অতিবৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতে পচন, দুশ্চিন্তায় কৃষক

Print Friendly

যশোর, ২১ জুলাই: টানা বর্ষণে যশোরে ক্ষেতে পানি জমে পচে যাচ্ছে বেগুন, পটল, করলা, লাউসহ বিভিন্ন সবজি। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সবজি চাষীরা।

কৃষকরা বলছে, বৃষ্টির আগে যে জমি থেকে এক মণ সবজি উঠতো, সেখানে বর্তমানে ১০ কেজিও পাওয়া যাচ্ছে না।

সবজি জোন খ্যাত যশোরের চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর, কাশিমপুর, লেবুতলাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ক্ষেতে হাটু পানি জমেছে। এতে ক্ষেতের সবজি বিবর্ণ আকার ধারণ করেছে। ফলে আগের চেয়ে ফসল কম পাচ্ছেন কৃষকরা।

5Daz2j91D238যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের ফারুক হোসেন জানান, পানি জমে তার পটল ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগে সপ্তাহে তিন মণ পটল তোলা গেলেও বর্তমানে এক মণও পাওয়া যাচ্ছে না। একই এলাকার মোহাম্মদ বাবু ও আব্দুল আলিমও তাদের সবজি ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

যশোর সদর উপজেলার দৌলতদিহি গ্রামের কয়েকজন সবজি চাষী জানান, ক্ষেতে পানি জমে থাকায় ইতোমধ্যে সবজি গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে। একই সাথে কমেছে উৎপাদনও।

চুড়ামনকাটি গ্রামের কয়েকজন সবজি চাষী জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বেগুন, পটল, লাউ, ঢেরস, করলা, ঝাল পচে যাচ্ছে। ঝরে পড়ছে ফুল। ফলে ইতোমধ্যে উৎপাদন কমে গেছে কয়েক গুণ।

যশোর সদরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, দেশের মোট সবজির একটা বড় অংশই যশোরে উৎপাদিত হয়। যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। চলতি মৌসুমেই যশোরের কৃষকরা ব্যাপক হারে সবজি চাষ করেন। কিন্তু দফায় দফায় টানা বর্ষণের কারণে এবার সবজি চাষে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গত কয়েক দিন যশোরে হয়ে যাওয়া টানা বৃষ্টিতে সবজি চাষীষের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এখনো পুরো হিসাব তারা পাননি। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। দ্রুতই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।

এদিকে, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির পর ভারি বর্ষণ, তারপর আবার প্রখর রোদ পড়লে বেগুন, করলা, পটলসহ অন্যান্য সবজি গাছ মারা যেতে পারে। এজন্য চাষীরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments