একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি…

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা; ২৭ এপ্রিল:  আসলেই আমরা সবাই মিলে যুদ্ধ করছি পলাশ গাছটা বাঁচাবো বলে। তবে ঢাল তলোয়ার দিয়ে নয়, ভালোবাসা, মনোযোগ আর প্রতিদিনের যত্ন দিয়ে।

মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য গানের অমর সুরস্রষ্টা শহীদ আলতাফ মাহমুদ স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পূর্বপাশে লাইট পোস্টের কোনায় লোহার একটি খাঁচা-ই প্রমাণ গাছটিকে বাঁচাতে আমাদের প্রানান্ত চেষ্টার।

1658695_393512697458970_1442094194_o

১৪ ফেব্রুয়ারী ভালোবাসা দিবসে সবুজের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিষ্ঠান সবুজপাতার উদ্যোগে রোপিত হয় গাছটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য জনাব আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আর শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহধর্মিনী এবং সবুজপাতার স্বেচ্ছাসেবকরা ঘটা করে এই গাছটি রোপন করেছিল কোন তড়িৎ বাহবা পাওয়ার জন্যে নয়। ঐদিন একটি বিশেষ শ্লোগানের যাত্রাও শুরু হয়েছিল। প্রিয়জনকে একটি গাছ উপহার দিন, আপনার সবচে প্রিয়জন স্মরণে একটি গাছ লাগান। কেননা, যেই গাছ আপনাকে আপনার প্রিয়জন দিচ্ছে উপহার হিসেবে, আর যে গাছ আপনি রোপণ করছেন আপনার অন্তরের প্রিয় মানুষটির স্মরণে, সেই গাছের যত্ন না নেয়াটা আপনার জন্যে কষ্টকর হবে। তাই প্রতিদিন চোখ পড়বে গাছে, গাছ আপনার মমত্বে বেড়ে উঠার সুযোগ পাবে। আর আপনার অজান্তেই সবুজের প্রতি আপনার চোখের যোগসূত্র স্থাপিত হবে, বাড়বে সবুজ প্রেম।

 তাই গাছ রোপণ করাটা যেমন সিদ্ধান্ত ছিল, তেমন একে বাঁচিয়ে রাখাটাও এখন আমাদের বড় কাজের অংশ। ১০ ফেব্রুয়ারী রাতে সবুজদলের পক্ষ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসায়। তার-ই পরামর্শে পলাশ গাছ, যেটি দীর্ঘজীবি হয়, সেটা রোপণের সিদ্ধান্ত নেয় সবুজকর্মীরা।

কিন্তু যেনতেন জায়গায় তো আর পলাশ গাছ পাওয়া যায় না! বন বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা, ফারাবী হাফিজ কে দেয়া হলো পলাশ গাছ খুজে বের করার দায়িত্ব। এ্যাকশন এইড এর জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ নীর নিলেন গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখতে একটি লোহার গ্রীল তৈরী করার দায়িত্ব। রাত জেগে  আনিস রহমান, আবু নোমান, জোবায়ের আহমেদ, আর জিয়া চৌধুরী সহ ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির কয়েকজন শিক্ষার্থী তৈরী করলেন গাছ ভালোবাসার ছোট ছোট স্টিকার আর হাতে বেধে দেয়ার রাখিবন্ধন।

 যেদিন গাছ রোপিত হলো, সেদিন পরিকল্পনা  মাফিক সব কাজ আগালো। প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচে যে লোহার খাঁচাটি বসানো হয়েছিল সেটি উপড়ে ফেলে মাদকসেবীরা নিয়ে গেলে তো গাছ অরক্ষিত হয়ে থাকবে।

 সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার জোবায়ের ফয়সাল আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তুশি মারইয়াম দায়িত্ব নিলেন, একজন রাতে বাড়ি ফেরার সময় গাছটি আর খাঁচাটির দেখভাল করবেন,অন্যজন ক্লাসে যাবার পথে পানি দেবেন প্রতিদিন। আর গাছ যার স্মরণে রোপিত সেই আলতাফ মাহমুদ কন্যা শাওন মাহমুদ মাঝে মাঝে যেয়ে চুপচাপ বসে থাকেন গাছের কাছে। তার বাবা এই দেশের জন্যে শহীদ হয়েছেন, কিন্তু কোথাও তো কোন ইটের কোনাটিও নেই আলতাফ মাহমুদ স্মরণে। আর পাকিস্তানী ঘাতকরা এই শহীদ বুদ্ধিজীবীর মৃতদেহটিও ফিরিয়ে দেয়নি, তাই কোন কবরস্থানও নেই। শা্ওন,গাছের কাছে গিয়ে বাবার সাথে গল্প করে আসে মাঝে মাঝে।

1921083_10152692357329922_601501567_o

 এখন বলুন তো, গাছটি বাঁচাতে আমাদের এই ভালোবাসার প্রতিযোগীতাটা একটা যুদ্ধ-ই কিনা!

 সবুজপ্রেম বাড়ানোই যখন মূল কাজ, তখন প্রিয়জন স্মরণে গাছরোপণের চেয়ে বড় বৃক্ষরোপণ কর্মসুচি আর কি-ই বা হতে পারে! একটি নয়, দুটি নয়, আপনার সাধ্য মত ১০ টি থেকে ১০ হাজার বৃক্ষ রোপন করুন, আপনার প্রয়াত-জীবিত বাবার নামে, মায়ের নামে, বন্ধুর নামে। দেখুন গাছগুলো বড় হবে আর আপনার মহত্ত্ব প্রচার করবে,পাখির মাঝে, পথচারির মাঝে, মানুষের মাঝে।

গাছ লাগাই, সবুজ বাঁচাই আন্দোলনে যোগ দিন।

সাহেদ আলম, সংবাদকর্মী

Comments