৫’শ গাছের ৪’শ তেই পেরেক সাটানো বিজ্ঞাপন!

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ২৮ জুন: খামার বাড়ী থেকে আউডিবি ভবন পর্যন্ত রাস্তার ২ ধারে গাছের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। এর মধ্য প্রায় ৪০০ গাছেই আছে তারকাটা আর পেরেক দিয়ে সাটানো বিজ্ঞাপন। সবুজের সেচ্ছাসেবক হিসেবে প্রায় শতাধিক শিক্ষাথী সেসব গাছের বেশিরভাগ থেকে দড়ি আর পেরেক উঠিয়ে  বিজ্ঞাপন অপসারণ করেছে । শুধু তাই নয়, তারা সেসব গাছের গায়ে ‘এ গাছ আজ থেকে বিজ্ঞাপন মুক্ত’ লেখা সম্বলিত সবুজ ফিতা পরিয়ে দিয়েছে। সবুজের প্রতি দায়িত্ববোধ আর ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে ‘গাছেরও আছে প্রাণ, ব্যথার অনুভূতি তারও সমান’ –এমন ব্যানার নিয়ে পথচারীদের সচেতনও করেছে।

তারুন্য মনে সবুজ আর পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ সৃষ্টিতে কাজ করে এমন সংগঠন সবুজপাতার উদ্যোগে  এটি ছিল দ্বিত্বীয় ‘Free A Tree’  নামক অভিযান,যাতে অংশ নেয় শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শ্যামলীস্থ আশা বিশ্ববিদ্যালয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি আর শেওড়া পাড়াস্থ গ্রীন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আর শিক্ষকবৃন্দ। ৫/৬ টি দলে ভাগ হয়ে  তারা, শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ১১ টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে শেরেবাংলা নগরের আওতাধীন বিজয় স্মরণী, খামারবাড়ি, আগারগাঁও, তালতলা এবং শেরেবাংলা নগর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার গাছ গুলো থেকে তারকাঁটাবিদ্ধ বিজ্ঞাপন অপসারণ করে।

Ad 2

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন ধানমন্ডি লেকের আশপাশের রাস্তার গাছগুলোতে থাকা পেরেক আর তারকাঁটাবিদ্ধ বিজ্ঞাপন  অপসারণের কাজ শুরু  করেছিলেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, যারা কিনা ধানমন্ডিতে অবস্থিত নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকে সমবেত হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো চলে তাদের এ কার্যক্রম। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থী সবুজ কার্যক্রমের সঙ্গে সারা জীবন কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

 আয়োজক দের তরফে সবুজপাতার উদ্যোক্তা সাহেদ আলম জানান, পরিবেশবাদী বলে কোন আলাদা শব্দ নেই। যেই দেশের ১৬ কোটি নাগরিকের ৭০ ভাগই তরুন। তাদের মনে যদি সবুজের প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত করা যায়,তাহলে এরা সবাই তাদের ভবিষ্যত কর্মজীবনে পরিবেশের সুরক্ষাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। কেননা, তারাই একদিন শিল্পপতি, উদ্ভাবক, গবেষক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, কিংবা নীতি নির্ধারক হবেন। যখন,তাদের কাছে দেশ গঠনের দায়িত্ব আসবে,মনে সবুজ প্রেম থাকলে পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে এমন সকল কর্মকান্ড তারা পরিহার করে চলবেন এবং সবুজ সম্প্রসারণে তারা ভুমিকা রাখবেন। তাই তারুন্য মনে সবুজ প্রেম কে জাগিয়ে তোলাটাই সবচে বড় পরিবেশ আন্দোলন। সেটার অংশ হিসেবে আমরা বলছি গাছের প্রতি যত্নবান হ্ওয়ার কথা। আজ যারা গাছের প্রতি মমত্ব দেখালেন তারা আসলে একেক জন ভবিষ্যত পরিবেশের কর্মী।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সেক্রেটারী ডা. এম এ মতিন উপস্থিত থেকে তরুনদের আরো পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হ্ওয়ার পরামর্শ দেন। বলেন তারা দীর্ঘ ১ যুগের বেশি মাঠে পরিবেশের জন্য কাজ করছেন, তবে এই যে তরুন সমাজ একত্রিত হচ্ছে নানা কাজের মধ্য দিয়ে, তাতে আমরা সিনিয়র নাগরিকেরা ভরসা পাই। এই দেশে পরিবেশের যত্নকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই তারুন্যকে এবং এই গাছ থেকে বিজ্ঞাপন অপসারনের উদ্যোগতে সাধুবাদ জানান তিনি।

10369085_463574057119500_7271752007101216712_o

অভিযান শেষে সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাপা এবং সবুজপাতার পক্ষ থেকে স্বীকৃতি সরূপ অংশগ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।

সবুজপাতা আর বাপা ছাড়া্ও, ব্যাংকারদের সংগঠন ফ্রি-দ্য-ট্রি, মাস্তুল ফাউন্ডেশন, হিমু পরিবহন, পরিবর্তন চাই সহ বেশ কিছু ফেসবুক ভিত্তিক সংগঠন মিলে পরিচালিত হয়েছে এ কাজ। যা ঈদের পরে ঢাকার আরো অনেক জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলমান থাকবে বলা জানানো হয়েছে আয়োজক দের তরফে।

রফিকুল ইসলাম রবি

শিক্ষার্থী, শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

Comments