“ভুমির চেয়ে সমুদ্র বেশি দুষিত হচ্ছে”

ঢাকা; ৩ জুন:  বাংলাদেশ কেন শুধু, সমগ্র বিশ্বের প্রেক্ষাপট বিচার করলে বলা যাবে, গত দুই দশকে যত ভাবে পরিবেশ ধংস হয়েছে, পরিবেশ ধংসের বিরুদ্ধে সচেতনতাও তৈরী হয়েছে অনেক বেশি। এটা একটা ভালো দিক যে অনেক দেরীতে হলেও পরিবেশ সুরক্ষার আন্দোলন আর ভাবনাগুলোপ্রসারিত হচ্ছে আমাদের মনে।

ocean-pollution-700x349

কিন্তু পরিবেশের সচেতনতা কেন্দ্রিক যত কার্যক্রম বা গবেষনা তার বেশিরভাগ আশে পাশের এলাকা বা ভুমি কেন্দ্রিক। অথচ আমাদের প্রকৃতির চার ভাগে ৩ ভাগ-ই হলো সমুদ্র বা পানি। তাই ঢাকার এক লেক বাচাঁতে আমরা যে মেধা শ্রম ব্যয় করি, সেন্টমার্টিন  এর প্রবাল বাচাঁতে আমারা ততটা উচ্চকিত নই।

সাম্প্রতিক একটি উন্নয়ন কর্মকান্ডের সুচনা হয়েছে। অনেক প্রতিবাদ সত্বেও তা বন্ধ করা যায়নি। রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। আমরা বারংবার বলছি রামপাল হলে সুন্দবনের ক্ষতি হবে বেশি। কেন বলছি না যে, রামপাল প্রকল্প হলে সমুদ্রের ক্ষতি হবে সবচে বেশি। যে পরিমান কালো ধোয়া আর রাসায়নিক উপাদান নির্গত হবে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সেসব ধোয়া কি সমুদ্রে গিয়ে পড়বে না?

সমুদ্র সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন না করতে পারলে আমরা বেশিদুর এগোতে পারবো না। আজ যদি চট্টগ্রামে কোন তেলবাহী জাহাজ বিষ্ফোরিত হয়,তার প্রভাব গিয়ে পড়বে সুন্দর বনে।এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। আমরা যদি বিবেচনা করি তাহলে দেখবো ভুমির চেয়ে সমুদ্র বেশি দুষিত হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জাহাজ ভাঙা শিল্পকে আমরা নিয়ন্ত্রনের মধ্যে আনতে পারিনি। চট্টগ্রামের ঐসব জাহাজ থেকে বার্ষিক কি পরিমান দূষিত, অপরিশোধিত তেল আমরা সমুদ্রে ফেলছি তার কোন গবেষনা হচ্ছে? কোন হিসাব আছে? শুধু মাত্র প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার কল্যানে আমরা চট্টগ্রামের সমুদ্রকে পরিষ্কার রাখতে পারছি। কিন্তু আসলেই কি পরিষ্কার থাকছে? এক জায়গার দুষন কি অন্য জায়গায় ছড়াচ্ছে না?  এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে দূর সাগরে।

আরেকটি বিষয় হলো সমুদ্র বিপর্যয় রোধক ব্যবস্থা নিয়ে বলা দরকার। ১৯৪৭ সালে স্কটল্যান্ডে প্রায় ৮৪০০০ মেট্রিকটন তেল সহ তেলবাহী জাহাজে বিষ্ফোরন ঘটেছিল। সেটার দূষন প্রভাব সমুদ্রনির্ভর প্রানীকুলের মধ্যে পড়েছিল ভয়াবহ ভাবে। ডিসাসটার বা বিপর্যয়ে দ্রুত সাড়া দেবার জন্য সরকারের একটি বিভাগ আছে যার নাম এসওডি। এই এসওডি তে সমুদ্রে বিপর্যয়ের কোন দিক নির্দেশনা নেই। আজ যদি দুর সুমদ্রে তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগে সেই দূর্যোগ মোকাবেলায় কারা এগিয়ে আসবে?

শেষ করবো শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের চিন্তার দৈন্যতা নিয়ে কিছু কথা বলে। পরিবেশ যথন আমাদের প্রান আর বেচে থাকার সবকিছু, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবেশ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার অবসান কোথায়?  সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিবেশ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার বিভাগগুলো থাকে সবার তলানিতে।  আমি মনে করি যেভাবে শিল্পায়ন ঘটছে, উন্নয়ন ঘটছে তার সুষম এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য আগে দরকার পরিবেশ বিষয়ে সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন। আমাদের নীতি নির্ধারনীরা কি ভেবে দেখবেন?

ড.শহিদুল ইসলাম। প্রফেসর, ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

 সম্পাদনা: সাহেদ আলম ।(সম্প্রতি এক সেমিনারে ড. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য থেকে সংকলিত)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top