নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, বাড়ছে লবণাক্ততা

Print Friendly, PDF & Email

jolbau-bg20130830095054

সবুজপাতা ডেস্ক, কক্সবাজার: কক্সবাজার শহরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নেমে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে নলকূপের পানিতে লবণাক্ততা বেড়েছে। অপরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে ।

গত ২৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ‘কক্সবাজারের ভূগর্ভস্থ পানি ও বালুর দূষণের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফ আলী সিদ্দিকী। উদ্বোধন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. কুরবান আলী।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম উবায়দুল্লাহ ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী আশরাফুল হক।

২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের হোটেল-মোটেলগুলোতেই দিনে ৪৫ কোটি গ্যালন পানি তোলা হয়।

জানা যায়, আশরাফ আলী সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি দল টানা তিন বছর (বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে) শহরের দরিয়ানগর, কলাতলী, জেলখানা, লাবণী পয়েন্ট, হলিডে মোড়, ডায়াবেটিক পয়েন্ট, খুরুশকূল সেতু এলাকা, বাজারঘাটা, লিংকরোড, বাস টার্মিনাল ও নুনিয়াছটার ৭০ ফুট পর্যন্ত গভীর নলকূপের পানি ও বালুর নমুনা সংগ্রহ করে।

এসব নমুনা জাপানের ওসাকা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়, জিওলজি সার্ভে অব জাপান গবেষণাগার এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পানি ও বালুর বিভিন্ন প্যারামিটার (পানির পিএই, লবণাক্ততা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, তাপমাত্রা) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতে ভূপৃষ্ঠে এবং ভূগর্ভস্থ পানি ও বালুতে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি তেজষ্ক্রিয় পদার্থ থোরিয়াম, ইউরিয়াম-সমৃদ্ধ মোনাজাইট এবং জিরকন নামক খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে। এসব পদার্থ মিশে পানি দূষিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে পানি পান করে মানবদেহে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ।

আশরাফ আলী সিদ্দিকী বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা মেটানোর জন্য কোনো রকম বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। এসব ভবনে পানীয় জলের জন্য ভূগর্ভস্থ পানি তোলা হচ্ছে। এতে কক্সবাজার শহর, হোটেল-মোটেল জোনসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ভারসাম্যতা নষ্ট হচ্ছে। স্থানটি সমুদ্রের খুব কাছে হওয়ায় লবণাক্ত পানি ভূগর্ভস্থ পানির আধারে ঢুকে পানযোগ্য সুপেয় পানি দূষিত করছে।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

Comments