কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা নিষিদ্ধ !

Print Friendly, PDF & Email

রাঙ্গামাটি, ২০ মেঃ দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদে গত সোমবার মধ্যরাত থেকে সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহন এবং বাজার জাতকরণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিমওয়ালা মাছের ডিম ছাড়ার ক্ষেত্র নিশ্চিত এবং হ্রদে অবমুক্তকৃত কার্প জাতীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গত ৫ মে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ পরিচালনা সংক্রান্ত এক সভায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মো. সামশুল আরেফিনের সভাপতিত্বে সভায় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের রাঙ্গামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মাঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, জেলা পরিষদ সদস্য সাধন মনি চাকমা, জেলা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য মনিরুজ্জামান মহসিন রানা, চেম্বার সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হারুনুর রশীদ, মো. শাহ আলম, মুজিবুর রহমান, আব্দুস শুক্কুর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ও রাঙ্গামাটি নদী উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আবুল বাশার।

সভায় আবুল বাশার বলেন, ‘হ্রদে কার্প প্রজাতি মা মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য ডিম ছাড়ার মওসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। কাপ্তাই হ্রদ কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের একটি অন্যতম স্থান।’

তিনি জানান, এই হ্রদে প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক প্রজননকৃত মাছের মধ্যে শতকরা ৩১ ভাগ কাতল, শতকরা ১২ ভাগ রুই, শতকরা ৭ ভাগ মৃগেল এবং শতকরা ৫১ ভাগ কালিবাউশের প্রজনন হয়। যা দেশের সামগ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে।

সভায় জানানো হয়, চলতি বছর মাছ ধরা মওসুমে কাপ্তাই হ্রদ থেকে আট হাজার ১৭৮ টন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ করা হয়েছে। মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন মাছের ওপর রয়েলটি বাবদ আট কোটি ৭৯ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারগুলোতে রয়েলটি ছাড়াই জেলেরা মাছ বিক্রির সূযোগ পেয়েছে।

হ্রদে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ এবং পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোস্টগার্ড মোতায়ানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় অবৈধভাবে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয় এবং অবৈধ উপায়ে মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments