উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি চিংড়ি রপ্তানিকারকদের

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ৮ এপ্রিল: দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম খাত হিমায়িত মৎস্য শিল্পে সব ধরনের রপ্তানিতে নগদ সহায়তার ওপর অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন। সেই সঙ্গে আগামী বাজেটে চিংড়ি রপ্তানির ওপর আরোপিত উৎসে কর প্রত্যাহারেরও দাবি জানায় সংগঠনটি।

বুধবার রাজধানীর সেগুন বাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব দাবি জানানো হয়।

অবশ্য এর আগের অর্থবছরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং উৎসকর কমানোর দাবি জানানো হয়েছিল। তবে এবারের প্রত্যাহারের দাবির পেছনে কারণ হিসেবে সংগঠনটির সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন প্রাক-বাজেট আলোচনায় বলেন, ‘কাঁচামাল সঙ্কটের কারণে মাত্র ১৫ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতায় হিমায়িত (চিংড়ি ও মাছ) প্রক্রিয়াজাতকরণে কারখানাগুলো পরিচালিত হয়। ফলে এখন রপ্তানিকারকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ও রপ্তানি বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আর পণ্যে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণে।’

এছাড়া আর্ন্তজাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে রপ্তানিমূল্য হ্রাস পাওয়ায় আমরা কম মূল্যে পণ্য বিক্রী করতে বাধ্য হচ্ছি। তাই দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম এই খাতকে ধরে রাখা ও লাভজনক করার জন্য আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চিংড়ি রপ্তানীতে উৎসকর প্রত্যাহারের দাবি করছেন বলে জানান তিনি।

এস এম আমজাদ হোসেন আরো বলেন, ‘সরকার হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানিতে ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। আর নগদ সহায়তা কোনো লভ্যাংশ নয়। এটা খরচেরই একটি অংশ যা রপ্তানি মূল্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সহায়তা করে থাকে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে ইউরো, রুবল ও ইয়েনের মূল্যস্ফীতি ঘটায় রপ্তানিমূল্য হ্রাসসহ হরতাল-অবরোধে এ শিল্পের রপ্তানি কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই নগদ সহায়তার ওপর যে অগ্রিম আয়কর কর্তন করা হয়, তা বন্ধ করা উচিত।’

আলোচনায় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘যেখানে গার্মেন্টস খাতে রপ্তানির ওপর দশমিক ৩ শতাংশ উৎস কর আদায় করা হয়। সেখানে শতভাগ দেশীয় কৃষিজ কাঁচামালভিত্তিক হিমায়িত মৎস রপ্তানীতে দশমিক ৬ শতাংশ উৎস কর আদায় করাটা বৈষম্যমূলক।’

আজকের আলোচনায় এনবিআরের বিভিন্ন অণুবিভাগের সদস্য, বাজেট প্রণয়ন কমিটির সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও বন্ড সংক্রান্ত রপ্তানি খাতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments