কীটনাশকের ৩০ শতাংশই ভেজাল

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা: ১৯ আগষ্ট:  দেশে বিদ্যমান কীটনাশকের ৩০ শতাংশই ভেজাল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের বিজ্ঞানীদের করা এক গবেষণায় এই চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির পুষ্টি বিষয়ক পরিচালক ও এই গবেষণার প্রধান ড. মনিরুল ইসলাম এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কীটনাশক এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ যা কীটপতঙ্গকে মেরে ফেলতে সহায়তা করে। রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত কীটনাশক মূলতঃ পোকা-মাকড় নির্মূলের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এর প্রয়োগে পোকামাকড়ের ডিম, লার্ভাও বিনাশ ঘটে থাকে। কৃষিক্ষেত্রসহ চিকিৎসা, শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালী কর্মকাণ্ডে প্রয়োগ করা হয়।

ড. মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষি গবেষণা পরিষদের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা তিন বছর ধরে দেশের বাজারে বিদ্যমান কীটনাশক, ছত্রাকনাশক, বালাইনাশকের ওপর এগবেষণা চালিয়েছেন। ড. মনিরুল বলেন, “দেশে বিদ্যমান এই বালাইনাশক গুলোর ৩০ শতাংশে আমরা উল্লেখিত পরিমানের চেয়ে কম কার‌্যকরি উপাদান পেয়েছি। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে  এই পরিমান ছিল শুন্যের কোঠায়।”

কৃষি প্রধান বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পুরণ করতে দেশে বিভিন্ন জাতের উচ্চ ফলনশীল ফসলের চাষ হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষের পাশাপাশি এর থেকে চাহিদানুযায়ী ফলন পেতে এবং রোগ বালাই দমনের জন্য ব্যবহার হচ্ছে অতিমাত্রায় অপরিকল্পিত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক।

 Pesticides 2 ড. মনিরুলের গবেষণায় সঙ্গে বালাইনাশক ব্যবহারকারী কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মিল পাওয়া যায়।

নরসিংদী সদরের বেগুনচাষি মুজিবুর রহমান বলেন, “আগে কীটনাশক ভাল কাজ করতো । কিন্তু এখন আগের মতো কাজ করে না।এগুলোকে হুদাই পানি মনে হয়।” মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার মরিচ চাষি আব্দুল মোমিন, আগের সপ্তাহে একবার ওষুধ দিতাম, তাতেই কাজ হতো। আর এখন সপ্তাহে ৩/৪ দিন দেলও কাজ হয় না।”

ফলে ফসল উৎপাদন খরচ বাড়লেও কমেছে উৎপাদন বলে জানান এই দুই কৃষক। এ বিষয়ে ড. মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে দেশের সাধারণ কৃষকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হলেও পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।”

 তাই এই অসাধুতা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেন তিনি। তাদের এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে অনেকটা একমত পোষণ করলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নাজমুল আহসান।

 তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত বালাইনাশকগুলো যাচাই করি, কোন কারণে উল্লেখিত পরিমানের কার‌্যকরি উপাদান না থাকলে তাৎক্ষনিকভাবে সেই প্রোডাক্ট বাজেয়াপ্ত করি।”

এরপরও যদি তারা অসাধুতা অবলম্বন করে তাহলে তার প্রোডাক্টের নিবন্ধণও বাতিল করে দেই।

ফয়জুল সিদ্দিকী, কৃষি সাংবাদিক

Comments