বাংলাদেশের গ্রিন ব্যাংকিং

Geld_und_Pflanze বর্তমানে গ্রিন ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় একটি ধারণা হিসেবে প্রচলিত। ব্যাংকার ও গ্রাহকদের যৌথ প্রচেষ্টার সাহায্যে বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে গ্রিন ব্যাংকিং। মূলত পরিবেশ বান্ধব, টেকসই, সুষম, সুস্থ-সুন্দর, দুর্নীতিমুক্ত ও নৈতিক ব্যাংকিং হলো গ্রিন ব্যাংকিং। বস্তুত সবুজের প্রতি আগ্রহ মানুষের চিরকালের। সবুজ তারুণ্যের প্রতীক। সবুজ উদ্ভিদের দিকে তাকালে দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি পায় ও মনপ্রাণ ভরে যায়। আমাদের দেশের জাতীয় পতাকার বিস্তৃত অংশ সবুজে ঢাকা। তাই সবুজ সুন্দরকে বাঁচাতে অনেকে বাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদ ও টবে গাছ লাগিয়ে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকেন।

 

গ্রিন ব্যাংকিং এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে। প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর আমাদের জীবন পুরোপুরি নির্ভরশীল। পরিবেশকে উপেক্ষা করে পৃথিবীতে কিছুই করা যায় না। সুন্দর অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নত সমাজ ব্যবস্থার অংশ হতে পারে না। তেমনিভাবে সমৃদ্ধ অর্থনীতির জন্য প্রকৃতির আনূকল্য বিশেষভাবে প্রয়োজন। জলবায়ু ও পরিবেশ যদি বিপন্ন হয়, তাহলে অর্থনীতিও বিপন্ন হয়। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামগ্রিক সমৃদ্ধির জন্য পরিবেশগত ভারসাম্য ও অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতি জোর দিচ্ছেন সবাই এখন। অতীতে এ বিষয়ে বিশ্বজুড়ে তেমন সচেতনতা ছিল না। কিন্তু বিশ্বজুড়ে শিল্পায়নের প্রভাবে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি এবং ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ঘটায় উন্নত দেশগুলো থেকেই এ বিষয়ে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে বিশ্ব পরিবেশ যখন হুমকির মুখে পড়েছে তখন অর্থনীতিতে গ্রীন ব্যাংকিং ধারণার প্রচলন হয়েছে।

 

পটভূমি:

ব্যাংকের বৃহৎ উদ্দেশ্য হল ব্যবসা-বাণিজ্য, সেবা, শিল্প, কর্মসংস্থান ও উপার্জন বর্ধন এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসমূহ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দায়িত্ব সহকারে সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। যে ব্যাংক সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ, পরিবেশগত বিষয়ে সচেতন, পরিবেশ বান্ধব প্রকল্প প্রণয়ন ও এর বাস্তাবায়নে বদ্ধ-পরিকর এবং তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও দক্ষতার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার পথ অনুসরণ করে, তাকে সবুজ ব্যাংক এবং সে ব্যাংকের কার্যক্রমকে সবুজ ব্যাংকিং বলা হয়ে থাকে। বিশ্ব উষ্ণায়ন, কার্বন নি:সরণ, পরিবেশ দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদির ব্যাপকতা রোধ করে বিশ্বকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিবেশগত বিপর্যয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখের বিআরপিডি সার্কুলার নং ০২-এর মাধ্যমে সবুজ ব্যাংকিং কার্যাবলী পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উক্ত নীতিমাল অনুযায়ী সবুজ ব্যাংকিং কার্যক্রমসমূহকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৩ (তিন) ধাপে ভাগ করা হয় যা পর্যায়ক্রমে ২০১৩ সালের মধ্যে ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করবে।

 

গ্রীণ ব্যাংকিং পলিসি:

ব্যাংকসমূহ গ্রাহকদের আমানত নিয়ে দেশের অগ্রাধিকার খাত ও স্বল্পোন্নত এলাকায় বিনিয়োগের মাধ্যমে সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে সাম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন সাধন, স্বল্প আয়সম্পন্ন জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পল্লী এলাকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তার বিভিন্নমুখি বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। তাই সমাজের, দেশের এবং সর্বোপরি বিশ্বের জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠায় বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ দায়বদ্ধ। দু’একটি ব্যাংক সেই আলোকে তার জম্নলগ্ন থেকেই জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে আসছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবুজ ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়নের পর, এসব ব্যাংকের এই কার্যক্রম আরো গতিশীল ও সুসংগঠিত হয়েছে। ব্যাংকসমূহের সবুজ ব্যাংকিং কার্যবলী মূলত অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, সিএসআর কার্যক্রম, প্রোডাক্ট ও মার্কেট ইকোলোজী এর মধ্যে কেন্দ্রীভূত। ব্যাংকসমূহের পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রমে জনগণকে সচেতন করা ও তাদেরকে সম্পক্ত করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে তাই তাদেরকে এই সুযোগের সর্বোত্তম ব্যবহার করে বিশ্বকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসোপযোগী রাখার জন্য কাজ করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী উন্নত প্রযুক্তির বিকাশের সাথে শিল্পায়ন ও পাল্লা দিয়ে এগিয়ে গেছে। শিল্প কারখানার অনাকাঙ্ক্ষিত বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বর্জ্য এখন বিশ্বের প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। বিশ্ব পরিবেশের এ বিপর্যয় ঠেকাতে মানবজাতির আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশ ও একাত্মতা ঘোষণা করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, আমাদের অর্থনীতিতে গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে বিসৃত্মত করা। বাংলাদেশে গ্রীন ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে ইতোমধ্যে বিশেষ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই ক্রমেই সচেতনতা হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ব্যাংক শুরু থেকেই এদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিপ্লবের সূচনা করতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রীন ব্যাংকিংকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। যুগের দাবি পূরণে গ্রীন ব্যাংকিং-এর গুরুত্বকে অগ্রাধিকার অর্থনীতির প্রচলন করেছেন তার দায়িত্ব পালনের গত চার বছরে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সমাজের গুটিকতক মানুষের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হওয়ার প্রবণতা থেকে রক্ষা করতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি এদেশের মানবিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন করেছেন। তার অনেক সাফল্য ও কৃতিত্বের মধ্যে এদেশের গ্রীন ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য।

  

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘গ্রীন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর’ নামে নতুন বিভাগ চালু:

গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরো জোরদার করতে সম্প্রতি একটি আলাদা নতুন বিভাগ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘গ্রীন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর’ নামের এ বিভাগটি মূলত দেশের ব্যাংকগুলোর পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন, আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকিতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করবে। গত ৪ এপ্রিল এক আদেশে গ্রীন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রাথমিকভাবে ২২ জন কর্মীর সমন্বয়ে বিভাগটি গঠিত হযেছে। ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের গ্রীন ব্যাংকিং সেল এবং কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের সিএসআর মনিটরিং সেকশন এই বিভাগের আওতায় পরিচালিত হবে। কৃষি ঋণ বিভাগের আওতায় থাকা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন খাতে ২০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিলটিও এখন থেকে এই বিভাগের আওতায় পরিচালিত হবে। বিশ্বের বড় বড় দেশের ব্যাংকগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন জরুরি হয়ে পড়েছে। আধুনিক উন্নত বিশ্বের ব্যাংকগুলো তাদের অর্থায়নের ক্ষেত্রে, পরিবেশ ঝুঁকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আমাদের দেশেও-এর চর্চা শুরু হয়েছে এটা আশার কথা নিঃসন্দেহে। এতোদিন যেভাবে গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চলে আসছিল সেটাকে আরো সুগঠিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই ব্যাংকিং জগতে বেশ সাড়া তুলেছে। সবাই এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। আর এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের প্রশংসা করছেন দেশের ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা। এটাই হবে আগামী দিনের ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রধান বিবেচ্য বিষয়। দেশের ট্যানারি শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, পোলট্রি শিল্প ও গার্মেন্টস শিল্পের মতো পরিবেশ ঝুঁকিসম্পন্ন শিল্প খাতগুলোতে বিভিন্ন ব্যাংকের অর্থায়ন কেমন হবে, সেটা নিয়েই কাজ করবে বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন প্রতিষ্ঠিত গ্রীন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর বিভাগ। এ জন্য প্রয়োজনে আলাদা নীতিমালাও প্রণয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। গ্রীণ ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রচার ও প্রসার ঘটাতে নিম্নলিখিত কাজসমূহ ব্যাংকগুলোকে করতে হবে:

 

১. সবুজ অর্থায়নের সূচনা:

পরিবেশ সচেতনতাই সবুজ ব্যাংকিং কৌঁশলের মূলমন্ত্র। ব্যাংকগুলোর গ্রীণ এনার্জি তথা নবায়নযোগ্য শক্তিতে অর্থাৎ সৌরশক্তি, ইটিপি, বায়ো-গ্যাস, এসএমই, কৃষি বিনিয়োগ অর্থসংস্থান নীতির রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে এবং এ সকল বিনিয়োগ সুবিধার টার্গেট গ্রুপ হবে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, কৃষক এবং যারা দারিদ্র সীমার নিচে জীবন যাপন করছে। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে:

ক. বিনিয়োগকৃত প্রকল্পগুলো যাতে পরিবেশের ওপর কোন প্রকার বিরূপ প্রভাব না ফেলে সে দিকে ব্যাংক সব সময় সজাগ দৃষ্টি রাখবে। সরকারি নির্দেশনাবলীর সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যাংককে একটি পরিবেশ নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এই নীতিমালা অনুযায়ী নতুন বিনিয়োগ প্রকল্প মূল্যায়নের সময় তার পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।

খ. সবুজ শিল্পায়ন নিশ্চিত করার জন্য যে কোন নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার পূর্বে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে। ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে যাতে পরিবেশ দূষিত না হয় সেজন্য সম্ভাব্য সকল প্রকার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। ডাইং, প্রিন্টিং ইত্যাদি প্রকল্পগুলোতে ইটিপি ও ইটের ভাঁটাগুলোতে ১২০ ফুট উঁচু চিমনি স্থাপনে গ্রহকদের উৎসাহিত করতে হবে। গ্যাসোলিন অথবা সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এক্সপ্লোসিভ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস বিভাগ, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ইত্যাদি থেকে অনাপত্তি সনদ নিতে হবে।

গ. বর্জ্য পরিশোধন প্লান্ট (ইটিপি) আছে এমন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করতে হবে।

ঘ. নতুন নতুন পরিবেশ বান্ধব আর্থিক প্রোডাক্ট চালুর ব্যাপারে অব্যাহত প্রয়াস চালাতে হবে।

 

২. সবুজ বিপণন প্রবর্তন:

অনলাইন ব্যাংকিং, এসএমএস ব্যাংকিং, আই ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন ধরনের কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার পণ্য ও সেবার বাজারজাতকরণ আজ অতি সহজ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন ব্যাংক সম্পূর্ণ ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং সেবা দেয়ার লক্ষ্যে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যেমন: ক্রেডিট কার্ড, Point of Sale (POS), Travellers Card, Data Archieve  এবং সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কল সেন্টার স্থাপন ইত্যাদি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে অপারেটিং ব্যায়হ্রাস, সর্বোত্তম গ্রাহকসেবা, দৈনন্দিন কার্যাবলী দ্রুত ও সঠিক এবং সর্বোপরি ব্যাংকের কার্যকারিতা বাড়বে এবং সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। যখন গ্রাহকরা অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স, সুইফট, এটিএম কার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, রেমিট্যান্স কার্ড, BACH, BACPS, BEFTN, ফরেন  ট্রেড অপারেশনের কেন্দ্রীককরণ, কার্ডলেস ট্রানজেকশন, এসএমএস ব্যাংকিং সুবিধাদি ভোগ করতে থাকে তখন ব্যাংক, তার গ্রাহক এবং সর্বোপরি পরিবেশ সকলেই এর সুফল ভোগ করে থাকে। বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংক এটিএম বুথের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহককে কাগজবিহীন ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে কিছু কিছু ব্যাংক ইন্টারনেট ব্যাকিং-এর অংশ হিসেবে i-banking এর আওতায় i-transfer, i-recharge এর সেবা প্রদান করে আসছে।

 

৩. অনলাইন ব্যাংকিং:

পরিবেশ বান্ধব ব্যাংকিং কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে ব্যাংকসমূহ তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যেমন: অনলাইন ব্যাংকিং, কাগজ ও বিদ্যুতের অপচয়রোধ, সৌরশক্তি ও সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাতির ব্যবহার ইত্যাদি। অনলাইন ব্যাংকিংয়ের সুবিধাদির মধ্যে কাগজের ব্যবহার কমানো, সময় বাঁচানো, ডাক খরচ কমানো উল্লেখযোগ্য যা পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। অনেক ব্যাংকের সবগুলোই অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় রয়েছে।

হিসাব বিবরণী, ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেট এবং আন্তঃশাখা ও আন্তঃব্যাংক করেসপন্ডেন্স ইত্যাদি অনলাইন ও ই-মেইলের মাধ্যমে সম্পাদন করতে হবে যাতে কাগজ, সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়। তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে পেপারলেস ব্যাংকিংয়ের শুভ সূচনা করে এভাবে পরিবেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব।

 

৪. সবুজ শাখা সজ্জিতকরণ:

ব্যাংকগুলোকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছলতা, সুবিধাদি, পারিশ্রমিক, গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীন পরিবেশের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পরিবেশগত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন ধরনের অভ্যন্তরীন পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন- অনলাইন যোগাযোগ, কাগজের অপচয় রোধে উভয় পৃষ্ঠায় ছাপানো, নোটপ্যাড হিসাবে স্ক্র্যাপ পেপারের ব্যবহার, ডিজপোজেবল কাপ/গ্লাসের ব্যবহার পরিত্যাগ করা, সিএফএল বাতির ব্যবহার, সোলার প্যানেলের ব্যবহার ইত্যাদি। একইভাবে এমন স্থানে অফিস স্থাপন করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাস থাকবে যা বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ময়লা, থুথু, কফ, কাগজ, বোতল ও প্যাকিং সামগ্রী এখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে যা পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা করবে।

ব্যাংক কর্মীদেরকে বিদ্যুৎ, গ্যাস প্রভৃতি শক্তিচালিত যন্ত্রপাতি যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহার করার জন্য উৎসাহিত করা এবং লাইট, ফ্যান, এয়ারকন্ডিশন ইত্যাদির ব্যবহারে অপচয় না করার ব্যাপারে সতর্ক করতে হবে। গ্রাহকদেরকে তাদের হিসাব বিবরণী কাগজের পরিবর্তে ইন্টারনেট, মোবাইল অথবা ATM মেশিনের মাধ্যমে দেখার জন্য উৎসাহিত করা দরকার।

 

৫. ব্যাংকারদের দায়-দায়িত্ব:

জনসাধারণের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত পেশাজীবী গ্রুপ হিসেবে ব্যাংকাররা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যাংকগুলো সবুজ ও পরিবেশ বান্ধব প্রকল্পে অর্থায়ন ও পরিবেশ ধ্বংস করে এমন প্রকল্পে অর্থায়নে অনুৎসাহিত করার মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে।

ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এমন কিছু না করাই পরিবেশের প্রতি দায়িত্বের মূল প্রতিপাদ্য। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সারাবিশ্বে গুরুত্ব সহকারে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়:

ক. অনবায়নযোগ্য শক্তি ও দ্রব্যসমূহের ব্যবহার কমানো (যেমন: বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, কাগজ ইত্যাদি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ও দ্রব্যসমূহের ব্যবহার বৃদ্ধি করা (যেমন: সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস, যোগাযোগের জন্য ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ইত্যাদি)।

খ. শিল্প-কারখানায় কার্বন নির্গমন হ্রাস করা।

গ. বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশের ওপর তাদের কার্যক্রমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে পুক্ষানুপুক্ষরূপে পর্যালোচনা করা এবং এর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

ঘ. আন্তর্জাতিক সংগঠনের নীতিমালা এবং বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনের সনদ বিবেচনায় এনে এবং উন্নত দেশের গ্রীন ব্যাংকিং থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত।

ঙ. ব্যাংকগুলোর উচিত দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী ভিত্তিতে কৌশলগত পরিকল্পনার আলোকে গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করা।

চ. আমাদের উচিত সম্পদের যত্নসহ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আমাদের আরও মনে রাখা দরকার সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার ও অপচয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। আল্লাহর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সতেজ পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ গুরুদায়িত্ব। আর অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এটি একটি জরুরী ইস্যুও বটে।

 

৬. জনসাধারণকে সম্পৃক্তকরণ:

তাছাড়াও ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সেনিটেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোকে তার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমানুষকে পরিবেশগত বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।

দেশে দ্রুত নগরায়নের কারণে বন ও কৃষি জমির পরিমাণ সংকুচিত হয়ে আসছে যা পরিবেশের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যাংকগুলোকে তার নিজস্ব কর্মী ও গ্রাহকদের মধ্যে ‘এক মানুষ এক চারা’ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ব্যাংকগুলোকে প্রতি বর্ষা মওসুমে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ’ বাধ্যতামূলকভাবে পালন করতে হবে। এ সময় পল্লী এলাকায় বিনামূল্যে চারাগাছ সরবরাহ করা যেতে পারে। মসজিদ প্রাঙ্গণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শহরের বিভিন্ন খোলা জায়গায় চারা রোপণ করার জন্য ব্যাংকের পক্ষ হতে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

তাছাড়াও ব্যাংকগুলোকে পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সম্মেলন ও সেমিনারে স্পন্সর করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা কর্মসূচি, বনায়ন ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, সৌন্দর্যবর্ধক কর্মসূচি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে।

 

৭. পরিবেশগত আদর্শমান:

যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু সবুজের প্রতি নিষ্ঠুরতার ফলে বিশ্বের বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমুদ্র তীরবর্তী নিচু অঞ্চলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে গ্রীণ হাউজ গ্যাস ও ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ওজোনস্তরে ফাটল ধরিয়ে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি পৃথিবীতে আসতে সহযোগিতা করছে।

পরিবেশ সংবেদনশীল সেক্টরে বিনিয়োগ দেয়ার সময় গ্রীন ব্যাংকিং পলিসি বাস্তবায়ন করতে হবে। যেমন- কৃষি পণ্য, পোল্ট্রি ও ডেয়রী, কৃষি খামার, চামড়া, মৎস্য, টেক্সটাইল ও এপারেলস, নবায়নযোগ্য শক্তিসম্পদ, পাল্প ও পেপার, নির্মাণ ও গৃহায়ন, কেমিক্যাল, প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি, হাসপাতাল, ইটভাটা, জাহাজ ভাঙ্গা ইত্যাদি। বার্ষিক প্রতিবেদন ও ওয়েবসাইটে গ্রীন ফাইন্যান্সিং-এর প্রকাশ থাকতে হবে। প্রকল্পসমূহের তদারকির জন্য পরিবেশ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল বা নীতিমালার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। গ্রাহক ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহকে পরিবেশ নীতিমালা মানার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করতে হবে। গ্রাহকদেরকে প্রশিক্ষিত করার জন্য বাস্তব কর্মসূচি সূচনা করতে হবে। যে কোনো ফটকা, অস্বাস্থ্যকর পণ্যের জন্য বিনিয়োগ প্রদান করা আমাদের উচিত নয়। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বঞ্চিত জনসাধারণ, দারিদ্র বিমোচন এবং কর্মসংস্থান তৈরি নিশ্চিত করতে হবে।

 

৮. ইকোলজি ও গ্রীণ ব্যাংকিং:

পরিবেশ বিদ্যার বৈজ্ঞানিক নাম হলো ইকোলজি। ইকোলজি বলতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যকার সম্পর্ক ও তাদের চারপাশের অবস্থাকে বুঝায়। আল্লাহ সৃষ্ট সৌর জগতের একমাত্র সবুজ গ্রহ হলো পৃথিবী। কিন্তু দিন দিন মানুষের অনাদর, অবহেলা এবং লোভের ফলে সভ্য সমাজ যেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি অনেক প্রাণী এবং উদ্ভিদরাজিও বিলুপ্ত হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও এর সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত হয়েছে।

 

গ্রীন ব্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা:

বাংলাদেশের গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে আলোকপাত করলে দেখা যায়:

ক. এক নজরে বাংলাদেশের গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম:

১. ৪৫টি ব্যাংক ইতিমধ্যে গ্রীন ব্যাংকিং নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

২. ৪৬টি ব্যাংক গ্রীন ব্যাংকিং ইউনিট তৈরি করেছে।

৩. ৪১টি ব্যাংক গ্রীন অফিস গাইড প্রচলন করেছে।

৪. বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২১২টি শাখা এবং ১৫০টি এসএমই ইউনিট ও এটিএম বুথ সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে চালিত হচ্ছে।

৫. ৩৭টি ব্যাংক পুরোপুরি অটোমেটেড (স্বয়ংক্রিয়) পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে।

৬. বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৩,২২৬টি শাখা অনলাইন সুবিধা প্রদান করছে গ্রাহকদের।

 

খ. গ্রীন ব্যাংকিং স্লোগান:

বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে ইংরেজিতে কিছু গ্রীন ব্যাংকিং স্লোগান প্রচলিত রয়েছে:

  • Save paper, save trees.
  • Conserve energy, conserve natural resources.
  • Pay your bills online.
  • Turn off the tap when not needed.
  • Always use a cloth bag.
  • Reduce, reuse and recycle.
  • Digitize yourself.
  • Think before you press the button.
  • Everything has two sides.
  • Be paperless-kick the habit.
  • Use car pools to go to work.
  • Unplug electronic devices while not in use.

 

গ. বিশেষ গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম:

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরণের বিশেষ গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

এবি ব্যাংক– প্রতি রবিবার বিকাল ৩-৪টা পর্যন্ত তাদের সকল এসি ও অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ রাখে।

ব্যাংক এশিয়া– ৩০ জুন, ২০১২ইং তারিখে হিউম্যান রির্সোস ডিপার্টমেন্টের সকল কর্মীরা এসি ও লাইট বন্ধ করে দিনের আলোয় কাজ করে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক– বিশ্ব ধরিত্রী দিবস এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করে।

মিচ্যুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক– ‘আর্থ আওয়ার’ এর সূচনা করে।

কর্মাশিয়াল ব্যাংক অফ সিলন– গ্রাহকদের বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল ইন্টারনেট এর মাধ্যমে গ্রহণ করে।

 

ঘ. গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট বাজেট বরাদ্দ (২০১২):

গ্রীন ফিনান্স= ২০,০৩৪.৫৯ মিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬,১৬০ মিলিয়ন টাকা, বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক ১১,৫০৬.৭৯ মিলিয়ন টাকা, বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংক ১,০১৭.৮০ মিলিয়ন টাকা, বিশেষায়িত উন্নয়নমূলক ব্যাংক ১,৩৫০ মিলিয়ন টাকা গ্রীন ফিনান্সে মোট বাজেট বরাদ্দ করেছে।

জলবায়ু ঝুঁকি= ২,১৪১.৭৪ মিলিয়ন টাকা।

গ্রীন ব্যাংকিংয়ের মার্কেটিং ও ক্যাপাসিটি তৈরি= ২,১৪১.৭৪ মিলিয়ন টাকা।

 

ঙ. গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমে সেরা ১০ ব্যাংক:

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে ২০১২ সালের সেরা ১০টি ব্যাংককে বাছাই করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১. গ্রীন ব্যাংকিংয়ে বাজেট বরাদ্দে সেরা ১০ ব্যাংকঃ

রূপালী ব্যাংক (৪,০০০ মিলিয়ন টাকা), আইএফআইসি ব্যাংক (২,৬২০ মিলিয়ন টাকা), এক্সিম ব্যাংক (২,৬০০ মিলিয়ন টাকা), সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (২,০৪৩ মিলিয়ন টাকা), বেসিক ব্যাংক (১,৬৫০ মিলিয়ন টাকা), সোনালী ব্যাংক (১,৫০০ মিলিয়ন টাকা), ব্যাংক এশিয়া (১,২১০ মিলিয়ন টাকা), জনতা ব্যাংক (১,১৬০ মিলিয়ন টাকা), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (১,০২৫ মিলিয়ন টাকা), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক (১,০০০ মিলিয়ন টাকা)।

 

২. গ্রীন ফিনান্সে বাজেট বরাদ্দে সেরা ১০ ব্যাংকঃ

রূপালী ব্যাংক (৩,০০০ মিলিয়ন টাকা), আইএফআইসি ব্যাংক (২,৬০০ মিলিয়ন টাকা), এক্সিম ব্যাংক (২,৫০০ মিলিয়ন টাকা), সোনালী ব্যাংক (১,৫০০ মিলিয়ন টাকা), বেসিক ব্যাংক (১,২০০ মিলিয়ন টাকা), ব্যাংক এশিয়া (১,২০০ মিলিয়ন টাকা), সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (১,০৪০ মিলিয়ন টাকা), স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (১,০০০ মিলিয়ন টাকা), শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক (৯৯২.৫ মিলিয়ন টাকা), ওয়ান ব্যাংক (৮২৯.৫৬ মিলিয়ন টাকা)।

 

চ. বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনলাইন ব্যাংকিং কার্যক্রম:

 

ব্যাংকের ধরণ

মোট শাখা

অনলাইন শাখা

অনলাইন শাখার শতকরা হার

সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক

৩,৪৬৯

১৬৮

৪.৮৪

বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক

৩,২২৪

২,৯২৫

৯০.৭৩

বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংক

৭৩

৭৩

১০০

বিশেষায়িত উন্নয়নমূলক ব্যাংক

১,৪৩৩

৬০

৪.১৯

মোট

৮,১৯৯

৩,২২৬

৩৯.৩৫

  

ছ. বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালিত ব্যাংকিং কার্যক্রম:

ব্যাংকের ধরণ

সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালিত মোট শাখা

সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চালিত মোট এসএমই ইউনিট ও এটিএম বুথ

সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক

১৫

বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক

১৭০

১৩৯

বৈদেশিক বাণিজ্যিক ব্যাংক

২৪

বিশেষায়িত উন্নয়নমূলক ব্যাংক

মোট

২১২

১৫০

 

গ্রীন ব্যাংকিং আজ বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশেও আজ এটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে-এমন খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে রেটিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগকে বিবেচনায় নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া এ খাতে বিতরণকৃত ঋণের ওপর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নগদ ভর্তুকি দেয়ার বিষয়েও ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে দেশের ব্যাংকগুলো। অনেক ব্যাংকই-এর মধ্যে বেশ ভালোভাবেই গ্রীন ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করেছে। এ কাজের মূল্যায়ন করে গত বছর সেরা ১০টি ব্যাংককে বাছাই করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং অঙ্গনে গ্রীন ব্যাংকিং-এর ব্যাপারে এক ধরনের উদ্দীপনা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংকগুলোর পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ ও তত্ত্বাবধানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রীন ব্যাংকিং অ্যান্ড সিএসআর বিভাগের আওতায় এরই মধ্যে ৬০০ কোটি টাকার আলাদা দুটি তহবিল দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপনে ৪০০ কোটি টাকার এডিবির একটি তহবিল রয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস ও বর্জ্য পরিশোধন প্রকল্পের বিনিয়োগের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব গঠিত ২০০ কোটি টাকার তহবিলটিও এ বিভাগের আওতায় দেয়া হয়েছে। দেশে কার্যরত প্রচলিত ধারায় যে কোন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুনঃ অর্থায়নে স্কিমের আওতায় এসব তহবিল থেকে মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে বিতরণ করতে পারে। যদিও সৌর শক্তির আওতায় সমন্বিত গরু পালন ও বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনে এজেন্টের মাধ্যমে ঋণ দেয়া হলে ১১ শতাংশ সুদ নেয়া হয়। ২০১২ সালে ব্যাংকগুলো পরিবেশবান্ধব ১২ হাজারেরও বেশি প্রকল্প চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ১৬৫টিতে ২৭ হাজার ৯২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার দেশে পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিং চালুর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক আগে থেকেই গ্রীন ব্যাংকিং, সিএসআর, স্কুল ব্যাংকিং, ফিনান্সিয়াল এডুকেশন এবং ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন কার্যক্রম চালু করতে ব্যাংকগুলোকে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। বাংলাদেশে পরিবেশের উন্নয়নকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছক অনুসারে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এ কার্যক্রমের আওতায় পরিবেশ বান্ধব ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষ প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। যা দেশের পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ব্যাংকের বার্ষিক বিনিয়োগের একটি বড় অংশ এ খাতে বিনিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা নিতে হবে। ব্যাংকগুলো যেমনিভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে তেমনিভাবে দেশের পরিবেশের উন্নয়নেও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আর এভাবেই সবাই গ্রীন ব্যাংকিং তথা সবুজের প্রতি যত্নবান হলে দেশে পরিবেশ বান্ধব শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের অর্থনীতির বিকাশের সাথে সাথে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে দেশ রক্ষা পাবে।

 

1097281_10201965603767414_617542346_o
মোঃ তানভীর হাবীব মিশুক

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top