মনপুরায় জোয়ারের পানিতে মারা যাচ্ছে হরিণ

Print Friendly, PDF & Email

ভোলার মনপুরায় বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে ডুবে হরিণ মারা যেতে শুরু করেছে।
গত মাসে উপজেলার ৩নং সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলম বাজার সংলগ্ন বাগানে ১টি হরিণ মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বন-প্রহরীরা মৃত হরিণটিকে উদ্ধার করে মাটি চাপা দেয়।
বিশেষত ভরা কাটালে, জোয়ারের পানিতে যে সমস্ত বনাঞ্চালে হরিণের অবাধ বিচরণ ওই বনাঞ্চলগুলো তলিয়ে যায়। এতে করে হরিণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যহত হচ্ছে বলে ভাবনা স্থানীয় হরিণ প্রেমিকদের।
তারা বলছেন, বন বিভাগ হরিণের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না করায় দিন দিন বনে হরিণের সংখ্যা কমছে। এ পরিস্থিতিতে হরিণ রক্ষায় বন বিভাগকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন বিভাগের দাবি, জোয়ারের পানিতে নয়, বরং লবাণাক্ত পানির কারণে ডায়রিয়ায় মারা যাচ্ছে হরিণ।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ও আলামত সিকদার জানান, গত ২৫ জুন বেড়িবাঁধ ভেঙে মনপুরার ৩ নং সাকুচিয়া ও ৪ নং সাকুচিয়া ইউনিয়নের বন বিভাগের সমস্ত বনাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। তখনও বনাঞ্চলের হরিণ দল বেঁধে আশ্রয়ের সন্ধানে নৌবাহিনীর উঁচু আবাসন প্রকল্পে আশ্রয় নেয়। সংবাদটি জাতীয় পত্রিকাসহ আঞ্চলিক একাধিক পত্রিকায় আসার পরও বন বিভাগ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি এখন পর্যন্ত বন বিভাগ হরিণের রক্ষণাবেক্ষণের কোনো খোঁজ রাখেনি।
জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সময় হরিণের পাল আশ্রয়ের সন্ধানে পানিতে ছুটাছুটি করে। সময়ে সময়ে বেশ কিছু হরিণ পানির তোড়ে ভেসেও যায়। জোয়ারের পানি সরে গেলে সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলম বাজার সংলগ্ন বাগানে বুধবার সকালে একটি হরিণের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বন বিভাগকে খবর দেয়। পরে বনপ্রহরী বাহাদুরসহ কয়েকজন মৃত হরিণটিকে মাটি চাপা দেয়।
তথ্যানুযায়ী, ৭৮ সালের দিকে, সাগরদ্বীপ-নিঝুম দ্বীপে প্রায় ২ জোড়া হরিণ ছাড়া হয় সরকারী উদ্যোগে। সে সংখা এখন ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এই বাড়তি হরিণের বংশ বিস্তার ঘটছে আশে পাশে দ্বীপান্চল গুলোতে। তবে তাদের বিচরনক্ষেত্র গুলো আস্তে আস্তে অরক্ষিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় পরিবেশ পর্যবেক্ষকদের। পরবর্তীতে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে হরিণের বিচরণ ক্ষেত্র।

Comments