পিপলস ক্লাইমেট মার্চ-বাংলাদেশ

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর: জলবায়ু পরিবর্তন খুব জনপ্রিয় এক শব্দ। জলাবায়ু পরিবর্তন শব্দমালা দিয়ে যত শব্দ উচ্চারিত হয়,তার অনেক গুলোই শেষ মেষ বাংলাদেশকে কেন্দ্র করেই হয়। কেননা, ছোট্ট এক আবাস ভুমি কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের এই আবাস প্রতি নিয়ত বন্যা, জলোচ্ছাস আর ভুমিধ্বসে আক্রান্ত।  কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন মানেই তো আর শুধু বন্যা জলোচ্ছাস নয়। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা আর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ফসল উৎপাদনে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সারা বিশ্বব্যাপী। এর বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঝড় বন্যার মাত্রা বেড়েছে। কানাডা এবং রাশিয়ার বরফ আচ্ছাদিত জনবসতিতে্ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপর চলে যাচ্ছে মাঝে মাঝে।আবার শীতে বরফপাতের রেকর্ড ভাঙছে প্রতিনিয়ত।

৭০ এর দশকের শিল্প বিপ্লব হটাৎ করেই যে পরিমান জ্বালানীর ব্যবহার বাড়িয়েছে,তাতে পৃথিবীর তাপমাত্রা বা জ্বর বাড়ছে হুহু করে। এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত। বলা হয় গত ১৯০০ বছরে পৃথিবী যতটুকু গরম হয়েছে, গত একশ বছরে তার চেয়ে বেশি গরম হয়েছে।

 এসব বিষয় নিয়ে তাই জলবায়ু বিষয়ক আর্ন্তরাষ্ট্রীয় প্যানেল আইপিসি বারংবার সতর্ক আর উন্নত দেশগুলোকে কার্বন ব্যাবহারের মাত্রা কমিয়ে পৃথিবীকে ঠান্ডা করার তাগিদ দিলেও এতদিন পর্যন্ত তাতে কর্ণপাত করেনি সেসব দেশ গুলো,যাদের কারণেই দ্রুত গরম হচ্ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। কিন্তু এখন একটু একটু নড়ে চড়ে বসছে। আগামী বছরের প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনে একটা গ্রহন যোগ্য চুক্তি সম্পাদন করা যায় কিনা,তা নিয়েই চলছে দর কষা-কষি।  জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি কমানো আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্থ দেশ গুলোর ক্ষতি কমিয়ে যায় কিভাবে আলোচনা আর ওয়াদার ফুলঝুড়ি যখন শুরু হয়েছে,তখন ‘কথা বেশি নয়,কাজ’ এই আ্ওয়াজ-ই জোরালো হচ্ছে বিশ্বব্যাপী প্রধানত তরুন সম্প্রদায়ের মধ্যে।

২১ সেপ্টেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলন উপলক্ষে বিশ্বের সব রাষ্ট্রনায়কেরা এখন নিউইয়র্কে। আর রাস্তায় এদিন মাঠে নামবেন প্রায় ১০ লক্ষ তরুন। তারা জলবায়ু ন্যর্যতার দাবীতে পদযাত্রা করবেন। এই পদযাত্রার নাম হয়েছে ‘পিপলস ক্লাইমেট মার্চ’। সারা বিশ্বে যে যেখানে পারছে,এই দাবীর সমর্থনে একই আঙ্গিকে দাবী জানাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। বাংলাদেশে ওয়ার্ক ফর গ্রিন বাংলাদেশ , মাস্তুল, সবুজপাতা, ্ওয়ার্কফর বেটার বাংলাদেশ, এনডিএফ, আচল ট্রাস্ট আর পরিবর্তন চাই এর সেচ্ছাসেবিদের সমন্বয়ে এমনই এক ‘পিপলস ক্লাইমেট মার্চ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে গত কাল। ওয়ার্ক ফর গ্রিন বাংলাদেশ এটির আহবায়ক আর আয়োজনে ছিল মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

পিপলস ক্লাইমেট মার্চ এর বক্তৃতা পর্ব।

পিপলস ক্লাইমেট মার্চ এর বক্তৃতা পর্ব। শুক্রবার সকালে রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সবুজপাতার চেয়ারম্যান সাহেদ আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর যেসব দেশগুলো সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের বিপর্যয়কে কেবল রৈখিকভাবে প্রাধান্য না দিয়ে দেশের সামগ্রিক নগরায়ণ প্রক্রিয়াকে সংযুক্ত করতে হবে। আজ আমরা যারা ধানমন্ডিতে দাড়িয়ে আছি,তাদের কাছে জলবায়ু পরিবর্তনের দুরুত্ব হতে পারে গলাচিপার খেপুপাড়া হতে-ঢাকার দুরত্বের সমতুল্য। কেননা, জোয়ারের পানি আমাদের স্পর্শ করে না, কিন্তু উপকুলীয় বাজার গুলি তলিয়ে যায় ভরা কাটালে। তাই খেপু পাড়ার মানুষের যত কাছে পৌছেছে জলবায়ু দূর্যোগ,আমাদের কাছে অতটা পৌছেনি,তাই আমরা একটু উদাশীন। আর সহস্র মাইল দুরের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের মানুষের কাছে সেই দুরত্ব আরো শত সহস্র মাইল দুরে। তাই আমাদের বিপদ তাদের মাথায় ঢুকে না,ঠিক যেমন খেপুপাড়ার বিপদ আমরা উপলব্দি করতে পারি না। এই অবস্থার পরিবর্তন দরকার। জলবায়ু পরিবর্তন কোন ফ্যাসন নয়,এটি বাস্তবতা,মানতে হবে বিজ্ঞান বিশ্বাস করলে। নাইলে,যখন বাস্তব প্রমান দেখবেন তখন আর এটির ছোবল থেকে বাচার কোন উপায় থাকবে না’

ওয়ার্কস ফর গ্রিন বাংলাদেশের আহ্বায়ক মহি ইউ খান মামুন বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন নীতিমালায় দক্ষিণাঞ্চলীয় হুমকিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষত তরুণদের পরিবেশগত হুমকি মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে।

এর বাইরে ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর সৈয়দ মাহবুবুল আলম, পরিবেশ গবেষক রিসালাত খান  পরিবর্তন চাই এর আহবায়ক ফিদা হক সহ অনন্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে সংক্ষিপ্ত একটি পদযাত্রা হয়, এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশী তরুনদের প্রতিবাদ আয়োজনের প্রতিকী ছবি তোলার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ ক্লাইমেট মার্চ।

ফারিয়া মৌ

গনযোগাযোগের শিক্ষার্থী

Comments