পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন : পর্যাপ্ত গবেষনা আর পরিবেশের সমীক্ষা না থাকার অভিযোগ।

Print Friendly, PDF & Email
চলতি বছর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প স্থাপনে চুক্তি বদ্ধ হয়।

চলতি বছর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্প স্থাপনে চুক্তি বদ্ধ হয়।

ঢাকা: পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও মাঠপর্যায়ে বাস্তব কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো আজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বুধবার সকালে এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

উদ্বোধনের পর, তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুত উৎপাদনে মানুষ ও পরিবেশের নিরাপত্তার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে ।তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কোনো প্রাকৃতি দুর্যোগে প্রকল্প ও মানুষের যাতে ক্ষতি না হয় এবং পরিবেশের ওপর যেনো কোনো বিরূপ প্রভাব না পড়ে সে অনুযায়ী নির্মাণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রূপপুর বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে অপসারিত বর্জে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি রোধে সেসব বর্জ রাশিয়া নিয়ে যাবে। এ বিষয়টি সহযোগিতা চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় পরিবেশ ও মানুষের যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা হবে। আমি রাশিয়ান সরকারকে অনুরোধ করেছি এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। রাশিয়ান সরকার আমাকে পুরোপুরি আশ্বস্ত করছে।

 

এর মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় অর্ধশত বছরের পথযাত্রা পরিণতি পাচ্ছে।

তবে এই পরিণতির মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে আরও কঠিন ও জটিল এক পথচলা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে কি না, তার পরিবেশগত প্রভাব কী হবে, কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে, ব্যয় কেমন হবে—এসব জরুরি বিষয় নির্ধারণের জন্য অনেকগুলো সমীক্ষা করতে হবে। এ জন্য সময় লাগবে অন্তত দেড় বছর।

ওই সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন—রোস্যাটম। সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

তবে দেশে দক্ষ জনবল তৈরি, স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে ‘পাবলিক কাউন্সিল’ গঠন প্রভৃতি অপরিহার্য কিছু কাজের জন্য সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) ওয়েবসাইটে রূপপুর প্রকল্প সম্পর্কে হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই। প্রকল্প এলাকা সম্পর্কে বার্ষিক পরিবেশ প্রতিবেদন প্রকাশ ও সে অনুযায়ী পরিবেশনীতি উন্নয়ন অপরিহার্য হলেও তা করা হয়নি।

প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখন পর্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এমন কোনো কারিগরি পেশাজীবী দল গঠন করা হয়নি, যারা প্রকল্পটি সার্বিকভাবে তদারক করতে সক্ষম। মাঠপর্যায়ে যে সমীক্ষাগুলো করা হবে, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই।

 

সবুজপাতা ডেস্ক

Comments