বাংলাদেশকে তিস্তার জল বেশি পরিমাণে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে,মমতার অভিযোগ-তদন্ত শুরু

Print Friendly, PDF & Email

বিবিসি প্রতিবেদন
বাংলাদেশকে তিস্তার জল বেশি পরিমাণে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে কী না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
tista barej
রাজ্যের সেচমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এক প্রশাসনিক বৈঠকে অভিযোগ করেছেন যে সেচদপ্তরের কিছু কর্মী অনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে বেশি পরিমাণে জল ছেড়ে দিচ্ছেন।
তাঁর দপ্তরের কেউ জড়িত কী না – সেটাও তদন্তেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে সেচমন্ত্রী মি. ব্যানার্জী জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মঙ্গলবার রাতে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরে এক প্রশাসনিক বৈঠকে তিস্তার জল নিয়ে বলেন যে তিনি খবর পেয়েছেন যে শুখা মরসুমে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত জল দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের কিছু কর্মী – অফিসার অনৈতিকভাবে ওই কাজ করছেন বলেও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ।
এধরণের কাজকে দেশবিরোধী বলেও বর্ণনা করেন মমতা ব্যানার্জী।বৈঠকে হাজির একাধিক সূত্র মমতা ব্যানার্জীর ওই অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সূত্রগুলি আরও জানিয়েছে যে উত্তরবঙ্গের কৃষকরা যাতে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জল পান, তার জন্যই তিস্তার জলবন্টন চুক্তির বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার।
কিন্তু কিছু কর্মী যদি বেশি জল ছেড়ে দেন, সেটা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী মিজ ব্যানার্জী।
ওই বৈঠকেই মমতা ব্যানার্জী গোটা বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দেন। দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি – এই দুই জেলার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্টরা তদন্ত করবেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিস্তার জলবন্টন নিয়ে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময়ে। কিন্তু শেষ মুহুর্তে মমতা ব্যানার্জী ওই চুক্তির সরাসরি বিরোধিতা শুরু করেন।
তিনি বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের ক্ষতি করে তাঁর সরকার বাংলাদেশকে জল দিতে পারবে না।
তিস্তার জলবন্টন নিয়ে নদী বিশেষজ্ঞ কল্যান রুদ্রকে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরীর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেই প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ধরেই ফাইলবন্দী হয়ে রয়েছে।

Comments