ধানমন্ডি মাঠ; নষ্ট খেলা বনাম প্রকৌশলী আটক

Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১২ মে:  ধানমন্ডি ক্লাব কর্তৃপক্ষের এক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রকৌশলী সৈয়দ ইসতিয়াক আহমেদ কে। গত কাল মধ্য রাতে তাকে থানায় নেয়ার পর রাতভর জিঙ্গাসাবাদ শেষে সকালে ৩ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কোটে চালান দেয়া হয়েছিল বলে  সহকর্মীদের অভিযোগ।  তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি মাঠের স্থাপনা ও গেট ভাঙ্গচুর করেছেন! এর আগের খবর, কে বা কারা মধ্য রাতে শেখ জামালের প্রতিকৃতিতে কালীমা লেপন করে, মাঠে গেটের বাইরে নানা রকম কুরুচিপূর্ন ব্যানার টাঙিয়ে রেখেছিল পরিবেশ বাদীদের নামে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুপরিবার সম্পর্কে কটুক্তি যেমন করা হয়েছে,তেমনি প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সরকারকে অবৈধ সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

 যদি ও বাপা’র তরফে  বিবৃতি  আর আনুষ্টানিক  সংবাদ সম্মেলন করে এটি মাঠ উদ্ধার আন্দোলনের বিপরতে শেখ জামাল মাঠ দলকারীদের একটি চক্রান্ত হিসেবএ বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, এই মাঠ উন্মুক্ত করতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ভুমিকা রেখেছেন। বাপার তরফে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়,  মাঠে পরিবেশবাদীদের নাম ব্যবহার ও জাতির জনকের পরিবারের নাম উল্লেখ এবং সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করে মাঠের চারপাশে বিভিন্ন আপত্তিকর শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন টানিয়ে দিয়েছে। স্থপতি ইস্তিয়াক বিষয়টি দেখতে সেখানে যান। ক্লাব কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রকৌশলী ইসতিয়াক ভাঙচুর করেছেন। বিষয়গুলো আমি সুক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা চেষ্টা করছি:
1926858_1497486530474122_3263778680650343917_n

পরিবেশবাদী কি চায়?
১. মাঠ রক্ষার আন্দোলনকারীদের দাবি মাঠ সকলের জন্য খুলে দেয়া, মাঠে কোন স্থাপনা তৈরি না করা। ২. ধানমন্ডি মাঠটি জাতির জনকের সন্তান লেঃ শেখ জামালের নামে নামকরণ করার বিষয়ে তাদের নৈতিক সমর্থন রয়েছে। শুধু কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যেন খেলার মাঠে অবকাঠামো, ভবন নির্মাণ না করতে পারে। অথবা দখল না করে সেই আহবানই বরাবর করে আসছেন।

মাঠ দখলকারীরা কি করেছে..

১. ধানমন্ডি ক্লাবটির নাম পরিবর্তন করে দখলদারীরা। আদালতের নির্দেশনা, রাষ্ট্রের আইনকে ভঙ্গ করে তারা মাঠে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। ২. ক্লাবে তারা এমন সব ব্যক্তিকে সম্পৃক্ত করে যাতে প্রভাব বিস্তার করে তারা এ মাঠে দখলদারিত্ব বজায় রাখতে পারে। ৩. পরিবেশবাদীদের নামে মামলা দিয়েছে।৪. ক্লাবের দেয়ালে প্রথমে কাগজের পোষ্টারের মাধ্যমে পরিবেশবাদীদের নামে কুৎসা রটানোর চেষ্টা করা হয়। ৫. সর্বশেষে পরিবেশবাদীদের নাম ব্যবহার ও জাতির জনকের পরিবারের নাম উল্লেখ এবং সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করে ডিজিটার ব্যানার স্থাপনা করা হয়।

সর্বশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন ধানমন্ডি মাঠে এখানে ক্লাব কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা প্রহরী হয়েছে, তাদের নিচে ৩০ জন লোক রয়েছে। তবে কিভাবে এ ধরনের ব্যানার কিভাবে লাগানো হয় বা গেইটে ঝুলে থাকে?

শিশুদের খেলাধূলা ও মাঠ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

১. প্রধানমন্ত্রীপ্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ ও স্টেডিয়াম করা হবে, শিশু কিশোর সমাবেশে, ২৬ মার্চ ২০১২, কালের কন্ঠ। ২. খেলাধুলা শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে: প্রধানমন্ত্রী, 2 March , 2014, bengalinews24.com. ৩. সরকার শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও অগ্রাধিকার দিচ্ছে :প্রধানমন্ত্রী, ০৩ মার্চ ২০১৪, ইত্তেফাক ৪. শিশুদের খেলার জন্য জায়গা রেখে ভবন গড়ুন, প্রধানমন্ত্রী,১৯ অক্টোবর ২০১০ কালেরকন্ঠ

পাদটীকা:

১. লিমিটেড কোম্পানি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। কোম্পানির ক্ষেত্রে কোন জাতীয় ব্যক্তির নাম ব্যবহার করা কোনভাবে উচিত নয়।

২. দখলদাররা নানাভাবে দখল করে, তারা এমন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে, যাতে প্রভাব বিস্তার করা যায়। ধানমন্ডি মাঠের ক্ষেত্রে এমনভাবে জাতীয় ব্যক্তিত্ব-র নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

৩. পরিবেশবাদীদের নৈতিক সমর্থন অনুসারে মাঠটি জাতির জনকের সন্তান লেঃ শেখ জামালের নামে নামকরণ করা হোক। তবে কোন ক্লাব, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী যেন অবকাঠামো নির্মাণ না করতে পারে বা সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ না করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

৪. পরিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এই প্রত্যাশা।

 

সৈয়দ মাহবুব আলম

ধানমন্ডি মাঠ উদ্ধার আন্দোলনের কর্মী

Comments