তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ১৬ জুলাই: উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার সকালের পর তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট।

এদিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তা নদীর সংলগ্ন বাইশপুকুর চর গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার সহস্রাধিক পরিবারের বাড়িঘর হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। গত ১৭ দিনের মধ্যে তিস্তার পানি বেড়ে চার দফা বন্যায় হতদরিদ্র মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছে। পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রামে ৪টি রাস্তা ভেঙ্গে পড়ায় স্থানীয় লোকজনের বসতভিটা থেকে বন্যার পানি নামছে না।

এসব এলাকায় বসবাসরতদের নিরাপদ পানি ও শুকনো খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় জনপ্রতিনিধিরা সাহায্য প্রদান করতে পারছে না।

downloadউজানের ঢলে তিস্তা অববাহিকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাঁপানী, জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী, কৈমারী এলাকার চরগ্রামগুলোতে পানি উঠেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিস্তার ডালিয়া বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, উজা নে ঢলে তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে বুধবার সকালের পর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বর্ষণ ও উজানে ঢলে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে সর্বপ্রথম গত ৩০ জুন তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ২৪ ঘণ্টা পর নিচে নেমে আসে। আট দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ৯ জুলাই তিস্তার পানি বিপৎসীমা ৬ সেন্টিমিটার ও ১৪ জুলাই ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

Comments