বাপ-দাদাদের তুলনায়, একালের শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা কম : বিশ্বব্যাপী জরিপ

Print Friendly, PDF & Email

বিবিসি: বিশ্বব্যাপী এক স্বাস্থ্য জরিপ বলছে বহু দেশে বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা তাদের আগের প্রজন্মের থেকে কমে যাচ্ছে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষকরা ২৮টি দেশে আড়াই কোটি শিশুর ওপর জরিপ চালিয়ে এবং ৪৬ বছরের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে আজকের শিশুদের তাদের বাপ-দাদার তুলনায় ফিটনেস কম, এবং ৯ থেকে ১৭ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
বাংলাদেশে শিশুরা শারীরিকভাবে কতটা সক্ষম? বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান এর সাথে বিবিসির কথপোকথন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান, বাংলাদেশ

সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান, বাংলাদেশ

মান্নান: আমরা যদি এই এক-ই সুচক মেপে দেখি তাহলে বুঝবো যে বাংলাদেশেও আগের প্রজন্মের চেয়ে এখনকার শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা কম। প্রশ্ন ছিল এটার কারণ কি। জবাবে জনাব ইসতিয়াক জানান, বাংলাদেশে এর কারণ হিসেবে ২ টি দিক প্রকাশ পেয়েছে। একটি হলো শিশুদের অপুষ্টিজনিত যে কারণ,তার ফলে ভবিষ্যতে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কম হিসেবে তারা বড় হচ্ছে।অন্যদিকে শহুরে যেসব বিত্তবান পরিবার আছে তাদের ক্ষেত্রে অপুষ্টিজনিত কারণ নয়,বরং তাদের শিশুরা স্থুলকায় হওয়ার কারণে তাদের শারীরিক সক্ষমতা কম বলে বিবেচিত।

প্রশ্ন: আগে যেমন বাচ্চারআ খেলাধুলা করতো বেশি বাইরে….
উত্তর: হ্যা। আমাদের যে অপুষ্টিজনিত সমস্য সেটা শুরু হচ্ছে কিন্তু একদম গর্ভকালীন সময় থেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে মায়েদের শরীরে অপুষ্টি থাকে। তার বাচ্চার ক্ষেত্রে সেটা প্রভার ফেলে। তার বুকের দুধ থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সে পায় না।

প্রশ্ন: কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে অপুষ্টি কোন সমস্যা নয়,তাদের ফিটনেস কম হওয়ার কারণ কি?
উত্তর: তাদের ক্ষেত্রে আমরা দেখছি,যে যখন আমার বাচ্চাদের খাবার থেকে বড়দের খাবারে উত্তরণ করছি তখন তাদের খাবার টা সুষম খাদ্যগুন বিবেচনায় নিয়ে করা হচ্ছে না। তাছাড়া, আমরা যখন ছোটবেলায় স্কুলে যেতাম সেসময় স্কুল গুলোতে বড় বড় মাঠ থাকতো। এমনকি আমরা হেটে যেতাম স্কুলে। এখনকার বাচ্চাদের স্কুল গুলো যদি দেখেন,মাঠের তো প্রশ্নই উঠে না, যে অল্প একটু জায়গায়,অল্প একটু ঘরের ভেতরে তারা ঘোরাঘুরি করে তাতে তাদের, শারীরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না। এর পর, খাদ্য অভ্যাস একটি বড় বিষয়। যে সমস্থ ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড আমরা বাচ্চাদের খেতে দিচ্ছি নিয়মিত সেগুলোও তাদের অক্ষমতার দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।

প্রশ্ন: কিন্তু যেসব দেশে এই স্কুলে বাচ্চাদের খেলার মাঠ আছে সেখানকার বাচ্চারাও তো খেলতে মাঠে যাচ্ছে না,তারা কম্পিউটার বা টেলিভিশনে বেশি সময় পার করছে….শুধু মাঠ বা পার্ক থাকলেই কি বাচ্চারা সেখানে যাবে?
উত্তর: না। আপনি ঠিক-ই বলেছেন। কম্পিউটার গেমস বাচ্চা এবং কিশোরদের এমন ভাবে ঘরে আটকে রাখছে যে তাতে করে মাঠে গিয়ে পরিশ্রম করে খেলার উদ্যেম তারা পাচ্ছে না। তাদের কাছে মনে হচ্ছে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থেকে খেলাটাই বেশি পছন্দনীয়।তারা মাঠে না গিয়েও সারাদিন ফুটবল খেলছে। এটার সুদুরপ্রসারী একটা খারাপ প্রভাব আমাদের প্রজন্মের উপর পড়ছে। যার ফলে সত্যিকারের যে ঘাসের ছোয়া বা সত্যিকারের যে বাতাসের ছোয়া সে জিনিস গুলো আর হচ্ছে না।

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

প্রশ্ন: এ ব্যাপারে বাবা মায়েরা কতটা সচেতন?
উত্তর: আপনি যদি বাবা-মায়েদের জ্ঞানের পরিধি দেখেন, তাহলে দেখা যাবে সবাই কম বেশি বুঝেন। তবে এই বাবা মায়েরাই হয়তো তার দৈনন্দিন জীবনে সেটা প্রয়োগ করতে পারছেন না। বাচ্চাকে কম্পিউটারের সামনে থেকে উঠাতে পারছেন না। মাঠে নিয়ে যেতে পারছেন না। খাবারের ক্ষেত্রে হয়তো বাচ্চাকে শাক-সবজি খাওয়াতে পারছেন না। ছোট মাছ খাওয়াতে পারছেন না। ফলমূল খাওয়াতে পারছেন না। যেখানে একটা বার্গার দিলে সহজে কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
আমি মনে করি স্কুল,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবারগুলোকে এখনই খুব সচেতন হওয়া দরকার।শুধু জানার ক্ষেত্রে না,এটা বাস্তবায়নেও তাদের উদ্যোগ নেয়া উচিৎ।
(বিসির সাক্ষাৎকার সংকলিত)

Comments