ঝাড়ু আর ডাস্টবিনে-ই হলো বৈশাখী আনন্দ পালন

ঢাকা: সবাই যখন পাঞ্জাবি – শাড়ি পরে প্রস্তুত মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য । আমরাও তখন হাতে ব্যাগ ও ঝাড়ু নিয়ে প্রস্তুত । সবাই প্রচণ্ড গরমে আইসক্রিম এর কৌটা – পানির বোতল – দুধের খালি প্যাকেট ফেলে যাচ্ছে তখন আমরা সেগুলো কুড়াতে ব্যাস্ত । সবাই যখন বিভিন্ন কোম্পানির দেয়া ফেস্টুন সংগ্রহে ব্যাস্ত আমরা তখন তাদের ফেলে দেয়া ফেস্টুন গুলো রাস্তা থেকে পরিস্কার করতে ব্যাস্ত । আসলে আমরা প্রতীকী একটা অভিযান করলাম আজ । যাতে সবাই সচেতন হয় । যত্র তত্র ময়লা না ফেলে । আমরা চেষ্টা করেছি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে । যদি ৫ জন ও আমাদের এই অভিযানের ফলে সচেতন হয় তবেই আমরা সার্থক । আমাদের বিশ্বাস একদিন পুরো দেশবাসী সচেতন হবে- এ বিশ্বাস থেকেই ঝাড়ু দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন একদল তরুন।গত কাল পহেলা বৈশাখ উৎযাপনের প্রাক্কালে নিজ হাতে, শরীরে খেটে আবর্জনা পরিষ্কার আর পরিচ্ছনতার পক্ষে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য অভিনব এ আয়োজন ছিল বৈশাখী আয়োজনের নতুন এক রুপ।

10155295_627695523983677_7788977122404049911_n

পরিবর্তন চাই নামক একটি সংগঠন “দেশটাকে পরিষ্কার করি” স্লোগানে ঝাড়ূ আকা লাল-সাদাটি-শার্ট গায়ে চড়িয়ে প্রায় ৩০০ এর অধিক সেচ্ছাসেবক দল ঝাড়ু হাতে ভোর ৬টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অংশগ্রহণ করেছে পরিচ্ছন্নতার কর্মসূচীতে। “পরিবর্তন চাই” এর সাথে এই কর্মসূচীর সহযোগী হিসাবে ছিল বাপা, সবুজপাতা, গ্রিন ভয়েস, প্রাক্তন ক্যডেট ফোরাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সহ আরও অনেক গুলো সংগঠন।

নিজ উদ্যোগে আর প্রচেষ্টায় আবর্জনা পরিষ্কারের চেষ্টাটি ভিন্ন ছিলো। কেননা, আমাদের দেশের বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলো পহেলা বৈশাখে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতি বছর নানা ধরনের বিজ্ঞাপন দূষণ করে থাকে। কাগজের হাত পাখা, কাগজের টুপি সহ নানান জিনিসে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের এবং পন্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের উদ্দেশ্যে উৎসবে আসা মানুষের হাতে বিলি তারা এসব বিলি করে থাকে। এতে করে দুই ভাবে পরিবেশের ক্ষতি হয়। প্রথমত, কাগজের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে গাছ নিধনের যেমন সম্পর্ক আছে, তেমনি উৎসবেআসা মানুষ এই কাগজের পাখা, টুপি সহ অনান্য জিনিস গুলো রাজপথে ও পার্কে যেখানে সেখানে ফেলে আবর্জনার স্তূপ তৈরি করে। সাথে যোগ হয় উৎসবে আসা মানুষের খাবার আর নানাপ্রকার উচ্ছিষ্ট।

নিজেদের উদ্যোগে এই আবর্জনা পরিষ্কার করতে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছে। ছয় ঘন্টা সময় ধরে “পরিবর্তন চাই” এর প্রত্যেক স্বেচ্ছাসেবী আপ্রান চেষ্টা করেছে উৎসবে আসা মানুষদেরনির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যাপারে সচেতন করতে। কোন প্রকারবিজ্ঞাপন আয় ছাড়াই  স্বতস্ফুর্ত ভাবে সেচ্ছাসেবীরা এখানে অংশগ্রহন করে  ভিন্ন ভাবে আনন্দ আর উৎসবে রঙ যোগ করেছে, সাথে দিয়েছে পরিবর্তনের বার্তাও।

10152494_627695467317016_4985935178737593273_n

সেচ্ছাসেবকদের উদ্দেশ্য এক বক্তব্যে সবুজ পাতার  উদ্যোক্তা সাংবাদিক সাহেদ আলম বলেন, প্রতীকি এ কর্মসূচি সব মানুষকে সচেতন করবে, পুরো শহর পরিচ্ছন করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়,সেটা এই কর্মসুচির উদ্দেশ্য ও নয়। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষের মনে পরিবেশের সচেতনতা বোধ জাগ্রত করা। এভাবেই একদিন বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ জানান তিনি। ভবিষ্যতেও তিনি এধরনের কর্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন।

“পরিবর্তন চাই” এর প্রধান সমন্বয়ক ফিদা হক আমাদের জানায়, “দেশটাকে পরিষ্কার করি”  আয়োজনের মাধ্যমে আমরা মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি অন্যায় আর অপ-অভ্যাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জাগাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা এখন যেখানে বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় এক নম্বরে আছে, সেই অবস্থান বদলে অচিরেই ঢাকাকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন এবং বসবাসের উপযুক্ত একটি শহরে পরিণতকরতে পারবো সবাই মিলে। সেজন্য সরকারের পাশাপাশি সকল মানুষের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমারা দেশবাসীকে আহবান জানাই, যার যার আশেপাশের এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভবন, জলাধার, পার্কসহ সমস্ত জায়গা। যে সমস্তা যায়গা আমরাই ব্যবহার করি, সেই সমস্ত জায়গাগুলো যদি আমরা নিজেরাই সম্মিলিত ভাবে মাসের একটা নির্দিষ্ট দিন পরিচ্ছন্ন করার অভ্যাস করি তাহলেআমরা নিজেরাই পারি আমাদের পরিবেশকে সকলের বসবাস উপযুক্ত করতে। তবেই আমরা পারি আমাদের নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অপরিচ্ছন্নতা আর অপরিচ্ছন্নতা জনিত সমস্যা গুলো থেকে মুক্ত রাখতে।

1546043_662223413823699_1757871180_n

ফরিদুজ্জামান ফরিদ

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top