লটকনে খুশী নরসিংদীর কৃষক

Print Friendly, PDF & Email

নরসিংদী, ২ জুলাই: ছোট ফলের নানা নাম। পাহাড়িরা ডাকে ডোমর বা ভোগী। সেটাকে শহুরে মানুষরা লটকন বলে চিনে। টক-মিষ্টি এ লটকন ছোট-বড় প্রায় সকলের কাছেই প্রিয়। লটকন চাষ করে হাসি ফিরেছে নরসিংদীর শতাধিক চাষির মুখে। এ বছর জেলার সবচে বেশি লটকনের ফলন হয়েছে জেলার শিবপুর উপজেলার বাঘাব, জয়নগর, যোশর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলেই এটি ভালো জন্মে। থোকা থোকা সোনালি রংয়ের এ ফল খেতে যেমন সুস্বাদু দেখতেও সুন্দর। বর্তমানে এটি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০/৮০ টাকা দরে।

জেলার ৬টি উপজেলার ৪টি উপজেলায় কমবেশি লটকন চাষ হয়। তবে শিবপুরেই লটকন চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলায় এবারও প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। লটকন চাষের জন্য এ উপজেলার মাটি সবচেয়ে বেশি উর্বর বলে কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে।

এ ছাড়া বেলাব, রায়পুরা উপজেলার মরজাল ও মনোহরদী উপজেলার গোতাশিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে এ বছর থেকে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ শুরু হয়েছে।

জেলার কৃষি অফিস জানায়, জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলায় এবার প্রায় ৬শ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হলেও গত বছর হয়েছিল ৫৩৯ হেক্টর জমিতে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ বেশি হয়েছে।

নরসিংদী জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মো. লতাফত হোসেন জানান, এ বছর জেলার শিবপুর, রায়পুরা ও বেলাবতে  ভালো লটকনের ফলন হয়েছে। অধিক পরিমাণে গাছপালা ও ছায়া থাকায় এসব এলাকার মাটি লটকন চাষের জন্য খুবই উপযোগী। অন্য ফসলের চেয়ে লটকন চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় কৃষকরা এ চাষের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছেন। আমরাও তাদের পতিত জমিতে আরো বেশি লটকন চাষ করার জন্য উৎসাহ দিয়ে আসছি।

তিনি আরও জানান, বাড়ির আঙ্গিনা থেকে শুরু করে টিলা টেংগড়ের মতো পতিত জমিতে এ চাষ করা যায়। তবে রমজানে চাহিদা একটু কম থাকায় কৃষকেরা দাম কম পেলেও রমজানের শেষের দিকের ফলগুলোতে কৃষকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী দাম পাবে বলে আশা করা যায়।

শিবপুর উপজেলার মরজাল ও বেলাব উপজেলার নাসিরনগর এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে লটকনের ছড়া। বেশ কয়েকটি গ্রামের চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা বাগনে আসতে শুরু করেছেন। দাম-দরও জানতে চাইছেন। আনেকে কিনছেন তবে রোজার কারণে কেনাবেচায় ভালো চাহিদা নেই।

শিবপুর উপজেলার ভেড়ামারা গ্রামের লটকন বাগানের মালিক বাসু মিয়ার ছেলে বাচ্চু মিয়া জানান, তাদের বাগানে মাঝারি আকারের প্রায় শতাধিক লটকন গাছ রয়েছে। প্রতি বছর ২ লক্ষাধিক টাকা বিক্রি করতে পারেন। অন্যান বছরের তুলনায় এ বছর লটকনের ফলন কম হয়েছে। খড়া মৌসুম থাকায় বৃষ্টির বৈরীতায়  লটকনের ফলন কম হয়েছে কিন্তু তুলনামূলক এটি কম নয়।

ভিটি মরজাল বাজারে ঢাকা থেকে আগত ব্যবসায়ী আনিছ মিয়া বলেন, আমরা এখান থেকে পাইকারি লটকন কিনে থাকি। যা কি না দেশের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন বাজারে খবর নিয়ে জানা গেছে, এশিয়া ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লটকন রপ্তানি হচ্ছে। তবে এটিকে সরকারিভাবে বিশ্ব দরবারে আরো পরিচিতি করার কোনো উদ্যেগ বা প্রয়াস না নেয়ায় চাষী ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা উভয়ই খুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা জানান, এখনও আমাদের দেশের অনেক জেলায় এ ফলটির সঙ্গে মানুষের পরিচয় হয়নি। সরকারিভাবে দেশে বিদেশে সুস্বাদু এই ফলটির গুণাগুণ তুলে ধরে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করলে হয়তো এশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশে আরো বেশি করে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এসব এলাকার কৃষি অর্থনীতির চাকা।

তোফায়েল আহমেদ স্বপন

Comments