গ্রিন জার্নালিজম নিয়ে কর্মশালা

  • গ্রিন জার্নালিজম নিয়ে কর্মশালা
  • গ্রিন জার্নালিজম নিয়ে কর্মশালা
  • গ্রিন জার্নালিজম নিয়ে কর্মশালা
  • গ্রিন জার্নালিজম নিয়ে কর্মশালা
Print Friendly, PDF & Email

10593014_1551237411774168_8662242130551373337_n20140925_11490020140925_111319ঢাকা: ২৫ সেপ্টেম্বর:  সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলা, সবুজ আন্দোলন প্রসার করা, পরিবেশ সংক্রান্ত কাজ করা, পরিবেশ পরিবর্তন বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিকল্পে সিটিজেন জার্নালিজমের অবদান কি এখন, আর ভবিষ্যতের করনীয় কি! বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে অপেক্ষাকৃত নতুন শব্দ ‘গ্রীন জার্নালিজম’ নামে একটি সেমিনারে সেসব বিষয়ে আলোচনায়, দেশগঠন আর উন্নয়নের স্থায়িত্বশীলতার জন্য পরিবেশ সাংবাদিকতায় নাগরিকদের আরো বেশি সংশ্লিষ্ট হ্ওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

 বাংলাদেশ প্রতিদিনের নিউজ এডিটর, জনাব লুৎফর রহমান হিমেল এই আলোচনায় অংশ নিয়ে তার আক্ষেপের পূনরাবৃত্তি করে বলেন, সাংবাদিকতার রং হলুদ থেকে আরও ভয়াবহ রং কালোর দিকে পর্যবসিত হয়েছে। সংবাদে জনস্বার্থ, দেশস্বার্থ, পরিবেশ স্বার্থ বলে কিছু থাকছে না। রগরগে ‘নেতিবাচক’ সংবাদে ভরে উঠছে পত্রিকার কলামের পর কলাম।

হলুদ আর কালো সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ হিসেবে তাই আরও একটি রঙের সাংবাদিকতার প্রয়োজন পড়েছে এখন। রং কে রং দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। এই রং হবে সবুজ। যাকে পশ্চিমা বিশ্ব ডাকতে শুরু করেছে গ্রিন জার্নালিজম নামে। পরিবেশ ও প্রতিবেশকে তারা অতীব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। অথচ সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বা ভালোনারেবল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের মিডিয়ার এ দায়িত্ব সর্বাগ্রে নেওয়া দরকার ছিল। কারণ, এ দেশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। দেশ ভালো নেই, ভালো নেই পৃথিবীও। ভালো নেই মানুষ। আমরা আসন্ন ভয়াবহতা টের পাচ্ছি এখনই। বিশ্বের উষ্ণতা যে হারে বাড়ছে তাতে আগামী দিনে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের উপকূলে প্রতি বছর মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে। বছরে সমুদ্রজলের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে দুই সেন্টিমিটার। সমুদ্রের পানি যেভাবে বাড়ছে তাতে প্রতি সাতজনে একজন উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। এরা হচ্ছে জলবায়ু উদ্বাস্তু। আগামীতে বাংলাদেশের ১৭ ভাগ এলাকা সমুদ্রে বিলীন হয়ে যাবে। কিন্তু এসব নিয়ে মিডিয়ায় লেখা কই? ‘

এই কর্মশালার সহ আয়োজক, সবুজপাতার উদ্যোক্তা সাহেদ আলম বলেন, কারো জন্য নয়, নিজের প্রয়োজনেই পরিবেশ নিয়ে নাগরিক সাংবাদিকতার সময় এসেছে। বলেন, এখন কার সময় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম গুলোতে যত সংবাদ এর উৎস তৈরী হয়,তা আগের যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই নাগরিক সাংবাদিকতার ঝোক যদি পরিবেশ এর স্বার্থ সুরক্ষার দিকে ধাবিত করা যায়,তাহলে উন্নয়ন টেকসই হবে। কেননা,তখন উন্নয়নের নামে লুটপাট হবে না, উন্নয়ন যন্তনায় রুপান্তরিত হবে না। তিনি উদাহারণ টেনে বলেন, পরিবেশ বিষয়ে নাগরিক সাংবাদিকতার শক্তি কতাটা বেশি তা বোঝার জন্য সাম্প্রতিক একটি ঘটনাই যথেষ্ট। সম্প্রতি চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানী তারুন্য কর্নসার্ট এর নামে তরুনদের ধুমপানে আকৃষ্ট করার কৌশল নিয়েছিল,কিন্তু নাগরিকরাই প্রথমে সামাজিক যোগাযোগে এটির হইচই শুরু করলে, কর্তৃপক্ষ সে অনুষ্টান বাতিল করে পলায়ন করতে বাধ্য হয়েছে।

সাহেদ আলম বলেন, গনমাধ্যমের পাতা বা সময়ের পরিধিতে পরিবেশের জন্য আলাদা জায়গা তৈরী করতে হবে। ঠিক যেমন এখন সে সুযোগ পায় ‘ব্যবসা পাতা’ ‘সাহিত্য পাতা’ কিংবা ‘ফ্যাশন পাতা’। অথবা ‘বানিজ্য সংবাদ, কৃষি সংবাদ’ ইত্যাদি, ইত্যাদি। সে দিন দুরে নয়, পরিবেশ সংক্রান্ত সংবাদ  গনমাধ্যমে নিউজ টিটমেন্ট পা্ওয়ার ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতায় ভুগবে,অথবা তলানির দিকে পড়ে থাকবে। কিন্তু জোর করে তো আর সংবাদে জায়গার আবদার করা যাবেনা! পরিবেশ বিষয়ে সাংবাদিকতার মোড়ক বদলাতে হবে, সাধারণ পাঠক আগ্রহী হয় তেমন বিষয় নিতে হবে, আর পুজির প্রসারের সাথে পরিবেশের সম্পর্ক স্থাপনও জরুরী।তাহলেই সেই অধিকার প্রতিষ্টা সম্ভব হবে তাড়াতাড়ি।

সিটিজেন জার্নালিজমের রাস্তা আরো প্রসার করা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশ বান্ধব সবুজ সাংবাদিকতার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকন ।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে বেশ কিছু নজীর আছে যে মানুষ দীর্ঘদিন নিজের সাথে কথা বলেছে, নিজের কাছেই প্রশ্ন করেছে প্রকৃতির খাম খেয়ালী আচরন নিয়ে। তা থেকে পরবর্তীতে গবেষনার ডাক এসেছে, ফলে আজকে আমরা বৈশ্বিক পরিমন্ডলে পরিবেশ নিয়ে ভাবছি,সেমিনার করছি। এখস প্রযুক্তি সেরা সময়ে সেসব ভাবনা জোরদার করেই পরিবেশ  সুরক্ষায় করনীয় বের করতে হবে। এসয় তিনি পরিবেশ নিয়ে তরুনদের ভাবনা গুলি লিখে পত্রিকা বা অন্য মাধ্যমে পাঠানোর অনুরোধ করেন। ছাপাযোগ্য হলে সেগুলি প্রকাশের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, পরিবেশ এমন বড় একটি বিষয় এটি গুটিকয়েক মানুষের ভাবনার জায়গা নয় শুধু। সামগ্রিকভাবে নাগরিকদের সচেতনতা না বাড়লে  জীব-বৈচিত্রের সমবস্থানের অবক্ষয় অব্যহত  থাকবে বলে আশঙ্কা করেন।

অন্যন্যদের মধ্যে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত ‘জার্নালিজম ট্রেনিং ইনিশিয়েটিভ’- যাত্রীর নির্বাহী জামিল আহমেদ ও বক্তব্য রাখেন এবং এই গ্রিন জার্নালিজমের ধারণা এবং চর্চা প্রসারে ভবিষ্যতে আরো কিভাবে ভুমিকা রাখা যায় তা নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দেন জামিল আহমেদ।

বৃহস্পতিবার ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে সবুজপাতা ও বিডি এনভায়রমেন্টের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় হলরুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সহ সভাপতি ক্যাম্পাস মিররের সম্পাদক আ ফ ম মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড.আব্দুল হান্নান চৌধুরী।

সেমিনারে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিশেষ করে সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, টেলিভিশন ও রেডিওতে টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত সংবাদ উপস্থাপন করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন।

বায়েজিদ আহমেদ

সংবাদ কর্মী

Comments