আজ ১৩ গুন বড় চাঁদ: জরুরী সতর্কতা

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা: ১০ আগষ্ট:  কারো মতে ‘সুপার মুন’ আবার কেউ-বা বলেন, ‘ব্লু মুন’। অনেকেই শুনেছেন বিশাল সে চাঁদের কথা। চন্দ্রপ্রেমীদের জন্য সুখবর। আকাশে আজ দেখা মিলতে পারে তার।  অনেক বেশি নিকটে চলে আসবে চাদ, যাবে বলা হচ্ছে ‘সুপার মুন’। অন্যান্য রাতের চেয়ে আজ রাতের চাঁদ ১৩% বেশি বড় এবং ৩০% বেশী উজ্জ্বল দেখাবে (যদি আকাশে মেঘ না থাকে এবং আপনি তা দেখতে পারেন)।

রুপকথা অনুসারে প্রতি ১২ মাসে ১২ পূর্ণ চাঁদ দেখা যায়। আর ১৩তম পূর্ণচাঁদটিই হচ্ছে নীল চাঁদ বা সুপার মুন। রঙ নীল না হলেও চারপাশের পরিবেশের কারণে চাঁদের রঙ নীল দেখা যায়। সুপার মুন রোমান্টিকতায় পরিপূর্ন হয়ে উঠতে পারে কারো কারো কাছে, আবার এটা বিপর্যয় ও ডেকে আনতে পারে কোন কোন জনপদে। বিশেষত উপকুলীয় জনপদে।

সুপার মুনের কারণে জোয়ারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। ছবি-লেখক

সুপার মুনের কারণে জোয়ারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে। ছবি-লেখক

সুপার মুনের সময় চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে (৩,৫৬,৮৯৬ কিমি) থাকার কারণে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে দেড় মিটার বেশি থাকবে। বোঝার ওপর শাকের আঁটি হিসেবে এখন বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপও অবস্থান করছে। ফলে জোয়ারের পানি আরো ফুলে উঠে এবং জোয়ারের গতি আরো বৃদ্ধি পেয়ে উপকূল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে বাংলাদেশের সমূদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে লোকালয় গুলোতে সমূদ্রের লোনা পানি ঢুকে যেতে পারে। এর ফলে উপকূলীয় চিংড়ি ঘের, লবনচাষ শিল্প, বসতবাড়ী, চাষের জমি এবং মৎসশিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

গত ১২ জুলাই ২০১৪ তারিখেও সুপার মুন ছিলো। সেদিন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের কারণে উপকূলীয় অনেক এলাকাতেই বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে গিয়েছিলো। কোথাও বা উপকূলের ক্ষয় সাধন হয়েছে।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গত ১২ জুলাই সুপার মুন পূর্নিমার সময় মেঘনা নদীতে অতিরিক্ত উচ্চতার জোয়ারের চাপে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গেছে এবং তীব্র স্রোতে প্রবেশ করা পানিতে তলিয়ে গেছে ধনিয়া ইউনিয়নের ৯ টি গ্রাম, পানিবন্দি হয়েছে কয়েক’শ পরিবার। টেকনাফের শাহপরী দ্বীপের বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ভেতরে ঢোকার ফলে উপজেলার বেশ কতগুলো ইউনিয়নের বসতবাড়ী, ফসলী জমি এবং চিংড়ী ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পটুয়াখালী জেলায় কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়ানের চারিপাড়া বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে ১৩ টি গ্রাম তলিয়ে গেছে; ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বসতবাড়ী ও ফসলী জমি। এমন কী মোড়েলগঞ্জ পৌরসভা শহরেও জোয়ারের পানি ঢুকে শহরের অংশবিশেষ ডুবিয়ে দিয়েছে।

আজ যদি উপকূলীয় বাঁধের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ সতর্ক না থাকেন তাহলে আরো খারাপভাবে জোয়ারের পানি লোকালয় এবং ফসলী জমি প্লবিত করে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ১২ জুলাই এর চেয়েও বাড়িয়ে দেবে। সেই সাথে উপকূল এলাকায় থাকা মানুষকেও সতর্ক থকতে হবে যেন এই অতিরিক্ত উচ্চতার ও গতির জোয়ার তাদের জীবন ও জীবিকার ক্ষতি না করতে পারে।

পরবর্তী সুপার মুন কিন্তু আগামী মাসেই; সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখে। সেইদিনের জন্যও এই একই সতর্কতা বার্তা।

তথ্য : এ কে এম অহিদুজ্জামান

        ভূগোল ও পরিবেশ গবেষক

Comments