ভোক্তা অধিকার:অভিযোগের শুনানী হবে প্রতি সোমবার

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১২ আগস্ট: প্রতি সোমবার ভোক্তাদের নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। ভোক্তারা প্রতারিত হলে যাতে প্রতিকার পান, সে জন্যই গণশুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আজ সোমবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ৩ আগস্ট ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র (এনসিসিসি) স্থাপন করা হয়।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতি সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে শুনানির সময় বাড়ানো হবে। গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন মিঞার সভাপতিত্বে।

ভোক্তারা প্রতি সোমবার শুনানি চলাকালে ভোক্তা অধিদপ্তরের (১ কারওয়ান বাজার, টিসিবি ভবন, ৮ম তলা) সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত হয়ে তাঁদের অভিযোগ লিখিত এবং মৌখিকভাবে জানাতে পারবেন।

Consumers product

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রতারিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভোক্তাকে শুনানি গ্রহণকারী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। শুনানিকালে ভোক্তাদেরকে কীভাবে, কখন এবং কার কাছে অভিযোগ দাখিল করতে হবে, সে পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার আইন সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হবে।

এর আগে গত জুলাই এর প্রথম সপ্তাহে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ীকমিটির সভায় ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে ভোক্তা অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয় । ভোক্তাঅধিকার আইনের বাস্তবায়ন , অগ্রগতি এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা হয় ।সভায় টিসিবিকে আরও শক্তিশালী করা সহ এর পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয় ।

অপরাধ, দণ্ড, ইত্যাদি

২০০৯ সালে প্রনীয় ভোক্তার অধিকার সংরক্ষন আইনে নিন্ম লিখিত বিষয়াবলীর কোন একটি উপেক্ষিত হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন যে কোন ভোক্তা। এবং এসব বিষয়ে আলাদা আলাদা শাস্তির বিধান রয়েছে। (ধারা সহ দেয়া হলো):

৩৭৷ পণ্যের মোড়ক, ইত্যাদি ব্যবহার না করিবার দণ্ড৷

৩৮৷ মূল্যের তালিকা প্রদর্শন না করিবার দণ্ড৷

৩৯৷ সেবার মূল্যের তালিকা সংরক্ষণ ও প্রদর্শন না করিবার দণ্ড৷

৪০৷ ধার্য্যকৃত মূল্যের অধিক মূল্যে পণ্য, ঔষধ বা সেবা বিক্রয় করিবার দণ্ড৷

৪১৷ ভেজাল পণ্য বা ঔষধ বিক্রয়ের দণ্ড৷

৪২৷ খাদ্য পণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণের দণ্ড৷

৪৩৷ অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎ‍পাদন বা প্রক্রিয়াকরণের দণ্ড৷

৪৪৷ মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করিবার দণ্ড৷

৪৫৷ প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করিবার দণ্ড৷

৪৬৷ ওজনে কারচুপির দণ্ড৷

৪৭৷ বাটখারা বা ওজন পরিমাপক যন্ত্রে কারচুপির দণ্ড৷

৪৮৷ পরিমাপে কারচুপির দণ্ড৷

৪৯৷ দৈর্ঘ্য পরিমাপের কার্যে ব্যবহৃত গজ বা ফিতায় কারচুপির দণ্ড৷

৫০৷ পণ্যের নকল প্রস্তুত বা উৎ‍পাদন করিবার দণ্ড৷

৫১৷ মেয়াদ উত্তীর্ণ কোন পণ্য বা ঔষধ বিক্রয় করিবার দণ্ড৷

৫২৷ সেবা গ্রহীতার জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্য করিবার দণ্ড৷

৫৩৷ অবহেলা, ইত্যাদি দ্বারা সেবা গ্রহীতার অর্থ, স্বাস্থ্য, জীবনহানি, ইত্যাদি ঘটাইবার দণ্ড৷

৫৪৷ মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের দণ্ড৷

৫৫৷ অপরাধ পুনঃ সংঘটনের দণ্ড৷

নিজস্ব প্রতিবেদন

Comments