মোদি’র নদী সংযোগ : বাংলাদেশের উদ্বেগ

Print Friendly

ঢাকা: ১৬ জুলাই : আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে ভারতের মোদি সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভায় এসব পরামর্শ দেওয়া হয়।সভা শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সভাপতি রমেশ চন্দ্র সেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভারতের লোকসভায় সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটে আন্তনদী সংযোগ প্রকল্পে ১০০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

River Linking

সে দেশের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির প্রস্তাবে ৯ জুলাই প্রস্তাবিত বাজেটে প্রকল্পটির জন্য এই বরাদ্দ রাখা হয়। তিনি জানান, বহুল আলোচিত এ আন্তনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে আগে থেকেই বাংলাদেশের পরিবেশবিদেরা আন্দোলন করে আসছিলেন। প্রকল্পটিতে নতুন করে এ অর্থ বরাদ্দ আসলে কী সংকেত দেয়, তা নিয়ে পরিবেশবিদেরাও শঙ্কিত। কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাই কমিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে ভারত সরকারের মনোভাব জানতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রমেশ চন্দ্র সেন বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে অবিস্বাক্ষর হয়ে আছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই সেই চুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি। চুক্তি হলে ভালো হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় আন্তঃনদী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নদী ড্রেজিংয়ে নিজেদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এর আগে আমরা ৩ দিনের সফরে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা পরিদর্শন করে এসেছি। পরিদর্শনকালে প্রতীয়মান হয়েছে যে গড়াই নদী হতে পদ্মা ব্রিজ পর্যন্ত যথাযথভাবে ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হয়নি। এখানে কিছু অনিয়ম হয়েছে। পদ্মা থেকে গড়াই নদী পর্যন্ত মাত্র ৩/৪ কিলোমিটার নৌ পথ রয়েছে। এটা ঠিকমতো ড্রেজিং করা হলে নৌ পথ রক্ষা পাবে। তাই কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে যেন এ এলাকায় সব সময় ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু রাখা হয়। কালনী কুশিয়ারা বর্তমানে হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে বলেও জানান সভাপতি। তিনি এজন্য ড্রেজিং প্রকল্পকেই দায়ী করেন। এছাড়া বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক কর্মকান্ডকেও দায়ী করেন তিনি।

এদিকে বৈঠকে পাবনা জেলার গাজনার বিল সংযোগ নদী খনন, সেচ সুবিধা উন্নয়ন ও মৎস্য চাষ শীর্ষক প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পেশ ও আলোচনা করা হয়। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পেশ ও আলোচনা করা হয়। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করে কমিটি।

নিজস্ব প্রতিবেদন

Comments