আষাঢ়ের শুরু, যবনিকা তাপদাহের

Print Friendly, PDF & Email

সবুজপাতা ডেস্ক, ১৫ জুন: আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে গ্রীষ্মের দাবদহ ও ভ্যাপসা গরম প্রশমনের প্রাণষ্পর্শী বর্ষাঋতুর প্রথম দিন। আবহমান কাল ধরে বাঙালির জীবন, পরিবেশ, কৃষ্টি, সামাজিকতা, আনন্দ-বেদনা, চলন-বলন, গান, উৎসব, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ঘিরে বর্ষা আলোকবর্তিকা হিসেবেই সমাদৃত। সার্বিক বোধন আর আরাধনায় আষাঢ়-শ্রাবণের বর্ষকাল বাঙালিকে আবিষ্ট করে রেখেছে।

এজন্যই বর্ষার আগমনের সূচনালগ্নে আষাঢ়ের প্রথম দিনটিকে বরণ করে নিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র বিভিন্ন সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আদিকাল থেকে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় বর্ষাঋতু নিয়ে রয়েছে উচ্ছ্বসিত বন্দনা, অনুরাগ ও স্তুতি। রহস্যময়ী এ বর্ষার রূপ, বৈচিত্র্য, চমক, বর্ণচ্ছটা এবং আকাশ- প্রকৃতির গভীর মিতালী শিল্প-সাহিত্যের সরস উপকরণ হিসেবে আবহমানকাল থেকেই অনুপ্রাণিত ও স্পন্দিত করছে শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের।
Captureকবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সাহিত্যসহ সব ধরনের সাহিত্যকর্মে বর্ষা স্থান পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্বকবির কাছে প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। তাই তার বিভিন্ন গানে প্রজ্জ্বোল হয়ে উঠে এসেছে মেঘ-মেদুর বর্ষার রূপ ঐশ্বর্যের শিল্পিত বর্ণনা। তিনি লিখেছেন- ‘বজ্র মানিক দিয়ে গাঁথা, আষাঢ় তোমার মালা/ তোমার শ্যামল শোভা বুকে বিদ্যুতেরই জ্বালা ॥/ তোমার মন্ত্রবলে পাষাণ গলে, ফসল ফলে/ মরু বহে আনে তোমার পায়ে ফলের ডালা ॥…’ অথবা ‘বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,/ আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,/ কালি-মাখা মেঘে ওপারে আঁধার ঘনিয়েছে দেখ্ চাহি রে।/ ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে…’/ অথবা ’বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল।’

নিজস্ব প্রতিবেদন

Comments