড়, সিলেট, চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় এসময় হাতির ব্যাপক বিচরণ ক্ষেত্র ছিল। তবে বর্তমানে চুনতি, ফাসিয়াখালি, টেকনাফ, পাবলাখালি অভায়ারণ্য, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, বাকঁখালি, রেজু, ফুলছড়ি, ঈদগড়ও মরিচ্ছা এলাকায় এদের দেখতে পাওয়া যায়।

তারা বলেন, অস্থয়ীভাবে কিছু কিছু হাতি মায়ানমার, ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় রাজ্য থেকে বাংলাদেশের জামালপুরের ঝিনাইগাতি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, নেত্রকোনার দূর্গাপুর, সিলেটের কুলাউড়া এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকায় নেমে আসে এবং মাসাধিকাল বাংলাদেশে থাকার পর আবার ফিরে যায়।

বনবিভাগের মাঠ পর্যায়ের তথ্য এবং আইইউসিএনের জরিপ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে ২০০ থেকে ২৫০টি স্থায়ী বাসিন্দা হাতি এবং বাকি ৮০ থেকে ১০০টি অস্থায়ী বা ভ্রমণকারী হাতি আছে যারা ভারতের আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরামরাজ্যও মায়ানমারের আরাকান অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করে।

তারা জানান, বর্তমানে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা পুষ্ট স্ট্রেংদেনিং রিজিওনাল কোঅপারেশন ফর ওয়াইল্ডলাইফ প্রটেকশন প্রকল্পের আওতায় আইইউসিএনের হাতি জরিপ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
আগামী ২০১৬ সালের মধ্যে প্রথম ভাগে জরিপের হালনাগাত ফলাফল পাওয়া যাবে।

আলোচনা সভায় এসময় বক্তব্য দেন, পরিবেশও বন মন্ত্রণালয় সচিব ড. কামালউদ্দিন আহমেদ, সহবন সংরক্ষক মো. আকবর হোসাইন, বন সংরক্ষক ড. তপন কুমার দে, মো. আব্দুল মোতালেব প্রমুখ।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments