বিএনপির লংমার্চ; তিস্তায় পানি!

Print Friendly, PDF & Email

“তিস্তায় পানি প্রবাহ আমার মনে হয় ইতিহাসের সর্বনিন্ম পর্যায়ে নেমে এসেছে। এবছরের মত কম পানি এর আগে কখনো দেখিনি।এমন অবস্থা যে, যেসব ক্যানেল দিয়ে আমরা পানি পরিমাপ করি,সেখানেও পরিমাপ করার মত পানির উপস্থিতি নেই”-আতিকুর রহমান, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড।

৩ দিন আগে সবুজপাতার এক অতিথি লেখক সাংবাদিক সারোয়ার সুমনের কাছে এমন মন্তব্য করেছিলেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।

কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর থেকে হঠাৎ পানির ঢেউ খেলতে দেখা যায় তিস্তায়। ডালিয়া পয়েন্টে প্রবাহিত হতে দেখা যায় তিন হাজার কিউসেক পানি। তবে হঠাৎ করেই তিস্তায় পানি প্রবাহের কোনো কারণ জানাতে পারছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় রাজধানীর উত্তরা থেকে তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে বিএনপি। বর্তমানে লংমার্চটি গাইবান্ধায় অবস্থান করছে। স্থানীয়রা ঠাট্টার ছলে বলছেন, তবে কি আন্দোলন করলেই পানি পায় তিস্তা?

পাউবো ডালিয়া অফিস জানায়, গত রোববার পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীতে প্রবাহ ছিল গড়ে সাড়ে তিনশ’ কিউসেক। সেচ প্রকল্পের আওতায় ডালিয়া, নীলফামারী, সৈয়দপুর ও রংপুর ডিভিশনের আওতায় চলতি বোরো মৌসুমে ৬৫ হাজার হেক্টর জমি সেচ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু তিস্তায় পানি না পাওয়ায় ওই চার ডিভিশনে আবাদ হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে। পাউবো কর্মকর্তারা জানান, গত সোমবার হঠাৎ করেই তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। ডালিয়া পয়েন্টে পাওয়া যায় আটশ’ কিউসেক। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর থেকে তা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় তিন হাজার কিউসেকে।

খালিশা চাপানী এলাকার কৃষক মতিউররহমান জানান, এবারে বোরো আবাদ করে ক্ষেতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির অভাবে ফসল তামাটে বর্ণ ধারন করেছে। অনেক ক্ষেত পুড়ে গেছে। তাই  বাধ্য হয়ে তারা তিস্তার পারেই নলকুপ বসিয়ে ডিজেলে এর খরচে দিন রাত পানি দিয়ে যাচ্ছেন এতদিন ধরে।  এখন যে পানি তিস্তায় আছে তাতে বোরো আবাদ করতে কোনো সমস্যা হবে না।

পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবার রহমান একটি অনলাইন বাংলামেইলকে  জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর থেকে হঠাৎ করেই তিস্তায় পানি বেড়ে গেছে। এখন তিন হাজার কিউসেক পানি পাওয়া যাচ্ছে। তবে পানি বাড়ার কোনো কারণ জানা যায়নি। মাহবুবার রহমান আরো বলেন, বোরো মৌসুমে তিস্তায় এ রকম পানি প্রবাহ থাকলে চার ডিভিশনে অনায়াসে আবাদ করা সম্ভব হবে।

সারোয়ার সুমন, সংবাদকর্মী

Comments