সরকারকে সমুদ্র কমিশন গঠনের পরামর্শ দিয়েছে পবা

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ২৩ জুলাই: পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুস সোবহান বলেছেন, সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদ জরিপ, গবেষণা, অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিকল্পিত ব্যবহার এবং পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি। এসব কার্যক্রম সমন্বয় ও মনিটর করা এবং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে সরকারি নীতি প্রণয়নের লক্ষে জাতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সমুদ্র কমিশন
গঠন করতে হবে।

মঙ্গলবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনায় করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রবন্ধের আলোকে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন পবা নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুস সোবহান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তির ফলে বাংলাদেশ বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলের সম্পদের ওপর একচ্ছত্র অধিকার পেয়েছে। যা এদেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সমুদ্র সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারকে নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের পথকে সুগম করেছে।

বঙ্গোপসাগর অববাহিকায় চারশত মিলিয়নের বেশি মানুষimages (2) বসবাস করে। এসব মানুষ তাদের খাদ্য, জীবিকা ও নিরাপত্তার জন্য উপকুলীয় ও সামুদ্রিক সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। বঙ্গোপসাগর ইকোসিস্টেমকে যে সব বিষয় প্রভাবিত করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে – আন্তসীমানা বিষয়, মৎস্য সম্পদের মাত্রাতিরিক্ত আহরণ, গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থলের অবনতি, দূষণ ও পানির মান।

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে ২০১২ সালের ১৪ মার্চ সমুদ্রসীমা বিরোধের এবং স্থায়ী সালিশী আদালতে ( পারমানেন্ট কোর্ট অব আরবিস্ট্রেশন- পিসিএ) বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধের গত ৭ জুলাই রায় হয়।  ফলে বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র অঞ্চল, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে ১২ নটিক্যাল মাইলের রাষ্ট্রাধীন সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একচ্ছত্র অর্থনেতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকুল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানে অবস্থিত সব প্রাণিজ ও খনিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় দেশের সামুদ্রিক মানচিত্র প্রণয়নের পাশাপাশি সম্পদ আহরণ ও সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কিছু হুমকি ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

২১ শতকের সামুদ্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলো হলো- সামুদ্রিক সীমানা বিরোধ, আন্তঃরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব, জলদস্যুতা, সামুদ্রিক সন্ত্রাসবাদ, অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য, মানব পাচার, সামুদ্রিক দূষণ, সমুদ্রে যোগাযোগ সুরক্ষা, সমুদ্রবাহিত বাণিজ্য, মাদক পাচার, সামুদ্রিক সহযোগিতা, সামুদ্রিক অনুসন্ধান ও রেসকিউ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন।

সমুদ্রের বিশাল জলরাশি এবং এর তলদেশের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সমুদ্র সম্পদের নিরবimagesচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা প্রথম বাধা অতিক্রম করেছি। পরবর্তী ধাপ হচ্ছে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও তা সুরক্ষা করা। বঙ্গোপসাগর সম্পদে পরিপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন- গ্যাস, তেল ও খনিজ সম্পদ রয়েছে। সমুদ্রের লোনা পানি হতে লবন উৎপাদন ছাড়াও আমাদের সমুদ্র সৈকতে প্রাপ্য। খনিজ সম্পদ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপশি রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনা উম্মোচন করবে। শতকরা ৯০ ভাগ বাণিজ্য সমুদ্র পথে হয়ে থাকে। এছাড়া বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্র স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব কারণে বঙ্গোপসাগর অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্র অঞ্চল ও এর পরিবেশ রক্ষা এবং সম্পদের টেকসই আহরণের জন্য একটি বহুমুখী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

Comments