‘সুন্দরবন ধ্বংস করে উন্নয়ন প্রয়োজন নেই’

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ৭ জুলাইঃ সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘সুন্দরবনকে ক্ষত-বিক্ষত করে এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না। আমাদের উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ সুন্দরবনকে ধ্বংস করে বিদ্যুৎ কিংবা উন্নয়ন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনে অন্য কোথাও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।’

সুন্দরবন রক্ষায় কনভেনশনে শনিবার সকালে নগরীর উমেশচন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। কনভেনশন উদ্বোধন করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন।

কনভেনশন প্রস্তুতি কমটির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদারের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ হারুন চৌধুরী। এ ছাড়াও প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপা’র যুগ্মসম্পাদক শরীফ জামিল এবং বেলা খুলনা’র সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. আব্দুল মতিন, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, সিডিপি’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ জাহাঙ্গীর হাসান মাসুম, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স। কনভেনশন প্রস্তাবনাপর্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আলী আহমেদ, খুবির অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ভুইয়া, যশোরের এ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির আহাদ উদ্দিন হায়দার, ফররুখ হাসান জুয়েল, মঞ্জুরুল আলম, মংলা উপজেলার সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান মো. নূর আলম শেখ, কিশোর রায়, কৃষি জমি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সুশান্ত দাস, মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এম এ সবুর রানা, নিজেরা করির ভূমিহীন সংগঠনের গৌরকিশোর সরদার, আব্দুল হালিম, সৌরভ সমাদ্দার, মো. রাসেল প্রমুখ।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের ভিতরে ও চারপাশে নির্মাণাধীন এবং সকল সরকারি বেসরকারি প্রকল্পসহ যে কোনো ধরনের স্থাপনা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা জরুরী মনে হলে বন থেকে নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তর করতে হবে। অবিলম্বে একটি পরিবেশবান্ধব জাতীয় সুন্দরবন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

আলোচনা শেষে কনভেনশন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট মো. বাবুল হাওলাদার ৪ দফা দাবি সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। ঘোষণায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে একটি সাংস্কৃতিক গণসমাবেশের কথা বলেন।

Comments