সমুদ্র; ২৭০ এর মধ্যে যেতে পারি ৬০ নটিক্যালে!

 ঢাকা, ২৫ মে: রিয়ার এ্যামিরাল  মো: খুরশেদ আলম (অব:) হলেন সম্ভবত বাংলাদেশে একমাত্র সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে কাজ করছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সমুদ্র বিষয়ক ইউনিটের সচিব হিসেবে।

 ২০১২ সালের ১৪ মার্চ ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি‘ (ইটলস) এক ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে। সমুদ্র আইন বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন ১৯৮২ মোতাবেক দেওয়া রায়ে বাংলাদেশের দাবি অনুযায়ী ন্যায্যতা (ইকুয়েটেবল) ভিত্তিতে সীমানা রেখা টানা হয়।

এই রায়ে বাংলাদেশ ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্রসীমা পাওয়ার পাশাপাশি মহীসোপানেও বাংলাদেশ দাবি করার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে ৩৮ বছরের বিরোধের শুধু নিষ্পত্তিই হয়নি, বরং বাংলাদেশের দাবির যৌক্তিকতাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  একই বিষয়ে এখন অপেক্ষা এ বছর ভারতের বিরুদ্ধে চলা একটি মামলায় জয় প্রাপ্তির অপেক্ষায় বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের হয়ে এ মামলা পরিচালনা এবং তথ্যের খুটিনাটি বিশ্লেষন করে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক এই নৌ কর্মকর্তা।

 সম্প্রতি সিরডাপ মিলয়নায়তে; বাংলাদেশের সমুদ্র অন্চল; সম্পদ ও পরিবেশ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি হাসতে হাসতে বলছিলেন, বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক, আসলে তা নয়। বাংলাদেশ সমুদ্রমার্তৃক। তবে কবি, সাহিত্যিক  এবং শিল্পীরা তাদের গাথুনিতে যতটা নদীকে এনেছেন,ততটা সমুদ্রকে আনেননি। বরং সমুদ্র কে ঝড় ঝন্জা এবং দূর্যোগের অসীম কেন্দ্র বলে চিত্রায়িত করেছেন সব সময়।তাই সমুদ্র আমাদের কাছে এক ভীতির নাম।

 b3ded33509কিন্তু বাস্তবতা হলো, সমুদ্র এক অফুরন্ত সম্ভাবনার নাম। আদালতের রায় আমরা সমুদ্রের ২৭০ নটিক্যাল মাইল এলাকায় কতৃত্ব পেয়েছি। কিন্তু কতটাতে যেতে পারছি আমরা? তিনি  প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের যেসব মাছধরা মেশিন চালিত নৌকা আছে তার সংখ্যা  ছোট বড় মিলিয়ে ৪৫-৫৫০০০ এর মত।  এগুলোর মধ্যে ৩৫-৪০ টির সক্ষমতা আছে সমুদ্রের ৬০-৭০ নটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে মাছ ধরার। বাকী ২০০ নটিক্যালকে আমরা ব্যবহার-ই করতে পারছি না।  অথচ বিশ্বব্যাপী কয়েক শ বিলিয়ন ডলারের মাছের বাজার। আর আমরা দাবী করি মাছে ভাতে বাঙালী আমরা।

 তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে আমরা যে পন্য রপ্তানী করি তাতে ভাড়া খাটে প্রায় ২৬০০ জাহাজ। এর মধ্যে বাংলাদেশী মালিকানায় আছে ৬০-৭০ টি।বাদ-বাকী বিদেশী জাহাজ গুলোকে বছরে প্রায় আমরা ৬ বিলিয়ন ডলার মূল্য পরিশোধ করি কেবল ভাড়া খাটার জন্য।  আমাদের আক্ষেপ, আমাদের ব্যবসায়ীরা সমুদ্রের সম্ভাবনা কে কখনো কাজে লাগান না।

 খুরশিদ আলম জানান, সারা দুনিয়ায় পণ্য পরিবহনে প্রায় ১,২০,০০০ জাহাজ চলে। এসব জাহাজের একেক জন মেরিন প্রকৌশলীর মাসিক বেতন ১০-১৫ হাজার ডলার করে। সেখানে আমাদের মেরিন প্রকৌশলী সরবারহ করার যে অমিত সম্ভাবনা সেটি আমাদের শিক্ষা পরিকল্পনায় উপেক্ষিত রেখেছি যুগের পর যুগ। ক বছর আগেও মাত্র ১ টি মেরিন একাডেমী ছিল বাংলাদেশে। অথচ এশিয়ার দেশ ফিলিপাইন বিশ্বের মোট মেরিন প্রকৌশলীদের মধ্যে ৪৬ ভাগ একাই সরবারহ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আর আমরা এসব শিক্ষায় গুরুত্ব না দিয়ে শুধু নির্মান শ্রমিক রপ্তানি করছি।

 সমুদ্রের সম্ভাবনা বোঝাতে গিয়ে জনাব আলম বলেন, আমরা মাছ ধরে শুটকি বানাই ফরমালিন দিয়ে। অথচ ফিস অয়েল আমদানী করি বিদেশ থেকে। ১ বোতল  ফিস অয়েল আমরা কিনি ২৫-৩০ ডলার খরচ করে। অথচ, আমাদের উপকুলের বেশিরভাগ মানুষ জেলে মাঝি। তিনি বলেন উপকুলে প্রায় ৭৫ টি মেরিন আইল্যান্ড আছে বাংলাদেশের,যেগুলোকে আমরা উন্নয়ন করে সমুদ্রকেন্দ্রিক বিশাল অর্থনৈতিক জোন গড়ে তুলতে পারি।

 সাহেদ আলম, সংবাদ কর্মী

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top