সমতলে চা-চাষ !

Print Friendly, PDF & Email

শেরপুর, ৭ মার্চ: কৃষি সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের মাটিতে প্রায় অসম্ভব অনেক ফসল ফলনো সম্ভব হয়েছে। এরমধ্যে পহাড়ি টিলার চা-বাগান উল্লেখযোগ্য। তবে সমতল ভূমিতেও চা চাষ করা হচ্ছে। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের চা-এর সুনাম এখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনুরূপ ভাবে সমতল ভূমিতে চা-চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে শেরপুরের সমতল ভূমিতে।

শেরপুরের গারো পাহাড়ের মাটি চা-চাষের উৎকৃষ্ট হলেও সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে পাহাড়ে চা-চাষে কেউ আগ্রহ উঠেনি। তবে জেলার নকলা উপজেলায় সমতল ভূমিতে চা-চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এখানে কেবলমাত্র শখের বশে সামান্য কিছু চা গাছের চারা রোপন করে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই চারা গাছের ঝলমলে চেহারা দেখা বাণিজ্যিকভাবে চা-চাষের প্রকল্প হাতে নিয়েছে এক যুবক। তিনি দুই একর জমিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার চা-গাছের চারা রোপন করে। বর্তমানে তার বাগানের চা-গাছগুলো বেশ রুষ্টপুষ্ট হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছে তিনি।

জেলার নকলা উপজেলার রামের কন্দি গ্রামের রুকন উদ্দিন সাগর নামে জনৈক ব্যবসায়ী ২০১২ সালে তার বাড়ির আঙিনা এবং কাঠ বাগানের ফাঁকে ফাঁকে এ চা-চাষ শুরু করেছে। শুরুতে তিনি অনেকটা শখের বশে লালমনিরহাট থেকে কয়েকটি চা-গাছের চারা কিনে এনে বাড়ির আঙিনায় রোপন করে। চারগুলো কয়েক মাসের মধ্যেই বেশ মোটাতাজা হওয়ায় তার নেশা চেপে বসে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের বাগান করবেন।

কথামতো কাজ। ছুটে গেলেন পঞ্চগড় জেলায়। সেখান থেকে সাড়ে ৭ হাজার চা-গাছের চারা নিয়ে আসেন। সেইসাথে পঞ্চগড় থেকে চা-চাষের প্রাথমিক ধারণা নিয়ে আসেন। শুরু করেন তার বাগানের কাজ। দেখতে দেখতে দুই বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর তার বাগানের বেশ কিছু চা পাতা দিয়ে পরীক্ষামূলক চা তৈরি করেন এবং তা নিজে পান করেন। তার কাছে আশানুরূপ মনে হওয়ায় জোর দেন এ চা-বাগানের তদারকিতে। দুই জন শ্রমিক রেখে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

রুকন উদ্দিন সাগর জানান, ৫ বছরের পরিপূর্ণ একটি চা-গাছ থেকে চা সংগ্রহ করা যায়। আগামী ৩ বছর পর তার চা-বাগান থেকে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন করার আশা ব্যাক্ত করেন। বর্তমানে তার বাগানে সামন্য কিছু সার ও কীটনাশকের পাশপাশি পানি দিতে হচ্ছে। এ পর্যন্ত তার বাগানে প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সনে বাংলাদেশ চা বোর্ড এই গারো পাহাড় এলাকায় চা চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। এ সময় তারা সিলেটের চায়ের চেয়েও উৎকৃষ্ট মানের চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রিপোর্ট দেন। কিন্তু ওই রিপোর্টের কার্যকারিতা অদ্যাবধি অজ্ঞাত কারণে ফাইলবন্দি হয়ে পরে আছে বলে জানা গেছে।

তবে ওই সময় ঝিনাইগাতি উপজেলার সালমা রাবার প্রকল্পের একটি পাহাড়ি টিলায় শকের বসে জনৈক ব্যক্তি সিলেট থেকে সামান্য কিছু চা গাছ এনে রোপন করলে প্রথম দিকে ওই চা গাছের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে ওই গাছের কোনো পরিচর্যা না করায় গাছগুলো চা উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আজো অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। অথচ গারো পহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় চা চাষ প্রকল্প গ্রহণ করলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিসহ সীমান্ত এলাকার শত শত বেকার ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ব্যাপক কর্মস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক ড. আ. সালাম জানান, নকলার ওই চা প্রকল্পের কথা আমি শুনেছি।  আমি তার চা বাগান পরিদর্শনে যাবো। এছাড়া তিনি ঝিনাইগাতী পাহাড়ি জমিতে চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথাও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রফিক মজিদ, সংবাদকর্মী, শেরপুর

Comments