১৫০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে পড়ছে

Print Friendly, PDF & Email

GlassBeach_1

প্রতিদিন পৃথিবীজুড়ে যে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক উৎপন্ন হয় তার একটি বিরাট অংশ গিয়ে পড়ে সমুদ্রের পানিতে। আর বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সমুদ্র্উপকূলের পরিবেশ প্রকৌশলী বা “eco-engineer” নামে পরিচিত কিছু কৃমি এই প্লাসটিকগুলো খেয়ে ফেলায় সামুদ্রিক পরিবেশের উপর এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে।

প্রতি বছর প্রায় ১৫০ মিলিয়ন টন বর্জ্য প্লাস্টিক সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। গবেষকরা দেখলেন, ১ মিলিমিটার বা তার চেয়েও কম দৈর্ঘ্যের প্লাস্টিকগুলো lugworms (Arenicola marina) নামে এক প্রজাতির কৃমি খেয়ে ফেলছে। এর ফলে তাদের পেটে ঐ প্লাস্টিকগুলো থেকে বিভিন্ন ধরণের দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থ, কৃত্রিম রঙ ও অগ্নিনিরোধক পদার্থ স্থানান্তরিত হচ্ছে।

এরপর এই বিষাক্ত পদার্থগুলো এই কৃমির ত্বকের সাথে মিশে যেতে শুরু করে। ফলে এই কৃমিগুলোর স্বাভাবিক জৈবিক কাজ ব্যহত হয় ও এরা সমুদ্রের তলদেশে জমে যাওয়া তলানি খেয়ে ফেলে সমুদ্রের পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আর সক্ষম হয় না।

pollution_ocean

আর যদি এই কৃমিগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে সমুদ্রের নিচে জমে যাওয়া বিভিন্ন পদার্থ খেতে অক্ষম হয়ে যায়, তবে ধীরে ধীরে তাদের দেহের বিভিন্ন স্বাভাবিক কাজ ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে যেতে শুরু করবে। আর এর ফলে একই সাথে সমুদ্রের পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে ও হুমকির সম্মুখীন হবে অন্যান্য জীব প্রজাতি।

এই কৃমিগুলোকে “eco-engineer বলা হয় কারণ এরা সমুদ্রের নিচে জমে যাওয়া তলানি থেকে বিভিন্ন জৈব পদার্থ খেয়ে ফেলে ও সমুদ্রের নিচে পলি তৈরি হওয়া রোধ করে। এর ফলে সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী ছোট ছোট প্রাণীরা সহজেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত করে তাতে বাস করতে সক্ষম হয় ও অন্যান্য প্রাণীরাও উপকৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের National Center for Ecological Analysis and Synthesis এর পরিবেশবিজ্ঞানী মার্ক ব্রাউন তাই অবিলম্বে এসব প্লাস্টিক থেকে সৃষ্ট বিপর্যয় রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

Comments