জলবায়ু পরিবর্তনঃ পুরুষরা কর্মহীন, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নারী-শিশুরা

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ৩১ আগস্ট: জলবায়ু পরিবর্তন শুধু পরিবেশের ওপরই প্রভাব ফেলছে না, এ থেকে বেড়ে যাওয়া পানির লবণাক্ততা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। পুষ্টি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এসব অঞ্চলের নারী-শিশুরা। উৎপাদন ক্ষমতা হারাচ্ছে কৃষিজমি। ফলে কর্ম হারিয়ে রাজধানী ঢাকামুখি হতে বাধ্য হচ্ছে সেখানকার পুরুষেরা।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জেন্ডার বিশ্লেষণ: বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা, ঢাকার নবাবাগঞ্জ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় গবেষণা চালিয়ে স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার।

এতে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব অঞ্চলের পানিতে লবণাক্ততা এতোটাই বেড়ে গেছে যে, যার প্রভাবে একদিকে কৃষিজমিগুলো অনাবাদী হয়ে পড়ছে, অন্যদিকে নারী-শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

রঞ্জন কর্মকার বলেন, ‘দেশে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের দিকে এতো নজর দেয়া হচ্ছে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে স্থানীয় পর্যায়ে নারী-শিশুরা যে অপুষ্টিতে ভুগছে সেদিকে সরকারের কোনো দৃষ্টি নেই। গবেষণা অঞ্চলগুলোর পানিতে এভাবে লবণাক্ততা বাড়তে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।’

নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তন রোধের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সরকারকে। নইলে জলবায়ু প্রভাবে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যহীনতায় ভুগবে এ দেশের মানুষ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি ছিলেন না।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কর্মসূচি গ্রুপ ডিরেক্টর উইলফ্রেড শিকুকুলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালনার‌্যাবিলিটি স্টাডিজের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল মতিনসহ গবেষণা দলের সদস্যরা।

সবুজপাতা  প্রতিবেদক 

Comments