৩ হাওরের ধান পানির নিচে, হতাশায় কৃষক

Print Friendly, PDF & Email

মৌলভীবাজার,২৮ এপ্রিল: জেলার তিন হাওরের ৬ হাজার একর জমির কাঁচা-পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলার কাওয়াদিঘি, হাকালুকি ও হাইল হাওরসহ অন্যান্য এলাকা মিলে এবার বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫০ হাজার ৮৮৭ হেক্টর। জমিতে প্রয়োজনীয় পানি, সার প্রয়োগ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভাল হয়ে আবাদ হয়েছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ৫১ হাজার ৪৮৮ হেক্টর জমিতে। কিন্তু কয়েক দিনের শিলা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশিরভাগ ধান।

এ অবস্থায় কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা বাধ্য হয়েই নৌকা দিয়ে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার অন্তেহরী গ্রামের আজাদ মিয়া (৬০), একই এলকার দুর্গা চন্দ্র রায় (২৪) অভিযোগ করেছেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, বিদ্যুৎ অফিসের সমন্বয়হীনতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে কাশেমপুর পাম্প হাউস দিয়ে নিয়মিত পানি নিষ্কাষণ না হওয়ায় কাউয়াদিঘির পানি বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের এমন উদাসীনতায় বোরো মওসুমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন হাওর পাড়ের বোরো চাষিরা।

শুরুতে শিলাবৃষ্টি ও পরে অতিরিক্ত পানি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কাউয়াদিঘির অন্তেহরী, শালকাট্টা, রুকুয়া, কুশুয়া, শেওয়াইজুড়ি, মাছুখালি, শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওর, কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার হাকালুকি হাওরের নিম্নাঞ্চল এলাকার বোরো চাষিরা।

মৌলভীবাজারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম চৌধুরী জানান, জেলার বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে তবে পাম্প হাউস দিয়ে সঠিকভাবে পানি সেচ করা গেলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেত । এরই মধ্যে ৩৫ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তত করা হয়েছে। তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments