বন্যার আরও অবনতি, পানিবন্দী লাখো মানুষ

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ২৬ আগস্ট: বৃষ্টিআর উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢল—এ দুইয়ের কোনোটি না থামায় দেশেরউত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গতকাল রোববার বন্যার আরও অবনতি হয়েছে। গত একসপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডুবে রয়েছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারীসহকয়েকটি জেলার চর, নদীতীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে রয়েছেলাখ লাখ মানুষ। বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপনকরছে অনেকে। নেই খাবার পানি, পর্যাপ্ত খাদ্য ও জ্বালানি। সঙ্গে যোগ হওয়ানদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা, চাষের জমি, সহায়সম্বল হারিয়ে অসংখ্য মানুষেরঅসহায়ত্ব ক্রমে বেড়েই চলেছে।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাত দিয়েগতকাল বাসস জানায়, বেশির ভাগ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সামান্য অগ্রগতিহয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতিঘটবে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভারী বর্ষণে তিস্তার পানি বেড়েছে। নতুন করেপ্লাবিত হয়েছে উপজেলার দহবন্দ ও শ্রীপুর ইউনিয়ন। এ নিয়ে উপজেলাটির আটটিইউনিয়ন প্লাবিত হলো। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আউয়াল মিয়াজানান, ঘাঘট নদের পানি কমলেও গতকাল তা বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েপ্রবাহিত হয়। তিস্তায় পানি বেড়ে সুন্দরগঞ্জের ভাটি কাপাসিয়া এলাকায়নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
নীলফামারীতে তিস্তার পানি গতকাল বিকেলে কিছুটাকমলেও তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়ায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি সকালে ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েপ্রবাহিত হচ্ছিল। জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। নদীবেষ্টিতডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ রয়েছে পানিবন্দী।
27cda5303135d75a912744e62a41c5f7-27কুড়িগ্রামেব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা কমলেও তিস্তার পানি ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েপ্রবাহিত হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ধরলা ও দুধকুমারের পানি। এদিকেব্রহ্মপুত্র তীরের এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর ওবিস্তীর্ণ ফসলি খেত। পানিবন্দী পরিবারগুলো রয়েছে খাবার, পানি ও জ্বালানিসংকটে। গত আট দিন ধরে জেলার ৫৩টি ইউনিয়নের ২৩৬টি গ্রাম পানির নিচে ডুবেআছে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গতকালনতুন করে পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এ নিয়ে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৪৩টিগ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারেরঅনেকে ঠাঁই নিয়েছে সড়ক, বাঁধ, উঁচু স্থান, কলার ভেলা ও নৌকায়।
শেরপুরেরসদর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় আরও বেড়েছে। সেই সঙ্গেবেড়েছে নদীভাঙন। গতকাল জেলা সদরের কুলুরচর, ব্যাপারীপাড়া, ভাগলদী, চুনিয়ারচর ও ডাকপাড়া গ্রামের আরও ১০টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জশহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে যমুনার পানি সামান্য কমলেও সার্বিক বন্যাপরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। হার্ডপয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১২সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধিঅব্যাহত আছে। জেলায় ৮২টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে দুইলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে রয়েছে।
23flood-bangladesh-slide-BGZI-blog427রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পয়েন্টেপদ্মায় পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েপ্রবাহিত হচ্ছে। পানি বেড়ে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া ওউজানচরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক শ পরিবার। এ ছাড়া ছোটভাকলা ইউনিয়নেরচর বরাট এলাকায় আশ্রয় নেওয়া নদীভাঙা ৩০০ পরিবারের বসতঘরেও পানি উঠেছে।
যমুনায়পানি বৃদ্ধির কারণে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী ও জিয়নপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতিহয়েছে। পানির তোড়ে এসব এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ-ব্যবস্থাও অনেকটাইবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বলেন, এইউনিয়নে অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমির আউশ, আমন ও তিলের ব্যাপক ক্ষতিহয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)আরিচা কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক শাজাহান হোসেন বলেন, যমুনা নদীর আরিচাপয়েন্ট ও এর উজানে গতকাল বিকেলে পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়েপ্রবাহিত হচ্ছিল। আগামী তিন থেকে চার দিন পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।

কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো

Comments