ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা ৭০ ভবনে বিশেষ রং !

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১ মে: রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ৭০ হাজার ভবনে বিশেষ রঙ দিয়ে চিহ্নিত করবে সরকার। ভূমিকম্প মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছে ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও সচেতনতা জাতীয় কমিটি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উইং) কামরুল হাসান বলেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনকে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ে ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও সচেতনতা জাতীয় কমিটির সভায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করতে সব মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান যুগ্ম-সচিব।

রাজধানী ঢাকার ৭০ হাজার ভবন রাজউক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছে জানিয়ে যুগ্ম-সচিব কামরুল হাসান বলেন, আর্সেনিক যুক্ত টিউবওয়েল চিহ্নত করার মতো এসব ভবন রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।

পাশাপাশি ভবনগুলোতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন’ সংবলিত সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়ার জন্য রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান কামরুল হাসান।

তিনি জানান, আমাদের উদ্দেশ্য হলো ওই বিশেষ রঙ দেখে কেউ যেন সেখানে না থাকে। এতে ভাড়াটিয়া না পেয়ে পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন করবে মালিকরা।

গত ২৫ এপ্রিল নেপালে ভূমিকম্পের ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। নিহতের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নেপাল প্রধানমন্ত্রী সুশিল কৈরালা।

ওই দিন বাংলাদেশেও ভূকম্পন অনুভূত হয়। ‘আফটার শক’ হিসেবে আরও দু’দিন কেঁপে উঠে বাংলাদেশ।বাংলাদেশে প্রথম দিন চারজনের মৃত্যু ছাড়াও ১৮ জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, এর মধ্যে ঢাকা শহরে আটটি ভবন হেলে পড়ার কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও দায়দায়িত্ব নিরূপণ করে ২০ মে’র মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন করবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।সভায় বিল্ডিং কোড হালনাগাদসহ সারা দেশে তা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করা হয়।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিল্ডিং কোড আইন চূড়ান্ত করা হবে।ভূমিকম্পের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা তৈরির জন্য স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, মসজিদ, মার্কেট ইত্যাদি স্থাপনার নিরীক্ষা করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান সচিব কামরুল হাসান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল-কলেজে বছরে দু’বার প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠান করবে শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়।সরকারি পুরাতন মেডিকেল কলেজগুলো জরুরি ভিত্তিতে ‘রিট্রোফিটিং’ করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছ জাতীয় কমিটি।

এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় যেসব লোকদের ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে তাদের ভূমিকম্প বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান কামরুল হাসান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল, স্থানীয় সরকার, গণপূর্ত, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সিটি করপোরেশন, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং আবহাওয়া অধিদফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments