পরিবেশগত ক্ষতি এড়িয়ে চলতে হবে: বাস্তবায়নকারীদের প্রতি ড. মনমোহন সিং

Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে অনেকদিন থেকেই  আপত্তি জানিয়ে আসছেন পরিবেশবাদীরা। তারা বলছেন, এটা বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। বাম দল সমর্থিত তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র না করার আহ্বান জানিয়ে লংমার্চ করেছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছে। এসব বিরোধিতার মধ্যে আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে-ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং এর ভিডি ও কনফারেন্স উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হলে বির্তকিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তবে কেন্দ্র নির্মানের স্থল রামপালে নয়, ফলক উদ্বোধন হয়েছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়।

এ সময় সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ক্ষতি এড়াতে বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। পরিবেশবাদীদের সমালোচনার মধ্যে আজ শনিবার বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন অনুষ্ঠানে বাস্তবায়নকারীদের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ভারতের বিদ্যুৎ আমদানির জন্য সঞ্চালন উপকেন্দ্রের সঙ্গে বাগেরহাটের রামপালে নির্মিতব্য মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট উদ্বোধন হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে তার প্রতিনিধি হিসেবে ভেড়ামারায় ছিলেন ভারতের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ।

মনমোহন সিং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের উল্লেখ করে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরাল করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আজকের উদ্বোধনের ঘটনা দুদেশের আন্তঃসংযোগের জন্য একটি মাইলফলক ঘটনা। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে তার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনায় অংশীদার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, দুই দেশের উন্নয়নের জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য ভারত, নেপাল ও ভুটান একসাথে কাজ করতে পারে। এ কেন্দ্রের মালিকানায় রয়েছে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি, যার সমান অংশীদার বাংলাদেশ ও ভারত।

এদিকে, রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রবিরোধীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, যারা চেঁচামেচি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন তাদেরকে বলছি, সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। সুন্দরবনের ক্ষতি করে শেখ হাসিনা কোনো কিছু করবে না। সব ধরনের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

Comments