খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হলে শান্তি বিনষ্ট হবে

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১০ জুন: ভবিষ্যতে একটি সুস্থ জাতি ও সুস্থ্য প্রজন্ম পেতে হলে আমাদেরকে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকির সৃষ্টি হলে সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি বিঘ্নিত হবে। কিন্তু আমরা একটি বাসযোগ্য নগরী দেখতে চাই।

‘শত কোটি জনের অপার স্বপ্ন, একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’ বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৫ এর এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বন ভবনের হৈমন্তী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোতে সচেতনতার অভাবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে এমন দাবি করা হয়।

সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলার আইনজীবি সৈয়দ আহমেদ কবির, বাপা’র নিরাপদ খাদ্য-পানীয় ও ভোক্তা অধিকার কর্মসূচীর সদস্য সচিব জাহেদুর রহমান এবং ডেবটেক এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফেরদৌসী বেগম।

সৈয়দ আহমেদ কবির তার প্রবন্ধে বলেন, ‘কৃষি জমির অকৃষিজ ব্যবহার রোধ করতে হবে, তা না হলে কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকির সৃষ্টি হবে। এতে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে এবং দরিদ্র্য গ্রামীন জনগোষ্ঠী তার সহায় সম্বল হারিয়ে বিক্ষুব্ধ হবে। এমন কি সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় শান্তি বিঘ্নিত হবে।’

জাহেদুর রহমান তার প্রবন্ধে বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য মাটির গুণাগুণ ঠিক রাখতে হবে এবং নিরাপদ কৃষি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে একটি সুস্থ জাতি ও সুস্থ্য প্রজন্ম পেতে হলে আমাদেরকে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

ড. ফেরদৌসী বেগম তার প্রবন্ধে বলেন, ‘যে নদীকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা গড়ে উঠেছিল, সেই নদীই আজ আমরা দূষণ ও দখলে মেরে ফেলছি। বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো আজ মারাত্মক দখল-দূষণের শিকার। এই নদীগুলোকে যে কোন মূল্যে রক্ষা করে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আমরা একটি বাসযোগ্য নগরী দেখতে চাই।’

এসময় সেমিনারে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেছেন, ‘সভ্যতা ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে, এজন্য সবার আগে প্রয়োজন জনসচেতনতা। তাই ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারলেই পরিবেশ রক্ষা পাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং এজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে, তবে এটা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।’

তাই জনগণকে পরিবেশ বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্ববান হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

প্রাণী সম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কলামিষ্ট ও পরিবেশবিদ সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সবসময়ই সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। তবে উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে পরিবেশের বিষয়টিকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি একদিনে আলোচনা করে সমাধান হবে না, এটা সার্বজনীন ও প্রতি মুহুর্তের বিষয়।

তিনিও পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘একটি বিশ্ব, করি না নিঃস্ব’ এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে যার যার অবস্থানে থেকে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় দক্ষ যুব সমাজ গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), শিসউক, ডেবটেক, ইকো সোসাইটি, বারসিক, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড, ইউনাইটেড পিপলস ট্রাস্ট, পীস, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পউস, চাঁদের কণা, অন্তরঙ্গ শিশু সংগঠন, অগ্র এবং বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন যৌথভাবে এই সেমিনারটির আয়োজন করে।

বাপার সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাসের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচনায় আরো অংশ নেন- শিসউকের নির্বাহী পরিচালক শাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল, ইকো সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক শেখ আরিফ আহমেদ, বাপার যুগ্ম সম্পাদক ড. শহীদুল ইসলাম, ইউনাইটেড পিপলস ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী আলী হাজারী, উবীনিগের ড. সোবহান প্রমুখ।

সবুজপাতা প্রতিবেদক

Comments