তুরাগ দখলমুক্ত করতে ১ টি ড্রেজার!

Print Friendly, PDF & Email

 ঢাকা;১৫ মে:  বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের তরফে ২ দিন ব্যাপী  তুরাগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষনা দিয়ে মাঠে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিনের চিত্রে অভিযানের যন্ত্রপাতি,লোকবল আর ব্যবস্থাপনা সিদ্ধান্তে হাস্যরস সৃষ্টি হয়েছে। এই তুরাগ দখল যেন লোক দেখানো না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে টানা অভিযানের দাবীতে  বাপা, সুবজপাতা, আর তুরাগ রক্ষা আন্দোলনের তরুণেরা পরিবেশ অধিদপ্তরের শুনানীতে দাবী জানিয়েছিল গত সপ্তাহে। সেখানে কোথায় কিভাবে তুরাগে দখল হচ্ছে তার ছবিসহ নমুনা সরবারহ করা হয়েছিল।

5

প্রথম দিনে, ১ টি মাত্র অপসারন যন্ত্র, কয়েক জন শ্রমিক এবং ছোট্ট একটি নৌকা নিয়ে যে অভিযান পরচালিত হয়েছে , তা হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। কেননা, দখলকারীরা অনেক বেশি এগিয়ে সরকারী এ উদ্ধার অভিযানের যন্ত্রপাতি আর জনবলের দিক দিয়ে।  শুধু কয়েকটি জায়গা নদীর সর্বশেষ নির্মিত পিলার থেকে অভ্যন্তরে  স্থাপনা আছে এমন কয়েকটি জায়গায় দেয়াল ভাঙার কাজ শুরু করলেও যারা আইন অমান্য করে দখল চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের আইনের আ্ওতায় আনা হবে কি হবে না তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পা্ওয়া যায়, অভিযান পরিচালনা কারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বনাম গাজীপুর রেন্জ এর পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

 এর বাইরে, আগে থেকে স্থান পরিদর্শন করে কোথা থেকে কাজ শুরু করা হবে সেই পরিকল্পনা না থাকায়, গাবতলী থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর কথা  থাকলেও জায়গা পরিবর্তন করে কর্মকর্তারা।  ,পরিবর্তিত জায়গার খবর না জানতে পেরে গনমাধ্যম কর্মীদের অনেকেই ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘদিন বিরতি দিয়ে তুরাগে অভিযান চালানো হলো সরকারের তরফ থেকে। গত কয়েক বছরের মধ্যে বিশেষত নদীর সীমা পিলার ঠিক করার কাজে হাত দেয়ার পর, তুরাগ পাড়ের জলাভুমি ও পানি প্রবাহের জায়গা ভরাট করার হিড়িক পড়ে গেছে তুরাগ এলাকায়। গাবতলী থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ২৩ কিলো জায়গায় ১০৯টি ছোট বড় স্থাপনা গড়ে উঠেছে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে। আমাদের সরজমিন পর্যবেক্ষনে সেসব জায়গার যেসব চিত্র উঠে এসেছে তার তালিকা টা নিন্মে দেয়া হলো:

যেসব স্থানে তুরাগ রক্ষা জরুরী ভিত্তিতে অভিযান চালানো প্রয়োজন:

১. আশুলিয়া ব্রিজের উত্তর- পশ্চিম পাশের দখল. ২.  আশুলিয়া ব্রিজের উত্তর- পূর্ব পাশে প্রস্তাবিত ক্যামবিয়ান টেলিভিশন, কলেজ, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়ে  জন্য বালি ভরাট। ৩. আশুলিয়া সেতুর কাছে নদীর উত্তর পাড়ে গ্যালাক্সি/এনোটেক্স কারখানা ৪. বিশাল জায়গা দখল দেওয়াল তোল হয়েছে। ভাদাম,গাজীপুর, ঢাকা। ৫. বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের  রেডিমিক্স কারখানা কিংকার/রিমিক্স কারখানা রেডিমিক্স কারখানা  মীর আকতার লিমিটেড, সেভেন রিং, ডোমিনিও, এডিএফ প্রভৃতি জলাধার ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করছে। ৬. উত্তরা ভিউ হাউজিং নদীর তীরে জমি বালি দ্বারা ভরাট করছে। সাভার, ঢাকা ৭. বিরুলিয়া গ্রামের বিভিন্ন অংশে তুরাগ নদী দখল ৮. তুরাগ নদীর তীর ভরাট করে বালির ব্যবসা। ৯. টঙ্গী এলাকার বিভিন্ন সুয়্যারেজ লাইন।

 2তুরাগ নদী পরিদর্শনে প্রাপ্ত তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:

(১). দখল-দূষণের সর্বমোট স্থান চিহ্নিত হয়েছে: ১০৯টি। এর মধ্যে দখল-দূষণের ৭৭টি (৭০.৬৪%) স্থান ঢাকার মিরপুর, আশুলিয়া ও উত্তরা এলাকায় এবং বাকী ৩২টি (২৯.৩৬%) স্থান নদীর অপর পাড় অর্থাৎ সাভার, জয়দেবপুর ও টঙ্গী এলাকাধীন।

(২). দখল-দূষণ অবকাঠামোর মধ্যে দখলি স্থাপনা হচ্ছে: ৯৭টি, দূষন বহনকারী বড় ড্রেণ-স্থাপনা রয়েছে ১২টি, আর বাসা কারখানা-বাড়ী-বাজার-শিালয়-ভাসমান পল্টুন ইত্যাদির ছোট-বড় ড্রেণ অসংখ্য।

(৩). নদীর জমি দখলদারদের মধ্যে বালু-মাটি ভরাট (৪১টি, নতুন ও মূলত: হাউজিং বা বালুর ব্যবসা), ফ্যাক্টরি (১১), বাড়ী-ঘর, টঙ ঘর, রেষ্টুরেন্ট, বিদ্যালয়, মসজিদ, বাজার, হাসপাতাল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার, মাছের হ্যাচারি, কাঠের আড়ৎ, বালু নামানোর জন্য ভাসমান স্টেশন, বালু-মাটি টানার ড্রেজিং পাইপ ইত্যাদি।

 (৪). পূরো নদী জুড়েই তার পানির রং ঘন কালো ও দূষক পদার্থ মিশ্রিত। এর সিংহভাগ এর উৎস হচ্ছে সরকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পৌর প্রশাসন (ঢাকা, উত্তরা, টঙ্গী) এবং কিছু বেসরকারী শিল্পকারখানা। তাছাড়াও নদীর পাড়ের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, বাড়ী-ঘর, বাসা, পানি ও বর্জ্য ড্রেণগুলো প্রকাশ্যে বা গোপনে, সরাসরি বা পরোভাবে নদীর সাথে যুক্ত রয়েছে।

(৫). ইতোপূর্বে বাপা’র অন্য একটি সমীক্ষায় জানানো হয়েছিল যে, মাননীয় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তুরাগ নদীর সীমানা চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পোঁতা প্রায় হাজার দুয়েক খুঁটির মধ্যে মাত্র ২৯টি (১.৪৫%) সঠিক স্থানে ও বাকী সবগুলো (৯৮.৫৫%) নদীর সীমানার ভিতরে বসানো হয়েছে। এবারের পরিদর্শনের সময় দেখা গেল একটি বিশাল সংখ্যার খুঁটি অযত্নে, অবহেলায় বিপর্যস্ত-আংশিক বা পূরো ভাঙ্গা, অনেকগুলো নিঃশ্চিহ্ন হয়ে গেছে

 তথ্যও ছবি: সেভ তুরাগ রিভার

Comments