মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য ; ৪০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইলিশের জাল আটক

Print Friendly, PDF & Email
বরগুনা প্রতিনিধি:
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১৩ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বরগুনা জেলার বিভিন্ন নদীতে ইলিশ মাছ ধরার জাল ফেলার কারণে রবিবার সন্ধ্যায় মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ইলিশের জাল আটক করা হয়।দুইটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাছঘাট ১২টি, আড়ৎ ৩৪টি ও ৩১টি বাজারে অভিযান চালিয়ে ৭৮ হাজার ৬৫০ মিটার জাল (৪০ লক্ষাধিক টাকা) ও ১০০ কেজি ইলিশ উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃত ইলিশ মাছ এতিম খানায় বিতরণ করা হয়। আটককৃত জালগুলো বড়ইতলা ফেরীঘাটে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন, বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই আলম।

চলতি  বছর ১৮ অক্টোবর আশ্বিনের পূর্ণিমা। তাই শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ২৩ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় ইলিশ নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বছরের এ সময়টাতে লক্ষ লক্ষ মা ইলিশ সাগরের কাছাকাছি চলে আসে ডিম ছাড়তে।নিষেধাজ্ঞা আরোপিত পয়েন্টগুলো হলো উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া-গণ্ডমারা, উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমউদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমউদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্ট।
গত কয়েক বছর জুড়ে মৎস বিভাগ আর কোষ্টগার্ড মিলে এ ব্যাপারে জেলে মাঝিদের মধ্যে সচেতনতাবৃদ্ধিতে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময় কিছু জেলে মাঝি এই নিষেধ মানলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাকি দিয়ে শত শত মাছ ধরা ট্রলার প্রবেশ করে সাগরে। জালে ধরা পড়ে লক্ষ ডিম ওয়ালা ইলিশ। বরগুনার পাথরঘাটায় কিছু জেলে মাঝিদের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে তারা উল্টো দোষারোপ করেন,ক্রেতাদের। ‘আপনারা যদি বাজার থেকে ডিমওয়ালা ইলিশ কেনা বন্ধ করেন,দেখবেন কেউ আর এ সময়ে ঝুকি নিয়ে ডিম ওয়ালা ইলিশ মাছ শিকারে সাগরে যাবে না,রক্ষা পাবে ইলিশ’।-মাঝি মনসুর আলী।

 

Comments