বিটি বেগুন: অর্ধেকের বেশী ক্ষেতে মড়ক!

Print Friendly

ঢাকা,১০ জুন: অনেক বিতর্কের মধ্যে বিটি বেগুনের চাষ শুরু হলেও দেশের প্রায় অর্ধেকের বেশী বিটি বেগুন ক্ষেতে মড়ক ধরেছে। গত জানুয়ারি মাসে সারাদেশের চার অঞ্চলের ২০ জন কৃষক বিটি বেগুনের প্রাথমিক চাষ শুরু করে। যার চারা সরবরাহ করে দেশের শীর্ষ স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। কিন্তু বিটি বেগুন ক্ষেতগুলোতে মড়ক ধরায় চাষিরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদেরই একজন গাজীপুরের কালিগঞ্জ উপজেলার মজিবর রহমান। তিনি প্রায় দেড় বিঘা জমিতে বিটি বেগুনের চাষ করেছিলেন। সরেজমিনে দেখা যায়, তার এই ক্ষেতে মড়ক ধরেছে। মারা গেছে সব গাছ।তিনি বলেন, তার এই ক্ষেতের বেগুন গাছ গুলো ফল আসার আগেই মরে যাওয়া শুরু করে।

ছবিঃদ্য গার্ডিয়ান এর সৌজন্যে

ছবিঃদ্য গার্ডিয়ান এর সৌজন্যে

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এই মাঠ থেকে প্রত্যেক বছর এক লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করতাম। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তার কথা শুনে বিপদে পড়েছ্ এক টাকারও বেগুন বিক্রি করতে পারি নাই।জামালুরের কৃষক বাবুল খান বিটি বেগুন ক্ষেতে মড়ক ধরায় রাগে অভিমানে সেই ক্ষেত চাষ করে নতুন ফসল চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন।  তিনি বলেন, ফুল আসার পরপরই গাছ গুলো মারা যেতে শুরু করে। এবং ফল ধরার আগেই পুরো গাছ মরে যায়।

 এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স এন্ড প্লান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক এম এ খালেক মিয়া বলেন, এই বিটি বেগুন জাতগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ উপযোগি হওয়ার আগেই হওয়ার আগেই তড়িঘড়ি করে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। তাই এই অবস্থা।  তিনি দাবি করেন, শুধু বিটি এবং নন বিটি পার্থক্য থাকলে অন্য দেশী জাতের বেগুন গাছ গুলো যেমন সতেজ আছে এবং ভালো ফলন দিচ্ছে, ঠিক তেমনি থাকতো বিটি জাত গুলো।

তবে এবিষয়টিকে উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম মন্ডল।তার দাবি ঠিক সময়ে মাঠে এই জাতের বেগুন লাগানো হয় নি। কিন্তু একজন বিজ্ঞানী হিসেবে এখন কেন এমন কথা বলছেন এমন প্রশ্নের কোন সঠিক জবাব দিতে পারেন নি তিনি।

তিনি বলেন, বেগুনে পোকা ধরছে না। এবং এটাই আমরা চেয়েছিলাম। গাছ গুলো মরছে ফিউজারিয়াম উইল্ট নামক রোগে। এটি একটি ছত্রাক জনিত রোগ। কাজেই বিটি বেগুন বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগি নয় এমটা ঠিক না।

 ফয়জুল সিদ্দিকী, সংবাদ কর্মী

Comments