স্ট্রবেরি চাষে ভাগ্য বদল !

Print Friendly, PDF & Email

দিনাজপুর,২৭ মার্চ:  দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার আট দশটি গ্রামের মধ্যে একটি গ্রাম গোন্দল। উপজেলা শহর থেকে মোটর সাইকেলে  ২০-২৫ মিনিটের পথ।  কিন্তু অন্যান্য গ্রামের চেয়ে গ্রামটি একটু ভিন্ন। যে বিষয়টি গ্রামটিকে অন্যান্য গ্রাম থেকে আলাদা করেছে তা হলো স্ট্রবেরি চাষ। অভাব অনটনে ভরা  এ গ্রামের অনেকেরই  ভাগ্য বদলেছে স্ট্রবেরি চাষ।

গোন্দল গ্রামের কালুশাপাড়ার মৃত খগেন্দ্র নাথের ছেলে অমূল্য রায়। পড়াশুনায় মন নেই তাই দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় পাঠ চুকে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার।  মনোনিবেশ করেন কৃষি কাজে। গ্রামের মাটি স্ট্রবেরি চাষে উপযুক্ত তাই  অন্য ফসলের আবাদের চেয়ে লাভজনক হওয়ায় স্ট্রবেরি চাষই শুরু করেন তিনি। এ চাষে  ভাগ্য বদলায় তার। তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি।1427101321

অমূল্য রায় জানান, ধান, গম ও পাটের চেয়ে স্ট্রবেরি চাষ বেশ লাভজনক। এখন এটাই আমার নেশা ও পেশা।স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন বহুব্রীহি থেকে অমূল্য রায় স্ট্রবেরি চাষের জন্য প্রশিক্ষণ নেন। প্রথমে তারা তাকে স্ট্রবেরির চারা সরবরাহ করে।

স্ট্রবেরি চাষের জন্য অমূল্য বাড়ির উত্তর-পূর্ব পাশেই ৩ কাঠার ছোট্ট জমি নির্ধারণ করেন। ধান, গম, পাট, বেগুন ইত্যাদি চাষ হতো এ জমিতে। রোপন করা হয় স্ট্রবেরির চারা। পরিচর্যা নিজেই করেন। চারা গাছের বয়স যখন দেড় মাস তখন থেকে গাছগুলোতে ফুল ধরা শুরু করে। পরে লাল টুকটুক ফল হিসেবে স্ট্রবেরি দেখা দেয়।

এ ফলটি নির্ভেজাল আর শতভাগ ফরমালিনমুক্ত সতেজ অবস্থায় হাতের নাগালেই পাওয়ায় তিনি চাহিদা অনুযায়ী স্ট্রবেরি ক্রেতাদের সরবরাহ করতে পারছে না। অল্প জমিতে, স্বল্প সময়ে ঝুঁকিবিহীন সফল ব্যবসা স্ট্রবেরি চাষ।

এখন প্রতিদিন সকালে অমূল্য রায় স্ট্রবেরি তুলে উপজেলার রাণীরবন্দর সুইহারিবাজার, স্থানীয় এনজিও জেএসকেএস ও খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহির প্যান বাজারে এনে বিক্রি করেন। এতে ক্রেতাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি লেগে যায়।

অমূল্য রায় জানান, চারার বয়স দু’মাস হলে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কেজি স্ট্রবেরি উত্তোলন করা যায়। স্থানীয় বাজারে পাইকারের কাছে দেড়শ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি করছি। জমিতে রোপনকৃত চারার বয়স ৩ মাস চলছে। প্রতিদিন বিক্রি হয় নগদ ৭ থেকে ৮শ টাকা করে। এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছি। আগামী এক মাসে আরো কমপক্ষে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার ফল বিক্রি করা যাবে।

জমিতে চারা রোপন, সেচ, সার ও ঘেরা বাবদ প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এভাবে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ করে ৩ কাঠা জমিতে প্রায় ২০ হাজার টাকা শুধু ফল থেকে আয় আসবে।Strawberry-nest

এছাড়া এই জমিতে আড়াই থেকে ৩ হাজার চারা উৎপন্ন হবে। আমি নিজের চারা রেখেও আরো ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার চারা বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি। এভাবে চার মাসে ৩ কাঠা জমি থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৩২ হাজার টাকা আয় আসবে। এরকম লাভ অন্য ফসল চাষে আসবে কিনা আমার জানা নেই।

ঘোড়াঘাট পৌরসভার চককাঠাল গ্রামের গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি চলতি মৌসুমে চককাঠাল মৌজায় লিজকৃত প্রায় ৩ একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেন। স্ট্রবেরি চাষে উৎপাদন খরচ হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। এতে তার আয় হয় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা। তিনি ২ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে অধিক মুনাফা অর্জন করেছে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন জানান, স্ট্রবেরি অত্যন্ত লাভ জনক অর্থকরী ফসল।এই ফল ২ মাসের মধ্যে ফল উত্তোলন করা যায় এবং বাজারজাত করা যায়।

স্ট্রবেরি দিয়ে জুস, ক্যান্ডি, নানা প্রসাধনী তৈরি সহ না   ষধ তৈরি হয়। উন্নত বিশ্বে এ ফল অধিক পুষ্টিকর ফল ও সুস্বাধু খাবার হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।

সবুজপাতা প্রতিবেদন

Comments