অনিশ্চিত নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতার বলি হচ্ছে পরিবেশ,জীবন, জীবিকা -বাপা

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা: জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পরিপূরক ও নৈতিকতা বোধসম্পন্ন রাজনীতি  নিশ্চিত করতে পরিবেশ রক্ষায় আট দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনী পদ্ধতি, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে মৌলিক অনৈক্যের সুরাহা না হওয়া পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে বলে মনে করছে তারা। image_60325_0

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টস ইউনিটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা আব্দুল মতিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থপতি ইকবাল হাবিব, আলমগীর কবির ও নাজিম উদ্দিন প্রমুখ।

আব্দুল মতিন বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নির্বাচন পদ্ধতিতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে না থাকায় নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ দেশের নাগরিকদের যাপিত জীবনের দাবি ও আকাঙ্ক্ষাগুলো উখাপন করার বিরল সুযোগটি বাস্তবে নৈরাজ্যের মধ্যে হারিয়ে গেল। সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা জানি গত প্রায় এক বছর যাবতই রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশে নিমজ্জিত হয়ে আছে, প্রায় দুই মাস ধরে তা তুঙ্গে পৌঁছেছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নির্বাচনী পদ্ধতি, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে মৌলিক অনৈক্যের বিষয়েগুলোর এখনো সুরাহা হয়নি। বরং তাতে যোগ হয়েছে একটি নতুন বিষয় আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক একটি প্রতিবাদ প্রক্রিয়া যার প্রধান উপাদানটি হচ্ছে অতি নেতিবাচক ও ধবংসাত্মক।” মতিন বলেন, আন্দোলনে ব্যাপকভাবে ব্যক্তি ও সম্পদ আক্রান্ত হচ্ছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা গাড়ি বাস, স্কুটার ট্রেন, যানবাহন ভাঙচুর ও তাতে অগ্নিসংযোগ, রেল লাইন ও সেতুর ধ্বংস সাধন হচ্ছে এবং শতাধিক নিরীহ মানুষের অহেতুক জীবনহানি, ব্যবসা বাণিজ্য স্থবিরতা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়। এর ফলে সারাদেশে বিপুল পরিমাণে কালো ধোঁয়ার বিস্তার ও বায়ুদূষণ ঘটছে।

তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে আমাদের পরিবেশসহ সব সম্পদ সংরক্ষণ চেতনাকে শাণিত করার দাবি করেন। দাবির উল্লেখযোগ্য দফাগুলো হচ্ছে,(১) অবিলম্বে নীতি নিয়ম ও দেশপ্রম বিবর্জিত সকল রাজনীতিক পরিহার, জাতীয় সম্পদ রক্ষার পরিপূরক ও নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন রাজনীতি  নিশ্চিত করতে হবে। (২) রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অরাজনৈতিক কার্যক্রম যথা; রাস্তার পাশে বা মাঝখানের গাছ পোড়ানো উপড়ানো, কাটা অংশ ও গুড়ি দিয়ে রাস্তায় ব্যারিকেট সৃষ্টি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। (৩) রাজনৈতিক সহিংসতা, অস্থিরতা, ভাঙচুর, গাড়ি–বাস- স্কুটারসহ সব যানবাহনের অগ্নিসংযোগ ভাঙচুর, লুটপাট, রেললাইন উপড়ানোসহ জাতীয় ধবংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। (৪) ছাত্র-ছাত্রী- নারী-শিশু-পথচারী- যানবাহনের যাত্রী–ড্রাইভার- হেলপার  ঘুমন্ত মানুষ পোড়ানো, মানুষের ওপর বোমা হামলা অত্যাচার বন্ধ করাসহ আট দাবি করা হয়।

Dhaka-30-11-13 main

এর আগে সবুজ বিষয়ক বহুমুখি উদ্যোগের প্রচারণার জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম- সবুজপাতা’র তরফে ফেসবুক অনলাইন সহ নানা মাধ্যমে অবরোধে গাছ নিধন বন্ধে আকুতি করে প্রচারণা চালানো হয়। বলা হয়, আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি,সারা দেশে গত ১ মাসে বা এর আগেও অবরোধ আর হরতালের সমর্থকরা দেশ্যব্যাপী হাজার হাজার গাছ কেটে রাজনৈতিক কর্মসুচি পালন করছেন। এটা এখনো অব্যহত আছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সবুজ নিধনের বিরুদ্ধে সবুজপাতা আর আর সবুজের সেচ্ছাসেবকদের অবস্থান । এটি শুধু বর্তমান সময়ে নয়, ভবিষ্যতেও কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বলী যেন না হয় একটি গাছ-আমাদের সবুজ, সে বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগীতা আর সবুজ প্রেম কামনা করে সবুজের সেচ্ছাসেবক রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

Comments