তিস্তা চুক্তি- সেচ সঙ্কটে বিপাকে পাউবো

Print Friendly, PDF & Email

লালমনিরহাট,৩০ জানুয়ারী: সম্ভাবনা দেখা দিয়েও বারবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি। আর এ চুক্তি বাস্তবায়নে যত দেরি হচ্ছে ততই হাহাকার বাড়ছে তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষের। পানির অভাবে তিস্তা পাড়ের জমিগুলো ধূ-ধূ বালুচরে পরিণত হচ্ছে।

দিন দিন পানি হ্রাস পাওয়ায় গেল বছরের চেয়ে চলতি রবি ও খারিপ-১ মওসুমে তিস্তা ব্যারাজের মাধ্যমে সেচের আওতায় থাকা জমির পরিমান কমানো হচ্ছে। ৩৭ হাজার ৫শত হেক্টর জমি কমিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ২৮ হাজার ৫শত হেক্টরে সেচ দেয়ার। তবে প্রবাহ কম থাকায় চলতি মওসুমের অর্ধেক জমিতেই সেচ দেয়া এখন হয়ে পড়েছে অনিশ্চিত।

সেচ মওসুমে তিস্তা ব্যারাজের ক্যানেলের মাধ্যমে শুধুমাত্র লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা, নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা, সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পানি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পানি কম থাকায় চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো)।

গেল ২১ জানুয়ারি তিস্তা সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর থেকেই দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া অঞ্চলের সেচ ক্যানেলের সুবিধাভোগীরা চাপ সৃষ্টি করছে পানির জন্য। এজন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সেচ ক্যানেলের মাধ্যমে স্বল্প পরিসরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পানি সঙ্কট তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ায় বিপাকে পড়েছে পাউবো কর্তৃপক্ষ।

একাধিক সূত্রমতে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করা হলেও আপাতত তিস্তাপানিবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

এদিকে, ভারত তাদের গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ এলাকায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সেচ কার্যক্রমে তাদের প্রচুর পানির চাহিদার প্রেক্ষিতে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় তিস্তা নদীর ওপর। তবে পানির এ চাহিদার ওপর আবার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে তিস্তামুখে। এর ফলে তিস্তায় যে পরিমাণ পানি সিকিম থেকে নামছে তা অপর্যাপ্ত। এ পানিতে ভারতের ব্যারেজ এলাকায় চাহিদা মতো সেচ দেয়া সম্ভব হয়না। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে তিস্তার পানি পাওয়ার বিষয়টিই এখন বড় প্রশ্ন। এজন্য শুকনো মওসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

পাউবো সূত্রমতে, গেল বছর সেচ নির্ভর রবি ও খরিপ-১ মওসুমে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় ৬৫ হাজার ৫শত হেক্টরে সেচ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু শেষ অবধি পানি সঙ্কটে সেচ প্রদান সম্ভব মাত্র ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। সেচের আওতা থেকে কমিয়ে আনা হয় ৩৭ হাজার ৫শত হেক্টর জমি।

তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মওসুমে তিস্তা ব্যারাজে আনুষ্ঠানিকভাবে গত ২১ জানুয়ারি থেকে সেচ দেয়া শুরু হয়েছে। তবে উজানের প্রবাহ দিন দিন কমে আসায় তিস্তা শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে ব্যারাজের কমান্ড এলাকায় সম্পূরক সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাফিউল বারী আরো বলেন, ‘যেহেতু এখনও তিস্তার পানি চুক্তি হয়নি সেক্ষেত্রে গত বছরের ন্যায় চলতি বছরেও তিস্তার পানির প্রাপ্তিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে এবার রবি ও খরিপ-১ মওসুমে সেচের আওতায় ২৮ হাজার ৫ শত হেক্টর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে।

পানি প্রবাহের তথ্য উল্লেখ করে পাউবো কর্মকর্তা রাফিউল বারী বলেন,‘মঙ্গলবার সকালে তিস্তার প্রবাহ কমে ৭০০ কিউসেকে দাঁড়িয়েছে। এ প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মাত্র ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব হবে।’

সবুজপাতা প্রতিবেদক

Comments