বন্ধের পথে সাতক্ষীরার হাজারো দুগ্ধ খামার

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারীঃ সাতক্ষীরার দুগ্ধপল্লি হিসেবে পরিচিত জিয়ালা গ্রামের মানুষের মুখে হাসি নেই। ২০-দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ-হরতালে জিয়ালার দুগ্ধ খামারসহ জেলার অন্যান্য খামারের উৎপাদিত দুধ কোথাও তারা পাঠাতে পারছেন না। এতে লোকসানে জেলার খামারগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

অবরোধ-হরতালের জন্য মিল্ক ভিটা ও ব্র্যাকের দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্র অধিকাংশ দিন দুধ কেনা ক্রয় বন্ধ রাখায় ওই খামারগুলো এ সমস্যায় পড়েছে। এ জেলার উৎপাদিত দুধের অর্ধেক (কমপক্ষে ২৫ হাজার লিটার) নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থার ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে দুগ্ধ খামারিরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ১ হাজার ৯৯১টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রতিদিন দুধ উৎপাদিত হয় ৫০ হাজার লিটার। এর মধ্যে জিয়ালা দুগ্ধপল্লিতে ১৩৭টি খামার থেকেই দুধ উৎপাদিত হয় ৭ হাজার লিটার। এসব দুধ প্রতি লিটার বিক্রি হয় ৩১-৪৬ টাকায়।

জেলার আঞ্চলিক দুগ্ধ খামার সমিতির সভাপতি ও দীবস ডেইরি ফার্মের মালিক দীবস ঘোষ জানান, তাঁর খামারে ছোট-বড় ৫৪টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন ১৭টি গাভি দুধ দিচ্ছে ২৮০ লিটার। অবরোধের কারণে বেশির ভাগ দুধ তিনি বিক্রি করতে পারছেন না। কিছু দুধ স্থানীয়ভাবে বিক্রি করছেন ১৫-২০ টাকা দরে। তাও বাকিতে। মিল্ক ভিটা এক দিন দুধ নিলে চার দিন নিচ্ছে না। ব্র্যাক আগের চেয়ে অর্ধেক নিচ্ছে।

sar.16

জিয়ালা গ্রামের অরবিন্দ ঘোষ জানান, প্রতিদিন তাঁর বাড়িতে ২০ কেজি দুধ উৎপাদিত হয়। এই দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে তিনি ঋণের টাকা, সংসার ও গাভি পালন করেন। দুধ বিক্রি না হওয়ায় তাঁর খামার বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।

জিয়ালা দুগ্ধপল্লির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত ঘোষ জানান, তাঁর বাড়িতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। মিল্ক ভিটা যেদিন দুধ না নেয় ওই দিন অনেক দুধ ফেলে দিতে হচ্ছে। গাভির খাবার কমিয়ে দিয়ে দুধ উৎপাদন কমানোর চেষ্টা করছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
সদর উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর ও ফিংড়ি, ধুলিহরে রয়েছে ৫০টি দুগ্ধ খামার। এসব খামারিদের একই অবস্থা।

খামারি আবদুল ওয়াদুদ জানান, তাঁর দুটি গাভি ২৫ লিটার দুধ দেয়। এসব দুধ তিনি প্রতিদিন ১ হাজার টাকা বিক্রি করতেন। বর্তমানে দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। কিন্তু গরুর পেছনে খরচ হচ্ছে গড়ে ৫০০-৬০০ টাকা।

সাতক্ষীরা বেনারপোতা মিল্ক ভিটার দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হামিদ ইসলাম জানান, তাঁরা প্রতিদিন ছয়-সাত হাজার লিটার দুধ কিনতেন। অবরোধে ঢাকা থেকে অধিকাংশ দিন দুধ শীতলীকরণ গাড়ি না আসায় তাঁরা দুধ কিনছেন না।

তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার ব্র্যাকের দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা দবিরউদ্দীন জানান, তাঁরা জেলায় ছয়টি কেন্দ্র থেকে সাড়ে ৯ হাজার লিটার দুধ কিনতেন। অবরোধের পর থেকে ৪-৫ হাজার লিটার দুধ কিনছেন। ঢাকা থেকে অন্যত্র না পাঠাতে পারায় দুধ কেনা কমিয়ে দিতে হয়েছে। খামারিদের কথা ভেবে দুধ কেনা একেবারে বন্ধ না করে অর্ধেক কেনা হচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শিশির কুমার বিশ্বাস জানান, দুগ্ধ খামার মালিকদের খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলায় উৎপাদিত ২৫ হাজার লিটার দুধ বিক্রি করতে পারছেন না খামারিরা। মিল্ক ভিটা, ব্র্যাক ও প্রাণের বাইরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছানা, মাখন, সন্দেশ তৈরি করে জেলার বাইরে পাঠাতেন। অবরোধে তা পারছেন না। ফলে তাঁরাও কিনছেন না। এভাবে চলতে থাকলে লোকসানে সাতক্ষীরার এ শিল্প বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Comments