পাতাঝলসানো রোগে দুশ্চিন্তায় গৌরীপুরের কৃষক

Print Friendly, PDF & Email

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ), ২৪ অক্টোবর: গৌরীপুরে আমন ধান ক্ষেতে পাতাঝলসানো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগ নির্মূলের জন্য ধানক্ষেতে কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাচ্ছে না স্থানীয় কৃষকরা। এতে করে দুশ্চিন্তায় পড়েছে কৃষক। পাশাপাশি উপজেলায় আমনের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৫৫৯ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমি। কিন্তু এ বছর আমন ধান ক্ষেতে পাতাঝলসানো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় ফসল উৎপাদন নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।

গৌরীপুর কৃষি অফিস জানিয়েছে, পাতাঝলসানো রোগ নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ধানগাছের নরম পাতাগুলোকে ঝলসে ফেলার কারণে এই রোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি ধানের জমিতে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেশি হলে কিংবা ধানক্ষেতে বেশি ছায়া থাকলে এই রোগের উপদ্রব দেখা দেয়। রোগ নির্মূলের জন্য রোগাক্রান্ত ধান ক্ষেতগুলোতে কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কৃষকদের। পাশাপাশি কয়েকদিন টানা বৃষ্টি হলেই এই রোগে নির্মূল হয়ে যাবে। এই রোগে উপজেলার প্রায় ৩৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিমাণ আরো বেশি হবে।

উপজেলা ও পৌর শহরের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত ১ মাস ধরে আমন ধান ক্ষেতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগাক্রান্ত হওয়ার ফলে ধানগাছের পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। দূর থেকে রোগাক্রান্ত ধানক্ষেতগুলো দেখলে মনে হয় ধানগাছে ধানের ছড়া বের হয়েছে কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলে বুঝা যায় ধানগাছের পাতগুলো ঝলসে গেছে।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, এই রোগ নির্মূলের জন্য কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করার পরেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। কীটনাশক স্প্রে করার কিছুদিন পরেই ধান গাছের পাতাগুলো কিছু মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এবং এই ধানগাছগুলো থেকে আর ফলন পাওয়ার কোনো সম্ভবনা নেই।

উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গুঁজিখা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী বলেন, গত একমাসে আগে আমন ধান ক্ষেতে পাতাঝলসানো রোগ দেখা দেয়। রোগ নির্মূলের জন্য কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ধান ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করার কিছুদিন পর ধানগাছের পাতাগুলো মরে শুকিয়ে যায়।

গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান জানান, এ বছর প্রায় ২৫ কাঠা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। কিন্তু পাতাঝলসানো রোগের কারণে প্রায় ১০ কাঠা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। রোগ নির্মূলের জন্য ধান ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করার পরেও কোনো ফল যায়নি।

ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আলতাবুর রহমান  বলেন, ‘পাতাঝলসানো রোগের কারণে ফসলের খুব বেশি ক্ষতি হয় না। এই রোগ দেখা দিলে একটি ধান গাছের ৫% এর মতো ক্ষতি হয়। এতে ফলন বিপর্যয়ের কোনো আশঙ্কা নেই।’

Comments