রংপুর অঞ্চলে বন্যায় ৭৬৫ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

Print Friendly, PDF & Email

রংপুর, ২ সেপ্টেম্বরঃ রংপুর কৃষি অঞ্চলের অধীনে পাঁচটি জেলায় বন্যায় ৮২.৪০৬ হেক্টর জমির ৭৬৫.০৪ কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
অঞ্চলের ৬.০৭ লাখের অধিক সংখ্যক কৃষক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় প্লাবিত জেলগুলো হচ্ছে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী।
অঞ্চলের ৭৯.৭৮৭ হেক্টর জমির ৭০৫.৭৫ কোটি টাকা মূল্যের রোপা আমন ধান নষ্ট হয়েছে। ১৬২ হেক্টর জমির ১০৯ কোটি টাকা মূল্যের আমন বীজতলা, ২৩৯৮.৭ হেক্টর জমির ৫২.৫৭ কোটি টাকার শাকসবজি, ৫ হেক্টর জমির ২৮ লাখ টাকা মূল্যের আদা এবং ৫৪ হেক্টর জমির ১.৩৫ কোটি টাকা মূল্যের কলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সূত্র জানায়, রংপুরে ১.২৬ লাখ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ১৪,৮৯১.৭ হেক্টর জমির ১৪৩.৫৬ কোট টাকার ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। নীলফামারী জেলায় বন্যায় ৮,৩৪০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ১,১০০ হেক্টর জমির ৮.৮৭ কোটি টাকা মূল্যের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় ৩৫,৯০৮.৯ হেক্টর জমির উঠতি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার ২.৪৮ লাখ কৃষকের ৩৩৩.৯৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। লালমনিরহাট জেলায় ১,১০০ হেক্টর জমির ৮.৮৭ কোটি টাকা মূল্যের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় জেলায় ৮,৩৪০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলায় ২.২১ লাখ কৃষকের ২৭৬.২১ কোটি টাকা মূল্যের ৩০,১৭৪.৫০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় জেলায় ৭০৯.৭৫ কোটি টাকা মূল্যের ২.৬৮ লাখ টন আমন ধান, ৫২.৫৭ কোটি টাকা মূল্যের ২.৯৯ লাখ টন শাক-সবজি, ২৮ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫ টন আদা ও ১.৩৫ কোটি টাকা মূল্যের ১৩৫ টন কলা নষ্ট হয়েছে।
ডিএই সূত্র আরো জানায়, বন্যা ৭৯,৭৮৭ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। রংপুর অঞ্চলের অধীনে পাঁচটি জেলায় ৫,৮০,৫৬৭ হেক্টর জমিতে চাষকৃত মোট জমির ১৩.৭৪ শতাংশ জমিতে পুনরায় ধান রোপণ করতে হবে।
অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদেরকে সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন জাতের আমনের বীজ তলা তৈরি করছে।
কর্মসূচির অধীনে রংপুরে তাজহাট কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন জাতের আমনের বীজতলা তৈরি করছেন।
এছাড়া গাইবান্ধা এবং অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে রংপুর কৃষি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
সরকারি কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, ডিএই’র বিশেষজ্ঞগণ, বাংলাদেশ চাল গবেষণা ইনস্টিটিউটের আঞ্চলিক স্টেশন, বাংলাদেশ পারমাণবিক কৃষি ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং কৃষি তথ্য সেবা ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন।
ডিএউ’র রংপুর বিষয়ক উপ-পরিচালক জুলফিকার হায়দার বলেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদেরকে স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বন্যার পানি নেমে যাবার পর জমিতে মাশকলাই ও শাক-সবজির আগাম চাষ এবং পরে সরিষা, শাক-সবজি, আল, গম, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসলের চাষ করার পরামর্শ দেন।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

ছবিঃ প্রথম আলো

Comments